বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer

1
Contents hide
3 বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর

Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer: নমস্কার বন্ধুরা, আজকের আলোচনার বিষয় ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ (প্রবন্ধ) – রাজশেখর বসু, যা মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এই পোস্টে WBBSE Class 10 Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer-এর পাশাপাশি প্রবন্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি ভালোভাবে পড়া এবং অনুশীলন করা অত্যন্ত উপকারী।

যেসব ছাত্রছাত্রী বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর, WBBSE Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer অথবা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা প্রশ্নোত্তর খুঁজছো, তারা এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়তে পারো। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান প্রবন্ধ থেকে পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যা West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Exam Preparation এবং Revision-এর সময় বিশেষভাবে কাজে আসবে।

বোর্ড ডাব্লিউ বি সি এইচ এস ই (WBBSE)
ক্লাস মাধ্যমিক দশম শ্রেণী (WB Class 10 Madhyamik)
বিষয় মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা (Madhyamik Bengali)
পাঠ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer

বহুনির্বাচনী : বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan MCQ [প্রশ্নমান – ১]

১. ‘পরিভাষা’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) বিশেষ ভাষা
(খ) বিদেশি ভাষা
(গ) সংজ্ঞাবাচক শব্দ (Technical Term)
(ঘ) কঠিন শব্দ

উত্তরঃ (গ) সংজ্ঞাবাচক শব্দ (Technical Term)

২. লেখকের আসল নাম কী?

(ক) নিখিল সরকার
(খ) রাজশেখর বসু
(গ) সমরেশ বসু
(ঘ) বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়

উত্তরঃ (খ) রাজশেখর বসু

৩. বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে কোন গুণের প্রয়োজন নেই?

(ক) স্পষ্টতা
(খ) সরলতা
(গ) ব্যঞ্জনা
(ঘ) পরিচ্ছন্নতা

উত্তরঃ (গ) ব্যঞ্জনা

৪. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবে পরিভাষা সমিতি নিযুক্ত করেছিল?

(ক) ১৯২৬ সালে
(খ) ১৯৩৬ সালে
(গ) ১৯৪৬ সালে
(ঘ) ১৯৫৬ সালে

উত্তরঃ (খ) ১৯৩৬ সালে

৫. ‘অরণ্যে রোদন’ প্রবাদটির অর্থ কী?

(ক) জোরে কান্না
(খ) বনে কান্না
(গ) বৃথা আবেদন বা নিষ্ফল খেদ
(ঘ) আনন্দের কান্না

উত্তরঃ (গ) বৃথা আবেদন বা নিষ্ফল খেদ

৬. লেখকের মতে, কোন শব্দটি বাংলা ভাষায় চালানো যেতে পারে?

(ক) Paper
(খ) Light
(গ) Oxygen
(ঘ) Water

উত্তরঃ (গ) Oxygen

৭. প্রথম শ্রেণির পাঠক কারা?

(ক) যারা বিজ্ঞান বিষয়ে অভিজ্ঞ
(খ) যারা ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে
(গ) যারা ছাত্র
(ঘ) যারা গবেষক

উত্তরঃ (খ) যারা ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে

৮. ‘The quick brown fox jumps over the lazy dog’—এই বাক্যটির বিশেষত্ব কী?

(ক) এটি একটি প্রবাদ
(খ) এতে ইংরেজি বর্ণমালার সবকটি বর্ণ আছে
(গ) এটি একটি বৈজ্ঞানিক সূত্র
(ঘ) এটি একটি কবিতার লাইন

উত্তরঃ (খ) এতে ইংরেজি বর্ণমালার সবকটি বর্ণ আছে

৯. লেখকের মতে, বাংলায় বিজ্ঞান রচনার প্রধান বাধা কী?

(ক) ভালো লেখকের অভাব
(খ) ভালো পাঠকের অভাব
(গ) বাংলা পারিভাষিক শব্দের অভাব
(ঘ) প্রকাশকের অভাব

উত্তরঃ (গ) বাংলা পারিভাষিক শব্দের অভাব

১০. ‘অভিধা’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) বাচ্যার্থ
(খ) লক্ষ্যার্থ
(গ) ব্যঙ্গার্থ
(ঘ) নাম

উত্তরঃ (ক) বাচ্যার্থ

১১. “এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে”—কোন দোষের কথা বলা হয়েছে?

(ক) অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী
(খ) অকারণ পাণ্ডিত্য দেখানো
(গ) ইংরেজি ভাষার আক্ষরিক অনুবাদ
(ঘ) পরিভাষা ব্যবহার না করা

উত্তরঃ (গ) ইংরেজি ভাষার আক্ষরিক অনুবাদ

১২. ‘পরিপাট্য’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) সরলতা
(খ) পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা
(গ) জটিলতা
(ঘ) সৌন্দর্য

উত্তরঃ (খ) পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা

১৩. বৈজ্ঞানিক রচনার ভাষা কেমন হওয়া উচিত?

(ক) অলংকারপূর্ণ
(খ) সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট
(গ) কাব্যিক
(ঘ) দুর্বোধ্য

উত্তরঃ (খ) সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট

১৪. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটির লেখকের ছদ্মনাম কী?

(ক) বনফুল
(খ) শ্রীপান্থ
(গ) পরশুরাম
(ঘ) কালকূট

উত্তরঃ (গ) পরশুরাম

১৫. “যার পেটে খেলে পিঠে সয়”—এই প্রবাদটি কী প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?

(ক) বিজ্ঞানের ভাষা
(খ) পরিভাষা
(গ) হজমশক্তি
(ঘ) সাহিত্য

উত্তরঃ (খ) পরিভাষা

১৬. কোন ধরনের রচনায় লেখকের স্বাধীনতা কম?

(ক) সাহিত্য রচনায়
(খ) কাব্য রচনায়
(গ) গল্প রচনায়
(ঘ) বৈজ্ঞানিক রচনায়

উত্তরঃ (ঘ) বৈজ্ঞানিক রচনায়

১৭. “তাঁদের চেষ্টা অধিকতর সফল হয়েছে”—কাদের চেষ্টা?

(ক) লেখকদের
(খ) বিজ্ঞানীদের
(গ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের
(ঘ) পাঠকদের

উত্তরঃ (গ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের

১৮. ‘সন্দর্ভ’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) গল্প
(খ) কবিতা
(গ) প্রবন্ধ বা রচনা
(ঘ) নাটক

উত্তরঃ (গ) প্রবন্ধ বা রচনা

১৯. পরিভাষা রচনার দায়িত্ব কার উপর দেওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন?

(ক) লেখকদের উপর
(খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর
(গ) সরকারের উপর
(ঘ) পাঠকদের উপর

উত্তরঃ (খ) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর

২০. ‘অবকাশ’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) ছুটি
(খ) সুযোগ বা অবসর
(গ) স্থান
(ঘ) আকাশ

উত্তরঃ (খ) সুযোগ বা অবসর

২১. “এই কথাটি সকল লেখকেরই মনে রাখা উচিত”—কোন কথাটি?

(ক) লেখা সহজ হওয়া উচিত
(খ) বিজ্ঞান সকলের জন্য
(গ) পরিভাষা ব্যবহার করা উচিত
(ঘ) লেখা যেন অকারণে পাণ্ডিত্যপূর্ণ না হয়

উত্তরঃ (খ) বিজ্ঞান সকলের জন্য। তবে মূল বক্তব্য হলো, লেখা যেন সহজবোধ্য হয়।

২২. ‘Sensitized paper’-এর কী অনুবাদ করা হয়েছিল?

(ক) সংবেদী কাগজ
(খ) সুগ্রাহী কাগজ
(গ) স্পর্শকাতর কাগজ
(ঘ) ভাবপ্রবণ কাগজ

উত্তরঃ (খ) সুগ্রাহী কাগজ

২৩. রাজশেখর বসু পেশায় কী ছিলেন?

(ক) চিকিৎসক
(খ) অধ্যাপক
(গ) রসায়নবিদ
(ঘ) আইনজীবী

উত্তরঃ (গ) রসায়নবিদ

২৪. “অনেক সময় দরকারি বিদেশি শব্দ…”—লেখকের মতে কী করা উচিত?

(ক) বর্জন করা উচিত
(খ) বাংলায় চালানো উচিত
(গ) অনুবাদ করা উচিত
(ঘ) পরিবর্তন করা উচিত

উত্তরঃ (খ) বাংলায় চালানো উচিত

২৫. ‘অত্যুক্তি’ দোষ কখন ঘটে?

(ক) ভুল তথ্য দিলে
(খ) উপমা বাড়াবাড়ি হলে
(গ) ভাষা কঠিন হলে
(ঘ) পরিভাষা ব্যবহার না করলে

উত্তরঃ (খ) উপমা বাড়াবাড়ি হলে

২৬. লেখকের মতে, ‘অক্সিজেন’ ও ‘হাইড্রোজেন’-এর বাংলা কী হওয়া উচিত?

(ক) অম্লজান ও জলজান
(খ) জারক ও উদজান
(গ) অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন
(ঘ) অম্ল ও জল

উত্তরঃ (গ) অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন

২৭. “আমাদের অলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন”—সেগুলি কী কী?

(ক) সাধু, চলিত, কথ্য
(খ) তৎসম, তদ্ভব, দেশি
(গ) অভিধা, লক্ষণা, ব্যঞ্জনা
(ঘ) বিশেষ্য, বিশেষণ, ক্রিয়া

উত্তরঃ (গ) অভিধা, লক্ষণা, ব্যঞ্জনা

২৮. লেখকের মতে, অল্পবয়স্ক পাঠকদের জন্য কী প্রয়োজন?

(ক) কঠিন পরিভাষা
(খ) সহজবোধ্য ব্যাখ্যা ও উদাহরণ
(গ) ইংরেজি শব্দের ব্যবহার
(ঘ) ছোট প্রবন্ধ

উত্তরঃ (খ) সহজবোধ্য ব্যাখ্যা ও উদাহরণ

২৯. ‘প্রয়াস’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) ইচ্ছা
(খ) চেষ্টা
(গ) আশা
(ঘ) আনন্দ

উত্তরঃ (খ) চেষ্টা

৩০. উপমা প্রয়োগে লেখকের মতে কাদের লেখা শ্রেষ্ঠ?

(ক) সাহিত্যিকদের
(খ) বিজ্ঞানীদের
(গ) সাংবাদিকদের
(ঘ) লেখকদের

উত্তরঃ (খ) বিজ্ঞানীদের (শ্রেষ্ঠ লেখকদের)

৩১. “এই ধারণা একেবারে ভুল”—কোন ধারণা?

(ক) বিজ্ঞান লেখা কঠিন
(খ) পরিভাষা ছাড়া বিজ্ঞান লেখা যায়
(গ) পরিভাষা রচনা একজনের কাজ
(ঘ) বিজ্ঞান ও সাহিত্য আলাদা

উত্তরঃ (গ) পরিভাষা রচনা একজনের কাজ

৩২. ‘ন্যাসান্যাল’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) স্থানীয়
(খ) আন্তর্জাতিক
(গ) জাতীয়
(ঘ) আঞ্চলিক

উত্তরঃ (গ) জাতীয়

৩৩. দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠক কারা?

(ক) যারা ইংরেজি জানে না
(খ) যারা বিজ্ঞান বিষয়ে অল্প জানে
(গ) যারা ইংরেজি ও বিজ্ঞান উভয়ই জানে
(ঘ) যারা শুধু বাংলা জানে

উত্তরঃ (গ) যারা ইংরেজি ও বিজ্ঞান উভয়ই জানে

৩৪. “তাঁদের লেখা জনপ্রিয় হবার একটা কারণ”—কারণটি কী?

(ক) সহজ ভাষা
(খ) বিষয়বস্তুর গভীরতা
(গ) ভাষার আতিশয্য
(ঘ) রচনার পরিপাট্য

উত্তরঃ (ঘ) রচনার পরিপাট্য

৩৫. পরিভাষা রচনায় কাদের অংশগ্রহণ করা উচিত নয়?

(ক) বিজ্ঞানী
(খ) ভাষাতত্ত্ববিদ
(গ) লেখক
(ঘ) যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ নন

উত্তরঃ (ঘ) যারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ নন

৩৬. ‘হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড’—এটি কার উক্তি?

(ক) রবীন্দ্রনাথের
(খ) কালিদাসের
(গ) ভবভূতির
(ঘ) লেখকের নিজের

উত্তরঃ (খ) কালিদাসের

৩৭. লেখকের মতে, ‘বৈজ্ঞানিক’ শব্দের অর্থ কী?

(ক) বিজ্ঞানসম্মত
(খ) যিনি বিজ্ঞান জানেন
(গ) বিজ্ঞান সম্পর্কিত
(ঘ) বিজ্ঞান ও কলা সম্পর্কিত

উত্তরঃ (গ) বিজ্ঞান সম্পর্কিত

৩৮. ‘অলংকার’ প্রয়োগ করা যেতে পারে কোথায়?

(ক) বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে
(খ) সাধারণ আলোচনায়
(গ) সাহিত্যিক রচনায়
(ঘ) সব ক্ষেত্রেই

উত্তরঃ (গ) সাহিত্যিক রচনায়

৩৯. ‘প্রবন্ধটির লেখকের মতে, বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভের পাঠক কয় প্রকার?

(ক) এক প্রকার
(খ) দুই প্রকার
(গ) তিন প্রকার
(ঘ) চার প্রকার

উত্তরঃ (খ) দুই প্রকার

৪০. ‘The temper of the pot is in the baking’—এই বাক্যের ভাবার্থ কী?

(ক) পাত্রের মেজাজ রান্নার উপর নির্ভর করে
(খ) কর্মের দ্বারাই বস্তুর পরিচয়
(গ) রান্নার সময় পাত্র গরম হয়
(ঘ) ভালো পাত্রে ভালো রান্না হয়

উত্তরঃ (খ) কর্মের দ্বারাই বস্তুর পরিচয়

৪১. “এই রকম বর্ণনা…”—কোন ধরনের বর্ণনা?

(ক) সরল
(খ) কাল্পনিক
(গ) পরিপাটি
(ঘ) আড়ম্বরপূর্ণ

উত্তরঃ (ঘ) আড়ম্বরপূর্ণ (যাতে অল্পবিদ্যা ঢাকা পড়ে)

৪২. কোন দেশের তুলনায় আমাদের দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার কম?

(ক) চীন
(খ) জাপান
(গ) আমেরিকা
(ঘ) ইয়োরোপীয় দেশ

উত্তরঃ (ঘ) ইয়োরোপীয় দেশ

৪৩. ‘আক্ষরিক’ অনুবাদ করলে কী দোষ ঘটে?

(ক) রচনা সহজ হয়
(খ) রচনা আকর্ষণীয় হয়
(গ) রচনা অবোধ্য ও বিকৃত হয়
(ঘ) রচনা ছোট হয়

উত্তরঃ (গ) রচনা অবোধ্য ও বিকৃত হয়

৪৪. বৈজ্ঞানিক লেখকের কী থাকা আবশ্যক?

(ক) সাহিত্যজ্ঞান
(খ) ইংরেজি জ্ঞান
(গ) বিজ্ঞানজ্ঞান ও ভাষার দক্ষতা
(ঘ) জনপ্রিয়তা

উত্তরঃ (গ) বিজ্ঞানজ্ঞান ও ভাষার দক্ষতা

৪৫. লেখকের মতে, বিজ্ঞান আলোচনার জন্য কী বর্জন করা উচিত?

(ক) ইংরেজি শব্দ
(খ) অলংকার
(গ) ব্যঞ্জনা ও অস্পষ্টতা
(ঘ) উদাহরণ

উত্তরঃ (গ) ব্যঞ্জনা ও অস্পষ্টতা

৪৬. পরিভাষা সমিতির কাজ কী?

(ক) বই লেখা
(খ) বিজ্ঞানীদের সম্মান দেওয়া
(গ) নতুন শব্দ তৈরি করা
(ঘ) বৈজ্ঞানিক শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ তৈরি করা

উত্তরঃ (ঘ) বৈজ্ঞানিক শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ তৈরি করা

৪৭. “বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় এখনো নানা রকম বাধা আছে”—প্রধান বাধাটি কী?

(ক) পাঠকের অভাব
(খ) লেখকের অভাব
(গ) উপযুক্ত পরিভাষার অভাব
(ঘ) প্রকাশকের অভাব

উত্তরঃ (গ) উপযুক্ত পরিভাষার অভাব

৪৮. ‘পরিভাষা’ রচনার প্রচেষ্টা বাংলায় কত বছর ধরে চলছে?

(ক) ৫০ বছর
(খ) ৭৫ বছর
(গ) ১০০ বছর
(ঘ) অনেক বছর (৫০ বছরের বেশি)

উত্তরঃ (ঘ) অনেক বছর (৫০ বছরের বেশি)

৪৯. লেখক কাকে ‘পণ্ডিত’ বলেছেন?

(ক) যারা বিজ্ঞান বোঝেন
(খ) যারা সাহিত্য বোঝেন
(গ) যারা পরিভাষা তৈরি করেন
(ঘ) যারা অকারণে কঠিন শব্দ ব্যবহার করেন

উত্তরঃ (ঘ) যারা অকারণে কঠিন শব্দ ব্যবহার করেন

৫০. প্রবন্ধের শেষে লেখক কীসের উপর জোর দিয়েছেন?

(ক) পরিভাষা তৈরি
(খ) ভালো লেখক তৈরি
(গ) সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় বিজ্ঞান লেখা
(ঘ) ইংরেজি বর্জন

উত্তরঃ (গ) সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় বিজ্ঞান লেখা

[Madhyamik Bengali Suggestion Click Here]

অতিসংক্ষিপ্ত : বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা | WBBSE Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan SAQ [প্রশ্নমান – ১]

১. ‘পরিভাষা’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

উত্তরঃ ‘পরিভাষা’ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Technical Term।

২. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কবে পরিভাষা সমিতি নিয়োগ করে?

উত্তরঃ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে পরিভাষা সমিতি নিয়োগ করে।

৩. ‘লক্ষণা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘লক্ষণা’ শব্দের অর্থ হলো লক্ষ্যার্থ বা শব্দের গৌণ অর্থ।

৪. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটির লেখকের ছদ্মনাম কী?

উত্তরঃ ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটির লেখকের ছদ্মনাম পরশুরাম।

৫. বৈজ্ঞানিক রচনার ভাষা কেমন হওয়া উচিত?

উত্তরঃ বৈজ্ঞানিক রচনার ভাষা অত্যন্ত সরল, স্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত হওয়া উচিত।

৬. রাজশেখর বসু পেশায় কী ছিলেন?

উত্তরঃ রাজশেখর বসু পেশায় একজন রসায়নবিদ ছিলেন।

৭. ‘Sensitized paper’-এর কী বাংলা করা হয়েছিল?

উত্তরঃ ‘Sensitized paper’-এর বাংলা করা হয়েছিল ‘সুগ্রাহী কাগজ’।

৮. ‘পরিপাট্য’ শব্দের একটি সমার্থক শব্দ লেখো।

উত্তরঃ ‘পরিপাট্য’ শব্দের একটি সমার্থক শব্দ হলো সুবিন্যস্ততা।

৯. লেখকের মতে, বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভের পাঠক কয় শ্রেণির?

উত্তরঃ লেখকের মতে, বৈজ্ঞানিক সন্দর্ভের পাঠক দুই শ্রেণির।

১০. ‘অত্যুক্তি’ দোষ কখন ঘটে?

উত্তরঃ উপমা বা অলংকারের প্রয়োগ বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে ‘অত্যুক্তি’ দোষ ঘটে।

১১. ‘ন্যাসান্যাল’ (National) শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘ন্যাসান্যাল’ (National) শব্দের অর্থ হলো জাতীয়।

১২. পরিভাষা রচনায় কাদের অংশগ্রহণ করা উচিত?

উত্তরঃ পরিভাষা রচনায় বিজ্ঞানী, ভাষাতত্ত্ববিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ লেখকদের অংশগ্রহণ করা উচিত।

১৩. ‘সন্দর্ভ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘সন্দর্ভ’ শব্দের অর্থ হলো প্রবন্ধ বা রচনা।

১৪. ‘অভিধা’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘অভিধা’ শব্দের অর্থ হলো বাচ্যার্থ বা শব্দের মূল ও সরল অর্থ।

১৫. কোন ধরনের পাঠক ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে?

উত্তরঃ প্রথম শ্রেণির পাঠক ইংরেজি জানে না বা অল্প জানে।

১৬. ‘পরিভাষা’ রচনার প্রচেষ্টা বাংলায় কত বছর ধরে চলছে?

উত্তরঃ লেখকের সময়কালে বাংলায় পরিভাষা রচনার প্রচেষ্টা ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে চলছিল।

১৭. ‘পরশুরাম’ কার ছদ্মনাম?

উত্তরঃ ‘পরশুরাম’ রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম।

১৮. ‘ব্যঞ্জনা’ কী?

উত্তরঃ ব্যঞ্জনা হলো শব্দের সেই শক্তি, যার মাধ্যমে বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থের অতিরিক্ত কোনো বিশেষ ভাব বা অর্থ প্রকাশিত হয়।

১৯. ‘The temper of the pot is in the baking’—এই প্রবাদটির একটি উপযুক্ত বাংলা অনুবাদ কী হতে পারে?

উত্তরঃ এর উপযুক্ত বাংলা অনুবাদ হতে পারে—আগুনে পোড়ানোর ফলেই পাত্রের মেজাজ বা গুণ বোঝা যায়।

২০. ‘অরণ্যে রোদন’ প্রবাদটি কী প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়েছে?

উত্তরঃ অল্পবয়স্ক পাঠকদের কাছে দুর্বোধ্য ভাষায় বিজ্ঞান আলোচনা করা নিষ্ফল প্রচেষ্টার সমান—এই প্রসঙ্গে প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়েছে।

২১. লেখকের মতে, বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবের একটি কারণ কী?

উত্তরঃ লেখকের মতে, বাংলায় বিজ্ঞান শিক্ষার অভাবের একটি কারণ হলো মাতৃভাষায় উপযুক্ত বিজ্ঞানবিষয়ক বইয়ের অভাব।

২২. ‘বৈজ্ঞানিক’ শব্দটি প্রবন্ধে কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?

উত্তরঃ ‘বৈজ্ঞানিক’ শব্দটি প্রবন্ধে ‘বিজ্ঞান সম্পর্কিত’ বা Scientific অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

২৩. ‘এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না’—কোন দোষের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ ইংরেজি ভাষার আক্ষরিক অনুবাদের ফলে রচনা অবোধ্য ও বিকৃত হওয়ার দোষের কথা বলা হয়েছে।

২৪. পরিভাষা রচনায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ছিল?

উত্তরঃ পরিভাষা রচনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ছিল।

২৫. বিজ্ঞান লেখকের কী গুণ থাকা আবশ্যক?

উত্তরঃ বিজ্ঞান লেখকের বিজ্ঞান বিষয়ে জ্ঞান এবং বাংলা ভাষায় রচনা করার দক্ষতা থাকা আবশ্যক।

২৬. শব্দের ত্রিবিধ গুণ কী কী?

উত্তরঃ শব্দের ত্রিবিধ গুণ হলো—অভিধা, লক্ষণা ও ব্যঞ্জনা।

২৭. প্রথম শ্রেণির পাঠকদের জন্য লেখা কেমন হওয়া উচিত?

উত্তরঃ প্রথম শ্রেণির পাঠকদের জন্য লেখা সহজবোধ্য হওয়া উচিত এবং প্রয়োজনে ইংরেজি শব্দও ব্যবহার করা যেতে পারে।

২৮. ‘সন্দিগ্ধ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘সন্দিগ্ধ’ শব্দের অর্থ হলো সন্দেহযুক্ত।

২৯. ‘পরিভাষা’ রচনা করা একজনের কাজ নয় কেন?

উত্তরঃ বিভিন্ন লেখক ভিন্ন ভিন্ন শব্দ প্রয়োগ করলে পাঠকদের অসুবিধা হয়। তাই পরিভাষা রচনার জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

৩০. লেখক কাদের লেখা থেকে উদাহরণ দিয়েছেন?

উত্তরঃ লেখক কালিদাস এবং ব্রহ্মমোহন মল্লিকের লেখা থেকে উদাহরণ দিয়েছেন।

৩১. ‘এইরূপ বিধানের’ বিরুদ্ধে কারা আপত্তি করেন?

উত্তরঃ ‘এইরূপ বিধানের’ বিরুদ্ধে কিছু খুঁতখুঁতে লোক বা পণ্ডিত আপত্তি করেন।

৩২. ‘পরিভাষা’ প্রচলিত না হলে কী অসুবিধা হয়?

উত্তরঃ পরিভাষা প্রচলিত না হলে একই বিষয়ের জন্য বিভিন্ন প্রতিশব্দ ব্যবহৃত হয়, যা পাঠকদের বিভ্রান্ত করে।

৩৩. ‘অত্যুক্তি’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ কোনো বিষয়কে বাস্তবের তুলনায় অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ করাকে অত্যুক্তি বলে।

৩৪. ‘যাদের জন্য বিজ্ঞানবিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয়’—তারা কয় শ্রেণির?

উত্তরঃ তারা দুই শ্রেণির।

৩৫. ‘অনেক সময় অনর্থক পাণ্ডিত্য দেখানো হয় কেন?

উত্তরঃ অকারণে কঠিন শব্দ ও দুর্বোধ্য পরিভাষা ব্যবহার করে নিজের পাণ্ডিত্য প্রকাশের চেষ্টা করলে অনর্থক পাণ্ডিত্য দেখানো হয়।

৩৬. উপমা প্রয়োগে কাদের লেখা শ্রেষ্ঠ?

উত্তরঃ উপমা প্রয়োগে শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক লেখকদের লেখাই শ্রেষ্ঠ।

৩৭. হিমালয়কে ‘পৃথিবীর মানদণ্ড’ কে বলেছেন?

উত্তরঃ মহাকবি কালিদাস হিমালয়কে ‘পৃথিবীর মানদণ্ড’ বলেছেন।

৩৮. কোন ইংরেজি শব্দগুলি বাংলায় চালানো যেতে পারে বলে লেখক মনে করেন?

উত্তরঃ অক্সিজেন, ভিটামিনের মতো সর্বজনগ্রাহ্য ও সহজবোধ্য ইংরেজি শব্দ বাংলায় চালানো যেতে পারে বলে লেখক মনে করেন।

৩৯. ‘এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না’—এখানে কোন ধরনের অনুবাদের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ এখানে ইংরেজি ভাষার আক্ষরিক অনুবাদের কথা বলা হয়েছে।

৪০. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধের মূল বক্তব্য কী?

উত্তরঃ বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান রচনার বাধাগুলি দূর করে সহজ, স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন ভাষায় বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য।

[Madhyamik Suggestion Click Here]

রচনাধর্মী : বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan LAQ [প্রশ্নমান – ৫]

১. “আমাদের অলংকারিকগণ শব্দের ত্রিবিধ কথা বলেছেন”—শব্দের ত্রিবিধ পরিচয় দিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে কোন ধরনের শব্দের প্রয়োগ আবশ্যক এবং কেন, তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে ভারতীয় অলংকারশাস্ত্র অনুসারে শব্দের তিনটি অর্থশক্তির উল্লেখ করেছেন। এই তিনটি অর্থশক্তি বৈজ্ঞানিক রচনার ভাষারীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।

শব্দের ত্রিবিধ পরিচয়:

১. অভিধা: অভিধা হলো শব্দের বাচ্যার্থ বা মূল অর্থ। যেমন—‘মাথা’ বলতে শরীরের একটি অঙ্গকে বোঝায়।

২. লক্ষণা: লক্ষণা হলো শব্দের লক্ষ্যার্থ বা গৌণ অর্থ। যেমন—‘দেশের মাথা’ বলতে দেশের প্রধান ব্যক্তিকে বোঝায়।

৩. ব্যঞ্জনা: ব্যঞ্জনা হলো শব্দের সেই অর্থশক্তি, যার মাধ্যমে বাচ্যার্থ ও লক্ষ্যার্থের অতিরিক্ত কোনো বিশেষ ভাব বা ইঙ্গিত প্রকাশিত হয়।

বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে শব্দের প্রয়োগ: লেখকের মতে, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধে প্রধানত অভিধাশ্রয়ী শব্দের প্রয়োগ আবশ্যক। কারণ—

১. স্পষ্টতা: বিজ্ঞানের মূল ধর্ম হলো স্পষ্টতা ও নির্ভুলতা। অভিধাশ্রয়ী শব্দ ব্যবহার করলে বক্তব্যের অর্থ সহজে বোঝা যায়।

২. নির্দিষ্টতা: লক্ষণা ও ব্যঞ্জনার প্রয়োগ বক্তব্যকে কখনো কখনো অস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থক করে তুলতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞানের আলোচনায় প্রতিটি শব্দের নির্দিষ্ট অর্থ থাকা প্রয়োজন।

উপসংহার: তাই সাহিত্যিক রচনায় লক্ষণা ও ব্যঞ্জনার স্থান থাকলেও বৈজ্ঞানিক রচনায় অভিধাশ্রয়ী, সহজ, সরল ও দ্ব্যর্থহীন ভাষার ব্যবহারই কাম্য।

২. “যাদের জন্য বিজ্ঞান বিষয়ক বাংলা গ্রন্থ বা প্রবন্ধ লেখা হয়, তাদের মোটামুটি দুই শ্রেণীতে ভাগ করা যেতে পারে।” — এই দুটি শ্রেণির পাঠকের পরিচয় দাও। তাদের জন্য বিজ্ঞান রচনার ভাষা কেমন হওয়া উচিত বলে লেখক মনে করেন?

উত্তরঃ ভূমিকা: রাজশেখর বসু বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার পাঠকদের মোটামুটি দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী রচনার ভাষারীতি নির্ধারণের কথাও বলেছেন।

পাঠকদের পরিচয়:

১. প্রথম শ্রেণি: এই শ্রেণির পাঠকেরা ইংরেজি জানেন না অথবা খুব অল্প জানেন। তাঁরা মাতৃভাষার মাধ্যমেই বিজ্ঞানের জ্ঞান লাভ করতে চান। সাধারণ মানুষ ও অল্পবয়স্ক ছাত্রছাত্রীরা এই শ্রেণির অন্তর্গত।

২. দ্বিতীয় শ্রেণি: এই শ্রেণির পাঠকেরা ইংরেজি জানেন এবং বিজ্ঞান বিষয়েও তাঁদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাঁরা মূলত আনন্দ, কৌতূহল বা আগ্রহের বশে মাতৃভাষায় বিজ্ঞান পড়তে চান।

ভাষারীতি কেমন হওয়া উচিত:

প্রথম শ্রেণির জন্য: তাঁদের উপযোগী বিজ্ঞান রচনার ভাষা অত্যন্ত সহজ, সরল ও স্পষ্ট হওয়া উচিত। কঠিন পারিভাষিক শব্দের পরিবর্তে প্রয়োজনে বহুল প্রচলিত ইংরেজি শব্দ, যেমন—অক্সিজেন ও ভিটামিন ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি সহজবোধ্য করার জন্য উপযুক্ত উদাহরণ ও উপমা ব্যবহার করা দরকার।

দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য: তাঁদের ক্ষেত্রে নির্ভুল পারিভাষিক শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে, কারণ তাঁরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে তাঁদের জন্যও ভাষার সরলতা ও স্পষ্টতা বজায় রাখা প্রয়োজন। অকারণ পাণ্ডিত্য দেখানো বা ভাষাকে দুর্বোধ্য করা উচিত নয়।

উপসংহার: লেখকের মতে, পাঠকের শ্রেণি অনুযায়ী ভাষারীতি নির্ধারণ করলেও বিজ্ঞান রচনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সহজবোধ্যতা ও নির্ভুলতা।

৩. পরিভাষা রচনা প্রসঙ্গে লেখকের মতামত আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে রাজশেখর বসু পরিভাষা বা Technical Term রচনা প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত মতামত প্রকাশ করেছেন।

লেখকের মতামত:

১. সম্মিলিত প্রচেষ্টা: লেখকের মতে, পরিভাষা রচনা কোনো একজন লেখকের কাজ নয়। এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হওয়া উচিত। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোনো প্রতিষ্ঠানের উপর এই দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। সেখানে বিজ্ঞানী, ভাষাতত্ত্ববিদ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিজ্ঞ লেখকেরা একত্রে পরিভাষা তৈরি করবেন।

২. শব্দের নির্বাচন: পরিভাষা তৈরির সময় শব্দের উৎস নিয়ে অযথা বিতর্ক করা উচিত নয়। শব্দটি সংস্কৃত, ইংরেজি বা অন্য কোনো ভাষা থেকে নেওয়া যেতে পারে। তবে শব্দটি যেন সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য ও অর্থপ্রকাশে সক্ষম হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

৩. ইংরেজি শব্দের গ্রহণ: অক্সিজেন ও ভিটামিনের মতো যেসব ইংরেজি শব্দ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত, সেগুলির নতুন বাংলা প্রতিশব্দ তৈরির প্রয়োজন নেই। সেগুলি সরাসরি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৪. স্থিতি ও প্রচার: একবার কোনো পরিভাষা গৃহীত হলে সমস্ত লেখকের উচিত সেই নির্দিষ্ট শব্দটিই ব্যবহার করা। এতে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে না।

উপসংহার: এভাবেই লেখক পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে গোঁড়ামি ত্যাগ করে সম্মিলিত, উদার ও বাস্তবসম্মত প্রচেষ্টার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

৪. “এই দোষ থেকে মুক্ত না হলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে না।” — কোন দোষের কথা বলা হয়েছে? এই দোষ থেকে মুক্তির জন্য লেখক কী কী পরামর্শ দিয়েছেন?

উত্তরঃদোষের পরিচয়: এখানে লেখক ইংরেজি ভাষার আক্ষরিক অনুবাদের দোষের কথা বলেছেন। অনেক লেখক ইংরেজি বাক্যরীতির হুবহু অনুকরণ করে বাংলা প্রবন্ধ লেখেন। এর ফলে বাংলা ভাষার স্বাভাবিক প্রকাশভঙ্গি নষ্ট হয় এবং রচনা কৃত্রিম, অবোধ্য ও শ্রুতিকটু হয়ে ওঠে। লেখকের মতে, এই দোষ বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্যের উন্নতির পথে একটি বড় বাধা।

মুক্তির পরামর্শ: এই দোষ থেকে মুক্তির জন্য লেখক কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—

১. মূল ভাব গ্রহণ: ইংরেজি থেকে শুধু মূল ভাবটি গ্রহণ করতে হবে। তারপর তা বাংলা ভাষার নিজস্ব প্রকৃতি ও প্রকাশভঙ্গি অনুযায়ী সহজভাবে লিখতে হবে।

২. আক্ষরিক অনুবাদ বর্জন: ইংরেজি বাক্যরীতি বা Passive Voice-এর হুবহু অনুবাদ করা উচিত নয়।

৩. ভাষার স্বাভাবিকতা রক্ষা: লেখার ভাষা যেন সাবলীল ও স্বাভাবিক হয়। পড়ে যেন মনে না হয়, এটি কোনো বিদেশি ভাষার অনুবাদ।

৪. অভ্যাস: বাংলা ভাষায় স্বাভাবিক ও সুন্দরভাবে লেখার দক্ষতা অর্জনের জন্য লেখকদের ক্রমাগত অভ্যাস করতে হবে।

উপসংহার: লেখকের মতে, এই পরামর্শগুলি মেনে চললে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য আক্ষরিক অনুবাদের দোষ থেকে মুক্ত হয়ে আরও সমৃদ্ধ হবে।

৫. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে লেখক বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে যে সমস্ত বাধার কথা বলেছেন, তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: রাজশেখর বসু তাঁর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বাধার কথা উল্লেখ করেছেন।

বাধাগুলি নিম্নরূপ:

১. পারিভাষিক শব্দের অভাব: লেখকের মতে, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার প্রধান বাধা হলো উপযুক্ত পারিভাষিক বা Technical Term-এর অভাব। বিভিন্ন লেখক একই বিষয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রতিশব্দ ব্যবহার করায় পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

২. উপযুক্ত লেখকের অভাব: বাংলায় এমন লেখকের অভাব রয়েছে, যাঁরা বিজ্ঞান বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখেন এবং একই সঙ্গে সহজ ও স্পষ্ট ভাষায় তা প্রকাশ করতে পারেন।

৩. ভাষারীতিগত সমস্যা: অনেক লেখক অকারণ পাণ্ডিত্য দেখানোর জন্য ভাষাকে কঠিন ও দুর্বোধ্য করে তোলেন। আবার অনেকে ইংরেজি ভাষার আক্ষরিক অনুবাদ করতে গিয়ে বাংলা ভাষার স্বাভাবিক প্রকাশভঙ্গি নষ্ট করে ফেলেন।

৪. পাঠকের অভাব: আমাদের দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার বিস্তার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ পড়ার মতো পাঠকের সংখ্যাও কম। এর ফলে এই ধরনের বই প্রকাশের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দেয়।

উপসংহার: লেখকের মতে, এই সমস্ত বাধা দূর করে সহজ, স্পষ্ট ও পরিচ্ছন্ন ভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করা গেলে বাংলা বৈজ্ঞানিক সাহিত্য সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।

৬. “তাঁদের লেখা জনপ্রিয় হবার একটা কারণ, রচনার পরিপাট্য।” — ‘তাঁদের’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? রচনার ‘পরিপাট্য’ বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন? জনপ্রিয়তার অন্য কারণগুলি কী?

উত্তরঃ ‘তাঁদের’ পরিচয়: এখানে ‘তাঁদের’ বলতে লেখক পাশ্চাত্য দেশের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক লেখকদের, যেমন—হাক্সলি ও এডিংটন প্রমুখকে বুঝিয়েছেন।

রচনার ‘পরিপাট্য’: ‘পরিপাট্য’ বলতে লেখক বুঝিয়েছেন রচনার সুশৃঙ্খল বিন্যাস ও পরিচ্ছন্ন প্রকাশভঙ্গি। এর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো—

১. বিষয়বস্তুকে যুক্তিপূর্ণভাবে সাজানো।

২. অপ্রয়োজনীয় বাহুল্য বর্জন করা।

৩. ভাষাকে সহজ ও স্পষ্ট রাখা।

৪. বিষয়বস্তু অনুযায়ী অনুচ্ছেদে রচনা সাজানো।

এই সুশৃঙ্খল বিন্যাসের জন্য তাঁদের লেখা পড়তে ভালো লাগে এবং বুঝতেও সুবিধা হয়।

জনপ্রিয়তার অন্য কারণ:

১. ভাষার সরলতা: তাঁরা কঠিন বৈজ্ঞানিক বিষয়কেও সহজ ভাষায় প্রকাশ করতে পারতেন।

২. উপযুক্ত উপমা: জটিল বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বোঝানোর জন্য তাঁরা দৈনন্দিন জীবন থেকে উপযুক্ত উপমা ব্যবহার করতেন।

৩. লেখকের গভীর জ্ঞান: যে বিষয়ে তাঁরা লিখতেন, সেই বিষয়ে তাঁদের গভীর জ্ঞান ছিল। ফলে তাঁদের লেখা হয়ে উঠত তথ্যসমৃদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য।

উপসংহার: রচনার পরিপাট্য, ভাষার সরলতা, উপযুক্ত উপমা ও বিষয়জ্ঞান—এই সমস্ত গুণের জন্যই তাঁদের লেখা জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

৭. উপমা প্রয়োগ প্রসঙ্গে লেখকের মতামত কী? একটি উপযুক্ত ও একটি অনুপযুক্ত উপমার উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ ভূমিকা: ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে লেখক বৈজ্ঞানিক রচনায় উপমা বা অলংকারের প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

লেখকের মতামত: লেখকের মতে, বৈজ্ঞানিক রচনায় অলংকার বা উপমা প্রয়োগের খুব বেশি সুযোগ নেই। তবে বিষয়টিকে সহজবোধ্য করার জন্য মাঝে মাঝে উপমা ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু সেই উপমা যেন—

১. বিষয়বস্তুর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

২. বাড়াবাড়ি বা অত্যুক্তি দোষে দুষ্ট না হয়।

৩. বক্তব্যকে অস্পষ্ট না করে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

সাহিত্যের মতো বিজ্ঞানে কল্পনার স্বাধীনতা নেই। তাই বৈজ্ঞানিক রচনায় উপমা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

উপযুক্ত উপমার উদাহরণ: মহাকবি কালিদাসের উক্তি—“হিমালয় যেন পৃথিবীর মানদণ্ড।” এখানে হিমালয়ের বিশালতা ও মহত্ত্বকে পৃথিবীর মাপকাঠির সঙ্গে তুলনা করে সহজ ও সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

অনুপযুক্ত উপমার উদাহরণ: অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের গুণাবলি বোঝাতে তাদের জলের সঙ্গে তুলনা করা একটি অনুপযুক্ত উপমার উদাহরণ হতে পারে। কারণ অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের ধর্ম জলের ধর্মের সঙ্গে এক নয়। এমন তুলনা বৈজ্ঞানিক বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর করে তুলতে পারে।

উপসংহার: তাই লেখকের মতে, বৈজ্ঞানিক রচনায় উপমা ব্যবহার করা গেলেও তা যথাযথ, যুক্তিসংগত ও বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া আবশ্যক।

৮. “এই ধারণা একেবারে ভুল।” — কোন ধারণা এবং কেন তা ভুল? পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মনে রাখা উচিত?

উত্তরঃ ভুল ধারণা: এখানে যে ধারণাটিকে ভুল বলা হয়েছে, তা হলো—পরিভাষা রচনা করা কোনো একজন লেখকের কাজ।

ভুল হওয়ার কারণ:

১. বিভ্রান্তি সৃষ্টি: প্রত্যেক লেখক নিজের ইচ্ছামতো পরিভাষা তৈরি করলে একই ইংরেজি শব্দের বিভিন্ন বাংলা প্রতিশব্দ তৈরি হবে। এর ফলে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হবে এবং জ্ঞানচর্চা ব্যাহত হবে।

২. সর্বজনগ্রাহ্যতার অভাব: একজন লেখকের তৈরি করা শব্দ অন্য লেখকের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট পরিভাষা সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে উঠবে না।

পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় বিষয়:

১. পরিভাষা রচনার দায়িত্ব কোনো বিশেষজ্ঞ সমিতি বা প্রতিষ্ঠানের উপর দেওয়া উচিত।

২. পরিভাষাটি যেন সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য হয়।

৩. শব্দটি যেন বিষয়ের মূল অর্থ সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে।

৪. বহুল প্রচলিত ও সর্বজনগ্রাহ্য বিদেশি শব্দের অপ্রয়োজনীয় বাংলা প্রতিশব্দ তৈরি করা উচিত নয়।

৫. একবার কোনো পরিভাষা গৃহীত হলে সকল লেখকের উচিত সেই শব্দটিই ব্যবহার করা।

উপসংহার: সুতরাং পরিভাষা রচনার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন।

৯. ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটিকে একটি সার্থক প্রবন্ধ বলা যায় কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তরঃ ভূমিকা: হ্যাঁ, রাজশেখর বসুর ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধটিকে একটি সার্থক প্রবন্ধ বলা যায়। একটি সার্থক প্রবন্ধের বিভিন্ন গুণ এর মধ্যে উপস্থিত।

যুক্তিসমূহ:

১. সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু: প্রবন্ধটির মূল বিষয় হলো বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার সমস্যা ও তার সমাধান। লেখক এই বিষয় থেকেই আলোচনা শুরু করে যুক্তিপূর্ণভাবে শেষ করেছেন।

২. যুক্তিপূর্ণ আলোচনা: লেখক তাঁর বক্তব্য প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুক্তি ও উপযুক্ত উদাহরণ ব্যবহার করেছেন। পরিভাষা, ভাষারীতি এবং পাঠকের শ্রেণিবিভাগ—প্রতিটি বিষয়েই তাঁর আলোচনা সুসংহত।

৩. তথ্য ও গভীরতা: প্রবন্ধে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিভাষা সমিতি, বিভিন্ন লেখকের উদাহরণ এবং অলংকারশাস্ত্রের প্রসঙ্গ এনে আলোচনার গভীরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

৪. স্পষ্ট ও সাবলীল ভাষা: প্রবন্ধটির ভাষা সহজ, স্পষ্ট ও সাবলীল। লেখক নিজে যে ভাষারীতির কথা বলেছেন, তাঁর নিজের রচনাতেও তার প্রতিফলন দেখা যায়।

৫. সুচিন্তিত সমাধান: প্রবন্ধটি শুধু সমস্যার কথা বলেই থেমে থাকেনি, বরং বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানচর্চার উন্নতির জন্য বাস্তবসম্মত পথও দেখিয়েছে।

উপসংহার: বিষয়বস্তুর সুসংগঠন, যুক্তিপূর্ণ আলোচনা, সহজ ভাষা এবং গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ একটি সার্থক প্রবন্ধ।

১০. রাজশেখর বসুর মতে, বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার ভাষারীতি কেমন হওয়া উচিত? তিনি নিজে কি সেই রীতি অনুসরণ করেছেন?

উত্তরঃ ভূমিকা: রাজশেখর বসু ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধে বিজ্ঞানবিষয়ক রচনার ভাষারীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং একটি আদর্শ ভাষারীতির নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রস্তাবিত ভাষারীতি:

১. সরল ও স্পষ্ট: ভাষা হবে সহজবোধ্য এবং বক্তব্য হবে দ্ব্যর্থহীন। অকারণ পাণ্ডিত্য ও কঠিন শব্দ পরিহার করতে হবে।

২. পরিচ্ছন্ন ও সংক্ষিপ্ত: রচনা হবে সুশৃঙ্খল, সংক্ষিপ্ত ও বাহুল্যবর্জিত।

৩. আক্ষরিক অনুবাদমুক্ত: ইংরেজি বাক্যরীতির হুবহু অনুকরণ না করে বাংলা ভাষার নিজস্ব প্রকাশভঙ্গি অনুসরণ করতে হবে।

৪. অভিধাশ্রয়ী: ভাষায় শব্দের মূল অর্থ বা বাচ্যার্থের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। লক্ষণা ও ব্যঞ্জনার অপ্রয়োজনীয় প্রয়োগ বর্জন করতে হবে।

লেখকের নিজের অনুসরণ:

হ্যাঁ, লেখক নিজে তাঁর এই প্রবন্ধে প্রস্তাবিত ভাষারীতি অনুসরণ করেছেন।

১. তাঁর প্রবন্ধের ভাষা অত্যন্ত সহজ, স্পষ্ট ও প্রাঞ্জল।

২. তিনি যুক্তি ও উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্য সাজিয়েছেন, যা তাঁর রচনার পরিপাট্যের পরিচয় দেয়।

৩. তিনি অকারণে অলংকার বা দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করেননি।

উপসংহার: এভাবেই লেখক নিজের রচনার মধ্য দিয়েই একটি আদর্শ বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের ভাষারীতির উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

Madhyamik All Subjects Suggestion | মাধ্যমিক সাজেশন:

PDF: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer PDF Download

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer PDF Download: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর সহ একটি PDF File শিক্ষার্থীদের revision-এর সুবিধার জন্য দেওয়া হলো।

PDF Download: বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer PDF Click Here

আমাদের YouTube Channel টি সাবস্ক্রাইব করুন  Click Here To Subscribe Now

West Bengal Class 10 Bengali Board Exam Details

West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) conducts the Madhyamik Examination for Class 10 students across West Bengal. Bengali is one of the important subjects in the Madhyamik Board Exam, and students need to prepare each chapter carefully according to the prescribed syllabus. Here you will find useful Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer, study materials, important questions and other resources to help students prepare effectively for the Class 10 Bengali Board Exam.

Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Syllabus PDF

Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ (প্রবন্ধ) – রাজশেখর বসু অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সিলেবাস অনুযায়ী অধ্যায়টি মন দিয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি বারবার অনুশীলন করা।

Madhyamik Bengali Syllabus PDF: Click Here

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer

Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) – রাজশেখর বসু থেকে মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে অধ্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নির্বাচিত MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীরা এগুলি ভালোভাবে পড়তে এবং নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে।

West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Suggestion Question and Answer

West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Suggestion Question and Answer খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্টে ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান’ প্রবন্ধ – রাজশেখর বসু অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision করার পাশাপাশি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নোত্তরগু,লি সহায়ক হবে।

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan Question and Answer

আশা করি, ‘Madhyamik Bengali Bangla Bhashay Bigyan’ ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) – রাজশেখর বসু’-এর এই প্রশ্নোত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসবে। পোস্টটি উপকারী মনে হলে সহপাঠীদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারো। West Bengal Board-এর সিলেবাস অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের Notes, Question Answer, Suggestion ও শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু, পাশাপাশি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় Study Material পেতে নিয়মিত ভিজিট করো Porasuna.in। ধন্যবাদ।