আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer

92
Contents hide
3 আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Afrika Question and Answer

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর

Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer: নমস্কার বন্ধুরা, আজকের আলোচনার বিষয় ‘আফ্রিকা’ (কবিতা) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যা মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এই পোস্টে WBBSE Class 10 Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer-এর পাশাপাশি কবিতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি ভালোভাবে পড়া এবং অনুশীলন করা অত্যন্ত উপকারী।

যেসব ছাত্রছাত্রী আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর, WBBSE Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer অথবা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা প্রশ্নোত্তর খুঁজছো, তারা এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়তে পারো। আফ্রিকা কবিতা থেকে পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যা West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Exam Preparation এবং Revision-এর সময় বিশেষভাবে কাজে আসবে।

বোর্ড ডাব্লিউ বি সি এইচ এস ই (WBBSE)
ক্লাস মাধ্যমিক দশম শ্রেণী (WB Class 10 Madhyamik)
বিষয় মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা (Madhyamik Bengali)
পাঠ আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Afrika Question and Answer

বহুনির্বাচনী : আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika MCQ [প্রশ্নমান – ১]

১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি কার রচনা?
(ক) শঙ্খ ঘোষ
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) কাজী নজরুল ইসলাম
(ঘ) জীবনানন্দ দাশ
উত্তরঃ (খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

২. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) বলাকা
(খ) চিত্রা
(গ) পত্রপুট
(ঘ) খেয়া
উত্তরঃ (গ) পত্রপুট

৩. রুদ্র সমুদ্রের বাহু আফ্রিকাকে কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল?
(ক) আকাশের বুক থেকে
(খ) প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে
(গ) পাতালের বুক থেকে
(ঘ) মরুভূমির বুক থেকে
উত্তরঃ (খ) প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে

৪. আফ্রিকাকে কোথায় বেঁধে রাখা হয়েছিল?
(ক) সমুদ্রের তীরে
(খ) পাহাড়ের চূড়ায়
(গ) বনস্পতির নিবিড় পাহারায়
(ঘ) মরুভূমির মধ্যে
উত্তরঃ (গ) বনস্পতির নিবিড় পাহারায়

৫. “কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে”—এখানে ‘অন্তঃপুর’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) রাজপ্রাসাদ
(খ) অন্দরমহল
(গ) মন্দির
(ঘ) নগর
উত্তরঃ (খ) অন্দরমহল

৬. নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা কী সংগ্রহ করছিল?
(ক) সম্পদ
(খ) দুর্গমের রহস্য
(গ) অস্ত্র
(ঘ) জ্ঞানগ্রন্থ
উত্তরঃ (খ) দুর্গমের রহস্য

৭. আফ্রিকা কী ধরনের সংকেত চিনেছিল?
(ক) দুর্বোধ্য সংকেত
(খ) দুর্বোধ সংকেত
(গ) শুভ সংকেত
(ঘ) অশুভ সংকেত
উত্তরঃ (খ) দুর্বোধ সংকেত

৮. আফ্রিকা ‘ভীষণ’-কে কীভাবে বিদ্রূপ করছিল?
(ক) অট্টহাস্যে
(খ) বিরূপের ছদ্মবেশে
(গ) গানের মাধ্যমে
(ঘ) নৃত্যের মাধ্যমে
উত্তরঃ (খ) বিরূপের ছদ্মবেশে

৯. আফ্রিকা কাকে হার মানাতে চেয়েছিল?
(ক) ভয়কে
(খ) শঙ্কাকে
(গ) মৃত্যুকে
(ঘ) অন্ধকারকে
উত্তরঃ (খ) শঙ্কাকে

১০. “আপনাকে উগ্র করে”—কীসের প্রচণ্ড মহিমায় আফ্রিকা নিজেকে উগ্র করেছিল?
(ক) সৌন্দর্যের
(খ) প্রকৃতির
(গ) বিভীষিকার
(ঘ) শক্তির
উত্তরঃ (গ) বিভীষিকার

১১. “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে”—‘ওরা’ কারা?
(ক) পশুর দল
(খ) মানুষ-ধরার দল
(গ) কবির দল
(ঘ) ব্যবসায়ীরা
উত্তরঃ (খ) মানুষ-ধরার দল

১২. ‘মানুষ-ধরার দল’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
(ক) শিকারিদের
(খ) দাস ব্যবসায়ী ও সাম্রাজ্যবাদী শোষকদের
(গ) কৃষকদের
(ঘ) সৈনিকদের
উত্তরঃ (খ) দাস ব্যবসায়ী ও সাম্রাজ্যবাদী শোষকদের

১৩. “নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে”—কাদের নখের কথা বলা হয়েছে?
(ক) আফ্রিকার পশুদের
(খ) মানুষ-ধরার দলের
(গ) আফ্রিকার অধিবাসীদের
(ঘ) বনস্পতির
উত্তরঃ (খ) মানুষ-ধরার দলের

১৪. ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ কী উন্মোচিত করেছিল?
(ক) সভ্যতার সৌন্দর্য
(খ) নির্লজ্জ অমানুষতা
(গ) মানবিকতা
(ঘ) প্রকৃতির রহস্য
উত্তরঃ (খ) নির্লজ্জ অমানুষতা

১৫. আফ্রিকার ‘ভাষাহীন ক্রন্দনে’ কী পঙ্কিল হয়েছিল?
(ক) নদীর জল
(খ) অরণ্য
(গ) ধূলি
(ঘ) আকাশ
উত্তরঃ (গ) ধূলি

১৬. আফ্রিকার রক্ত ও অশ্রুর সঙ্গে কী মিশে ধূলিকে পঙ্কিল করেছিল?
(ক) নদীর পলি
(খ) দস্যু-পায়ের জুতোর তলার ধুলো
(গ) সমুদ্রের জল
(ঘ) মরুভূমির বালি
উত্তরঃ (খ) দস্যু-পায়ের জুতোর তলার ধুলো

১৭. ‘দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলায়’ কী জমেছিল?
(ক) রক্তের দাগ
(খ) বীভৎস কাদার পিণ্ড
(গ) শুকনো ধুলো
(ঘ) পাথরের টুকরো
উত্তরঃ (খ) বীভৎস কাদার পিণ্ড

১৮. সেই কাদার পিণ্ড কী চিহ্ন রেখে গিয়েছিল?
(ক) গৌরবের চিহ্ন
(খ) বিজয়ের চিহ্ন
(গ) অপমানিত ইতিহাসের চিরচিহ্ন
(ঘ) স্বাধীনতার চিহ্ন
উত্তরঃ (গ) অপমানিত ইতিহাসের চিরচিহ্ন

১৯. আফ্রিকাকে কবি কী নামে সম্বোধন করেছেন?
(ক) অপরাজিতা মানবী
(খ) মানহারা মানবী
(গ) সৌভাগ্যবতী মানবী
(ঘ) সুন্দরী মানবী
উত্তরঃ (খ) মানহারা মানবী

২০. আফ্রিকার কোন রূপ অপরিচিত ছিল?
(ক) প্রকৃতির রূপ
(খ) মানবিক রূপ
(গ) সৌন্দর্যের রূপ
(ঘ) ভয়ংকর রূপ
উত্তরঃ (খ) মানবিক রূপ

২১. “কালো ঘোমটার নীচে”—কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) কবির
(খ) আফ্রিকার
(গ) প্রাচী ধরিত্রীর
(ঘ) যুগান্তরের কবির
উত্তরঃ (খ) আফ্রিকার

২২. ‘কালো ঘোমটা’ প্রধানত কীসের প্রতীক?
(ক) পরিচয় ও রহস্যের আড়াল
(খ) আনন্দের
(গ) বিজয়ের
(ঘ) আলোর
উত্তরঃ (ক) পরিচয় ও রহস্যের আড়াল

২৩. সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগমনে আফ্রিকার কী অপমানিত হয়েছিল?
(ক) প্রকৃতি
(খ) ইতিহাস
(গ) সমুদ্র
(ঘ) বনস্পতি
উত্তরঃ (খ) ইতিহাস

২৪. “সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই”—কোথায় পূজোর ঘণ্টা বাজছিল?
(ক) রাজপ্রাসাদে
(খ) মন্দিরে
(গ) বিদ্যালয়ে
(ঘ) অরণ্যে
উত্তরঃ (খ) মন্দিরে

২৫. মন্দিরে কী বাজছিল?
(ক) যুদ্ধের দামামা
(খ) পূজোর ঘণ্টা
(গ) শঙ্খধ্বনি
(ঘ) বাঁশির সুর
উত্তরঃ (খ) পূজোর ঘণ্টা

২৬. শিশুরা কোথায় খেলছিল?
(ক) মাঠে
(খ) মায়ের কোলে
(গ) নদীর ধারে
(ঘ) বিদ্যালয়ে
উত্তরঃ (খ) মায়ের কোলে

২৭. কবির সংগীতে কী বেজে উঠছিল?
(ক) যুদ্ধের আহ্বান
(খ) সুন্দরের আরাধনা
(গ) প্রলয়ের গান
(ঘ) বিজয়ের সুর
উত্তরঃ (খ) সুন্দরের আরাধনা

২৮. সমুদ্রপারে পূজোর ঘণ্টা ও কবির সংগীতে সুন্দরের আরাধনার বিপরীতে আফ্রিকায় কী ঘটছিল?
(ক) উৎসব চলছিল
(খ) অত্যাচার ও শোষণ চলছিল
(গ) শান্তি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল
(ঘ) নতুন সভ্যতা গড়ে উঠছিল
উত্তরঃ (খ) অত্যাচার ও শোষণ চলছিল

২৯. ‘প্রদোষকাল’ বলতে কী বোঝায়?
(ক) ভোরবেলা
(খ) মধ্যাহ্ন
(গ) সন্ধ্যার সময়
(ঘ) গভীর রাত
উত্তরঃ (গ) সন্ধ্যার সময়

৩০. “যখন গুপ্তগহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এল”—এই পশুরা কী ঘোষণা করেছিল?
(ক) নতুন দিনের সূচনা
(খ) দিনের অন্তিমকাল
(গ) বিজয়ের সংবাদ
(ঘ) শান্তির বার্তা
উত্তরঃ (খ) দিনের অন্তিমকাল

৩১. ‘অশুভ ধ্বনি’ কারা করেছিল?
(ক) কবিরা
(খ) পশুরা
(গ) শিশুরা
(ঘ) মানুষ-ধরার দল
উত্তরঃ (খ) পশুরা

৩২. ‘যুগান্তরের কবি’-কে কখন আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
(ক) ভোরের প্রথম আলোয়
(খ) দুপুরে
(গ) আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে
(ঘ) গভীর রাতে
উত্তরঃ (গ) আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে

৩৩. ‘যুগান্তরের কবি’-কে কোথায় দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
(ক) সমুদ্রের তীরে
(খ) বনস্পতির নিচে
(গ) মানহারা মানবীর দ্বারে
(ঘ) পাহাড়ের চূড়ায়
উত্তরঃ (গ) মানহারা মানবীর দ্বারে

৩৪. ‘যুগান্তরের কবি’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) অতীতের কোনো কবিকে
(খ) ভবিষ্যৎ যুগের মানবতাবাদী কবিকে
(গ) আফ্রিকার কবিকে
(ঘ) সাম্রাজ্যবাদী কবিকে
উত্তরঃ (খ) ভবিষ্যৎ যুগের মানবতাবাদী কবিকে

৩৫. যুগান্তরের কবিকে আফ্রিকার কাছে কী বলতে বলা হয়েছে?
(ক) ফিরে এসো
(খ) প্রতিবাদ করো
(গ) ক্ষমা করো
(ঘ) যুদ্ধ করো
উত্তরঃ (গ) ক্ষমা করো

৩৬. “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী”—‘পুণ্যবাণী’টি কী?
(ক) ভালোবাসি
(খ) ক্ষমা করো
(গ) ফিরে এসো
(ঘ) প্রতিবাদ করো
উত্তরঃ (খ) ক্ষমা করো

৩৭. ‘ক্ষমা করো’ বলার মাধ্যমে কী মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) অহংকার
(খ) অনুশোচনা ও মানবিক বিবেক
(গ) প্রতিশোধ
(ঘ) ভয়
উত্তরঃ (খ) অনুশোচনা ও মানবিক বিবেক

৩৮. “হিংস্র প্রলাপের মধ্যে”—কী হওয়ার কথা বলা হয়েছে?
(ক) সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী
(খ) যুদ্ধের সূচনা
(গ) প্রকৃতির বিজয়
(ঘ) অরণ্যের ধ্বংস
উত্তরঃ (ক) সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী

৩৯. ‘পঙ্কিল’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) পবিত্র
(খ) কর্দমাক্ত বা কলুষিত
(গ) স্বচ্ছ
(ঘ) উজ্জ্বল
উত্তরঃ (খ) কর্দমাক্ত বা কলুষিত

৪০. ‘দুন্দুভি’ কী?
(ক) বাঁশিজাতীয় বাদ্যযন্ত্র
(খ) দামামা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র
(গ) তারের বাদ্যযন্ত্র
(ঘ) শঙ্খ
উত্তরঃ (খ) দামামা জাতীয় বাদ্যযন্ত্র

৪১. ‘তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদ’ কী প্রকাশ করে?
(ক) শান্তি ও সৌন্দর্য
(খ) ভয়াবহতা ও বিভীষিকা
(গ) আনন্দ ও উৎসব
(ঘ) প্রেম ও মাধুর্য
উত্তরঃ (খ) ভয়াবহতা ও বিভীষিকা

৪২. “গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে”—‘যারা’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
(ক) আফ্রিকার আদিবাসীদের
(খ) মানুষ-ধরার দলকে
(গ) কবিদের
(ঘ) বনস্পতিকে
উত্তরঃ (খ) মানুষ-ধরার দলকে

৪৩. ‘সূর্যহারা অরণ্য’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) আলোয় ভরা অরণ্য
(খ) ঘন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অরণ্য
(গ) মরুভূমি
(ঘ) সমুদ্রতীর
উত্তরঃ (খ) ঘন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন অরণ্য

৪৪. ‘অন্তঃপুর’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) অন্দরমহল
(খ) যুদ্ধক্ষেত্র
(গ) রাজসভা
(ঘ) মন্দির
উত্তরঃ (ক) অন্দরমহল

৪৫. ‘আফ্রিকা’ কবিতার মূল বক্তব্যের সঙ্গে কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত?
(ক) আফ্রিকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনা
(খ) সাম্রাজ্যবাদী শোষণের প্রতিবাদ ও মানবিক আবেদন
(গ) কেবল প্রকৃতিপ্রেম
(ঘ) কেবল ধর্মীয় ভাবনা
উত্তরঃ (খ) সাম্রাজ্যবাদী শোষণের প্রতিবাদ ও মানবিক আবেদন

৪৬. ‘লোহার হাতকড়ি’ কীসের প্রতীক?
(ক) স্বাধীনতার
(খ) দাসত্ব ও পরাধীনতার
(গ) শক্তির
(ঘ) উন্নতির
উত্তরঃ (খ) দাসত্ব ও পরাধীনতার

৪৭. আফ্রিকার আদিম পরিবেশে কবি কোন বৈশিষ্ট্যটি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন?
(ক) দুর্গমতা ও রহস্যময়তা
(খ) নগরজীবন
(গ) শিল্পায়ন
(ঘ) আধুনিক সভ্যতা
উত্তরঃ (ক) দুর্গমতা ও রহস্যময়তা

৪৮. ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ কথাটির মাধ্যমে কী প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) সভ্যতার মানবিক দিক
(খ) তথাকথিত সভ্যতার অমানবিক লোভ
(গ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
(ঘ) আফ্রিকার সমৃদ্ধি
উত্তরঃ (খ) তথাকথিত সভ্যতার অমানবিক লোভ

৪৯. ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের প্রথম প্রকাশকাল কোনটি?
(ক) ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দ
(খ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ
(গ) ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দ
(ঘ) ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দ
উত্তরঃ (খ) ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দ

৫০. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কবির শেষ আহ্বানের মূল উদ্দেশ্য কী?
(ক) যুদ্ধের আহ্বান জানানো
(খ) আফ্রিকার প্রতিশোধের কথা বলা
(গ) নিপীড়িত আফ্রিকার কাছে মানবসভ্যতার ক্ষমাপ্রার্থনা ও মানবিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা
(ঘ) আফ্রিকার সম্পদের প্রশংসা করা
উত্তরঃ (গ) নিপীড়িত আফ্রিকার কাছে মানবসভ্যতার ক্ষমাপ্রার্থনা ও মানবিকতার পুনঃপ্রতিষ্ঠা

[Madhyamik Bengali Suggestion Click Here]

অতিসংক্ষিপ্ত : আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | WBBSE Madhyamik Bengali Afrika SAQ [প্রশ্নমান – ১]

১. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

২. ‘মানহারা মানবী’ কাকে বলা হয়েছে?
উত্তরঃ অপমানিত ও লাঞ্ছিত আফ্রিকাকে ‘মানহারা মানবী’ বলা হয়েছে।

৩. নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা কী সংগ্রহ করছিল?
উত্তরঃ নিভৃত অবকাশে আফ্রিকা দুর্গমের রহস্য সংগ্রহ করছিল।

৪. কারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এসেছিল?
উত্তরঃ মানুষ-ধরার দল বা সাম্রাজ্যবাদী শোষকেরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এসেছিল।

৫. “বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে”—কীভাবে?
উত্তরঃ আফ্রিকা বিরূপের ছদ্মবেশে ভীষণকে বিদ্রূপ করছিল।

৬. আফ্রিকাকে কে পাহারা দিচ্ছিল?
উত্তরঃ বনস্পতিরা নিবিড় পাহারা দিয়ে আফ্রিকাকে আড়াল করে রেখেছিল।

৭. ‘পঙ্কিল’ শব্দের একটি সমার্থক শব্দ লেখো।
উত্তরঃ কর্দমাক্ত।

৮. ‘যুগান্তরের কবি’কে কবি কী করতে বলেছেন?
উত্তরঃ ‘যুগান্তরের কবি’কে মানহারা আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইতে বলেছেন।

৯. “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে”—কখন দাঁড়াতে বলা হয়েছে?
উত্তরঃ আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।

১০. ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ কেমন রূপ ধারণ করেছিল?
উত্তরঃ ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ নগ্ন রূপ ধারণ করেছিল।

১১. আফ্রিকার ইতিহাসে কারা চিরচিহ্ন রেখে গিয়েছিল?
উত্তরঃ দস্যু বা সাম্রাজ্যবাদী শোষকেরা আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন রেখে গিয়েছিল।

১২. ‘মানুষ-ধরার দল’ কাদের বলা হয়েছে?
উত্তরঃ আফ্রিকার মানুষকে ধরে দাসত্বে নিযুক্ত করা দাসব্যবসায়ী ও শোষকদের ‘মানুষ-ধরার দল’ বলা হয়েছে।

১৩. ‘কালো ঘোমটা’র নীচে কী অপরিচিত ছিল?
উত্তরঃ ‘কালো ঘোমটা’র নীচে আফ্রিকার মানবিক রূপ অপরিচিত ছিল।

১৪. ‘দুন্দুভি’ কী?
উত্তরঃ দামামা জাতীয় বড় রণবাদ্যকে দুন্দুভি বলা হয়।

১৫. রুদ্র সমুদ্রের বাহু কী করেছিল?
উত্তরঃ রুদ্র সমুদ্রের বাহু প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

১৬. “শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে”—কীভাবে?
উত্তরঃ নিজেকে উগ্র করে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল।

১৭. সাম্রাজ্যবাদীদের নখ কার চেয়ে তীক্ষ্ণ ছিল?
উত্তরঃ তাদের নখ নেকড়ের চেয়েও তীক্ষ্ণ ছিল।

১৮. আফ্রিকার বাষ্পাকুল অরণ্যপথে কী ছিল?
উত্তরঃ সেখানে আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসের পঙ্কিল চিহ্ন ছিল।

১৯. আফ্রিকার শিশুরা কোথায় খেলছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকার শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল।

২০. সাম্রাজ্যবাদীদের মন্দিরে কী বাজছিল?
উত্তরঃ সেখানে সকাল-সন্ধ্যায় পূজার ঘণ্টা বাজছিল।

২১. আফ্রিকার আলো কেমন ছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকার আলো ছিল কৃপণ, অর্থাৎ অল্প ও সীমিত।

২২. ‘অন্তঃপুর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘অন্তঃপুর’ শব্দের অর্থ অন্দরমহল বা ভিতরের নির্জন স্থান।

২৩. ‘ছায়াবৃতা’ কে?
উত্তরঃ আফ্রিকাই ‘ছায়াবৃতা’।

২৪. ‘প্রাচী ধরিত্রী’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ প্রাচীন ভূখণ্ড বা পূর্বদিকের ধরিত্রীকে ‘প্রাচী ধরিত্রী’ বলা হয়েছে।

২৫. ‘বনস্পতি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘বনস্পতি’ শব্দের অর্থ বড় বা বিশাল আকৃতির গাছ, অর্থাৎ মহীরুহ।

২৬. আফ্রিকার অরণ্যকে ‘সূর্যহারা’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তরঃ ঘন অরণ্যের কারণে সেখানে সূর্যের আলো সহজে প্রবেশ করতে পারত না, তাই তাকে ‘সূর্যহারা’ বলা হয়েছে।

২৭. ‘অপরিচিত’ কী ছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকার মানবিক রূপ অপরিচিত ছিল।

২৮. ‘মানুষ-ধরার দল’ গর্বে কেমন ছিল?
উত্তরঃ ‘মানুষ-ধরার দল’ গর্বে অন্ধ ছিল।

২৯. ‘বাষ্পাকুল অরণ্যপথ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘বাষ্পাকুল অরণ্যপথ’ বলতে আর্দ্র, ঘন ও রহস্যময় আফ্রিকান অরণ্যের পথ বোঝানো হয়েছে।

৩০. “অভিশাপ দিচ্ছিল”—কাকে?
উত্তরঃ আফ্রিকা অদৃষ্টকে অভিশাপ দিচ্ছিল।

৩১. কবি ‘যুগান্তরের কবি’কে কী ঘোষণা করতে বলেছেন?
উত্তরঃ ‘ক্ষমা করো’—এই পুণ্যবাণী ঘোষণা করতে বলেছেন।

৩২. ‘শেষ পুণ্যবাণী’ কী হবে?
উত্তরঃ ‘শেষ পুণ্যবাণী’ হবে ‘ক্ষমা করো’।

৩৩. ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ তথাকথিত সভ্য মানুষের অমানবিক শোষণ, লুণ্ঠন ও লোভকে ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলা হয়েছে।

৩৪. আফ্রিকার আদিম অধিবাসীদের জীবনে কী নেমে এসেছিল?
উত্তরঃ তাদের জীবনে শোষণ, নির্যাতন, দাসত্ব ও অপমানের নির্মমতা নেমে এসেছিল।

৩৫. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত।

৩৬. ‘নগ্ন রূপ’ কীসের?
উত্তরঃ ‘নগ্ন রূপ’ হলো সভ্যের বর্বর লোভের।

৩৭. “তোমার রক্ত আর অশ্রুর দানে”—কী পঙ্কিল হয়েছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকার ধূলি তার রক্ত ও অশ্রুর দানে পঙ্কিল হয়েছিল।

৩৮. “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে”—কীসের চিহ্ন?
উত্তরঃ দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলার কাদার পিণ্ডের চিহ্ন।

৩৯. “বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে”—‘ভীষণ’ কী নির্দেশ করে?
উত্তরঃ ‘ভীষণ’ বলতে আফ্রিকার ভয়ংকর ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের দিকটি বোঝানো হয়েছে।

৪০. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় প্রধানত কোন বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তরঃ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, আফ্রিকার অপমানের বেদনা এবং মানবিকতার আহ্বান প্রধান হয়ে উঠেছে।

[Madhyamik Suggestion Click Here]

সংক্ষিপ্ত : আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika QNA [প্রশ্নমান – ৩]

১. “কালো ঘোমটার নীচে/অপরিচিত ছিল তোমার মানব রূপ”— পঙক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ ‘কালো ঘোমটা’ বলতে আফ্রিকার রহস্যময়, দুর্গম ও অরণ্যাবৃত প্রকৃতিকে বোঝানো হয়েছে। এই বাহ্যিক আবরণের আড়ালে আফ্রিকার যে মানবিক সত্তা, জীবন ও সংস্কৃতি ছিল, বাইরের পৃথিবীর কাছে তা অপরিচিতই থেকে গিয়েছিল। সাম্রাজ্যবাদীরা আফ্রিকার এই মানবিক পরিচয় উপলব্ধি না করে তাকে শোষণের ক্ষেত্র হিসেবে দেখেছিল।

২. “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে”— ‘ওরা’ কারা? তাদের আগমনের কারণ ও পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তরঃ ‘ওরা’ বলতে ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও দাস-ব্যবসায়ীদের বোঝানো হয়েছে। আফ্রিকার মানুষ ও সম্পদের উপর আধিপত্য বিস্তার এবং শোষণই ছিল তাদের আগমনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর ফলে আফ্রিকার মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও শান্তি নষ্ট হয় এবং তার ইতিহাস অত্যাচার ও অপমানের কলঙ্কে চিহ্নিত হয়।

৩. ‘মানহারা মানবী’ বলে আফ্রিকাকে সম্বোধন করার কারণ কী?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অত্যাচার ও শোষণে আফ্রিকার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও সম্মান লাঞ্ছিত হয়েছিল। কবির চোখে আফ্রিকার এই অপমান যেন একজন নারীর সম্মানহানির মতো। তাই তার লাঞ্ছিত ও অপমানিত অবস্থাকে প্রকাশ করার জন্য কবি তাকে ‘মানহারা মানবী’ বলে সম্বোধন করেছেন।

৪. “প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু”— বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তরঃ এর দ্বারা আফ্রিকার নিবিড়, রহস্যময় ও দুর্গম প্রকৃতির অন্তর্নিহিত অজানা শক্তি ও রহস্যকে বোঝানো হয়েছে। দীর্ঘ নিভৃত জীবনে আফ্রিকা প্রকৃতির নানা দুর্বোধ্য রহস্যের সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল। এই রহস্যময়তারই কাব্যিক প্রকাশ ঘটেছে ‘প্রকৃতির দৃষ্টি-অতীত জাদু’ কথাটিতে।

৫. “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে”— কারা, কীভাবে চিরচিহ্ন দিয়ে গেল?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী দস্যুরা আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন দিয়ে গিয়েছিল। তারা আফ্রিকার মানুষকে শোষণ ও অত্যাচার করেছিল। তাদের অত্যাচারে মানুষের রক্ত ও অশ্রু আফ্রিকার মাটিকে কলঙ্কিত করেছিল। ‘দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলার কাদার পিণ্ড’ সেই অপমানেরই প্রতীক।

৬. “শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে”— কে, কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চাইছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকা ও তার আদিম অধিবাসীরা প্রতিকূল ও ভয়ংকর প্রকৃতির শঙ্কাকে হার মানাতে চাইছিল। তারা নিজেদের উগ্র ও ভয়ংকর রূপে প্রকাশ করে এবং প্রকৃতির রহস্যময় শক্তির সঙ্গে লড়াই করে ভয়কে জয় করতে চেয়েছিল। এইভাবেই আফ্রিকার আদিম মানুষের সংগ্রামী ও সাহসী সত্তা প্রকাশিত হয়েছে।

৭. “সভ্যের বর্বর লোভ/নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা”— ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলতে তথাকথিত সভ্য ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের আফ্রিকার সম্পদ ও মানুষের উপর অমানবিক লোভ ও শোষণকে বোঝানো হয়েছে। নিজেদের সভ্য বলে দাবি করলেও তারা আফ্রিকায় দাসত্ব, লুণ্ঠন ও অত্যাচারের মতো বর্বর কাজ করেছিল। এই ভণ্ড সভ্যতার অমানবিক রূপকেই কবি ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলেছেন।

৮. “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;/বলো ‘ক্ষমা করো’”— কবি কাকে, কেন ক্ষমা চাইতে বলেছেন?
উত্তরঃ কবি ‘যুগান্তরের কবি’র মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মানবসমাজকে আফ্রিকার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন। সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতা আফ্রিকার উপর যে অত্যাচার ও শোষণ চালিয়েছিল, তার জন্য মানবসমাজকে অনুতপ্ত হতে হবে। তাই আফ্রিকার প্রতি সহমর্মিতা, অনুশোচনা ও নৈতিক দায় স্বীকারের প্রতীক হিসেবে ‘ক্ষমা করো’ বলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৯. আফ্রিকার আদিম রূপের বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ কবিতার শুরুতে আফ্রিকাকে একটি নির্জন, অরণ্যাবৃত ও রহস্যময় ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। রুদ্র সমুদ্রের বাহু তাকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল এবং বনস্পতির নিবিড় পাহারা তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে’ সে নিভৃত জীবনে প্রকৃতির নানা রহস্য সঞ্চয় করেছিল। তার প্রকৃতি ছিল দুর্গম ও ভয়ংকর।

১০. “তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে বাষ্পাকুল অরণ্যপথে”— পঙক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ পঙক্তিটির মাধ্যমে আফ্রিকার অব্যক্ত ও গভীর যন্ত্রণার ছবি ফুটে উঠেছে। সাম্রাজ্যবাদী অত্যাচারে আফ্রিকার মানুষের যে কান্না, তা যেন ভাষাহীন হয়ে অরণ্যের বাষ্পময় পরিবেশে মিশে গিয়েছিল। ‘বাষ্পাকুল’ শব্দটি অরণ্যের আর্দ্রতা ও আবেগঘন বেদনার একটি কাব্যিক পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

১১. “নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে”— এই তুলনাটির সার্থকতা কী?
উত্তরঃ নেকড়ে হিংস্র প্রাণী হলেও সাম্রাজ্যবাদীদের নিষ্ঠুরতা ছিল তার চেয়েও ভয়ংকর। নেকড়ে সাধারণত খাদ্যের প্রয়োজনে শিকার করে, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীরা লোভ ও আধিপত্যের জন্য আফ্রিকার সম্পদ ও মানুষকে শোষণ করেছিল। তাই তাদের পাশবিকতার তীব্রতা বোঝাতে কবি নেকড়ের সঙ্গে এই তুলনা করেছেন।

১২. ‘যুগান্তরের কবি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তরঃ ‘যুগান্তরের কবি’ বলতে কবি এমন এক নতুন যুগের মানবতাবাদী কবি বা বিবেকবান মানবসত্তাকে বুঝিয়েছেন, যিনি সংকীর্ণতা ও অন্যায়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার কথা বলবেন। তিনি অতীতের অত্যাচারের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আফ্রিকার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।

১৩. “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে”— ‘দ্বার’ শব্দটি এখানে কী অর্থে ব্যবহৃত?
উত্তরঃ ‘দ্বার’ এখানে শুধু বাস্তব দরজা নয়; এটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। ‘মানহারা মানবীর দ্বারে’ দাঁড়ানো বলতে আফ্রিকার সামনে নত হওয়া, তার যন্ত্রণা ও অপমানকে স্বীকার করা এবং তার প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রকাশ করা বোঝানো হয়েছে।

১৪. “বিদ্রূপ করছিলে ভীষণকে/বিরূপের ছদ্মবেশে”— পঙক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ আফ্রিকার প্রকৃতি ছিল ভয়ংকর, দুর্গম ও প্রতিকূল। সেই পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করতে গিয়ে আফ্রিকা ও তার অধিবাসীরা নিজেদের উগ্র ও ভয়ংকর রূপে প্রকাশ করেছিল। অর্থাৎ, ভয়কে জয় করার জন্য নিজের মধ্যেই ভয়ের রূপ ধারণ করেছিল। এই ভাবটিই ‘ভীষণকে বিদ্রূপ’ করার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

১৫. “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী”— কোন বিষয়টিকে ‘পুণ্যবাণী’ বলা হয়েছে এবং কেন?
উত্তরঃ ‘ক্ষমা করো’—এই কথাটিকেই কবি ‘পুণ্যবাণী’ বলেছেন। আফ্রিকার উপর যে অন্যায় ও অত্যাচার চালানো হয়েছে, তার জন্য ক্ষমা চাওয়া হলো অনুশোচনা ও অন্যায় স্বীকারের প্রতীক। তাই ক্ষমা প্রার্থনাকে সভ্যতার একটি মহৎ ও মানবিক কাজ হিসেবে কবি ‘পুণ্যবাণী’ বলেছেন।

১৬. আফ্রিকার ইতিহাসকে ‘অপমানিত’ ও ‘পঙ্কিল’ বলা হয়েছে কেন?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদীরা আফ্রিকার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মানবিক অধিকার হরণ করেছিল বলে তার ইতিহাস ‘অপমানিত’। তাদের অত্যাচারে আফ্রিকার মানুষের রক্ত ও অশ্রু ঝরেছিল এবং সেই নিষ্ঠুরতার কলঙ্ক ইতিহাসে লেগে রয়েছে। এই কলঙ্কিত ইতিহাসকেই কবি ‘পঙ্কিল’ বলেছেন।

১৭. “ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা”— কে, কোথা থেকে, কীভাবে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?
উত্তরঃ কবির পৌরাণিক কল্পনায়, স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টির কাজে অধৈর্য হয়ে ‘প্রাচী ধরিত্রীর বুক’ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। রুদ্র সমুদ্রের বাহু দিয়ে তাকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে বনস্পতির নিবিড় পাহারায় এক নির্জন পরিবেশে স্থাপন করেছিলেন।

১৮. “তোমার ভাষাহীন ক্রন্দনে”— ক্রন্দন ‘ভাষাহীন’ কেন?
উত্তরঃ আফ্রিকার মানুষের যন্ত্রণা ছিল এত গভীর ও নির্মম যে তার যথার্থ প্রকাশের ভাষা ছিল না। আবার তথাকথিত সভ্য সমাজও তাদের সেই কান্না শুনতে বা বুঝতে চায়নি। তাই তাদের অব্যক্ত ও উপেক্ষিত বেদনাকে কবি ‘ভাষাহীন ক্রন্দন’ বলেছেন।

১৯. সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বিচারিতার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেদের সভ্য ও ধর্মপরায়ণ বলে মনে করত। তাদের দেশে দয়াময় দেবতার নামে পূজার ঘণ্টা বাজত, শিশুরা মায়ের কোলে খেলত। অথচ তারাই আফ্রিকায় গিয়ে লোহা-হাতকড়ি, দাসত্ব, লুণ্ঠন ও অত্যাচার চালিয়েছিল। তাদের এই কথার সঙ্গে কাজের বিপরীত আচরণই দ্বিচারিতার পরিচয়।

২০. “পত্রপুট” কাব্যগ্রন্থের নামকরণের সার্থকতা কী?
উত্তরঃ ‘পত্রপুট’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ পাতার পুট বা পাতার ঠোঙা। এই কাব্যগ্রন্থে কবির বিচিত্র অনুভূতি, চিন্তা ও জীবনভাবনা নানা কবিতার মাধ্যমে সংকলিত হয়েছে। ‘আফ্রিকা’ কবিতায়ও কবির মানবিক বেদনা, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিবাদ ও বিশ্বমানবতার ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে। তাই গ্রন্থের নামটি তার বিষয়বস্তুর সঙ্গে সার্থকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২১. আফ্রিকার জন্মবৃত্তান্ত কবি কীভাবে বর্ণনা করেছেন?
উত্তরঃ কবি আফ্রিকার জন্মবৃত্তান্তকে পৌরাণিক ও কাব্যিক কল্পনার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন। স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টিতে অধৈর্য হয়ে প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নেন। রুদ্র সমুদ্রের বাহু তাকে বিচ্ছিন্ন করে এবং বনস্পতির নিবিড় পাহারায় তাকে এক রহস্যময়, নির্জন পরিবেশে স্থাপন করে।

২২. “পশ্চিম দিগন্তে…”— এই সময়কালে সাম্রাজ্যবাদীরা কী করছিল?
উত্তরঃ যখন পশ্চিম দিগন্তে সভ্য সমাজের স্বাভাবিক ও শান্ত জীবন চলছিল—দয়াময় দেবতার নামে পূজার ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল—তখন সেই সভ্যতারই প্রতিনিধিরা আফ্রিকায় লোহা-হাতকড়ি নিয়ে অত্যাচার ও শোষণ চালাচ্ছিল। এই বৈপরীত্যের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পেয়েছে।

২৩. “আফ্রিকা” কবিতায় স্রষ্টার ভূমিকা কী?
উত্তরঃ কবিতার সূচনায় স্রষ্টার ভূমিকা একটি পৌরাণিক কল্পনার অংশ। কবি কল্পনা করেছেন যে স্রষ্টা আফ্রিকাকে প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে বিচ্ছিন্ন করে রুদ্র সমুদ্রের মাধ্যমে এক নির্জন পরিবেশে স্থাপন করেছেন। এর ফলে আফ্রিকার ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, রহস্যময়তা ও স্বাতন্ত্র্যের একটি কাব্যিক পটভূমি তৈরি হয়েছে।

২৪. “আফ্রিকা” কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথের কোন বিশ্বমানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়?
উত্তরঃ কবি আফ্রিকার লাঞ্ছনাকে কেবল একটি দেশের অপমান হিসেবে দেখেননি; তিনি একে সমগ্র মানবজাতির লজ্জা হিসেবে দেখেছেন। সাম্রাজ্যবাদী শোষণ ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ মানবসমাজের কাছে আফ্রিকার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সর্বজনীন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর বিশ্বমানবতাবাদের পরিচয়।

২৫. “আফ্রিকা” কবিতাটির মূল ভাব কী?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতার মূল ভাব হলো সাম্রাজ্যবাদী শোষণ ও অমানবিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বিশ্বমানবতার প্রতিষ্ঠা। কবি আফ্রিকার উপর সংঘটিত অত্যাচার, দাসত্ব ও লাঞ্ছনার ইতিহাস তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতের মানবসমাজকে অতীতের অন্যায়ের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মানহারা আফ্রিকার কাছে ‘ক্ষমা করো’ বলার আহ্বান জানিয়েছেন।

রচনাধর্মী : আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika LAQ [প্রশ্নমান – ৫]

১. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের যে চিত্র কবি এঁকেছেন, তা বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের এক নির্মম ও মর্মস্পর্শী চিত্র ফুটে উঠেছে। কবি তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা শোষণ, লোভ ও অমানবিকতার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন।

দস্যুদের আগমন: সাম্রাজ্যবাদীরা আফ্রিকায় এসেছিল ‘লোহার হাতকড়ি’ নিয়ে। ‘মানুষ-ধরার দল’ হিসেবে তারা আফ্রিকার মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদা হরণ করেছিল। তাদের নিষ্ঠুরতার তীব্রতা বোঝাতে কবি বলেছেন—‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’।

সভ্যতার মুখোশে বর্বরতা: নিজেদের সভ্য বলে পরিচয় দিলেও তাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত বর্বর। তাদের লোভ ও অমানবিকতাকেই কবি ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ এবং ‘নির্লজ্জ অমানুষতা’ বলে ধিক্কার জানিয়েছেন।

শোষণ ও লাঞ্ছনা: সাম্রাজ্যবাদীদের অত্যাচারে আফ্রিকার মানুষের জীবনে নেমে এসেছিল অসহনীয় দুঃখ ও অপমান। তাদের ‘ভাষাহীন ক্রন্দন’ এবং ‘অপমানিত ইতিহাস’ সেই শোষণের গভীরতাকে প্রকাশ করে। রক্ত ও অশ্রুতে আফ্রিকার ইতিহাস হয়ে উঠেছিল ‘পঙ্কিল’।

দ্বিচারিতা: সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বিচারিতাও কবিতায় স্পষ্ট। যখন আফ্রিকায় অত্যাচার চলছিল, তখন তাদের নিজেদের দেশে ‘দয়াময় দেবতার নামে’ পূজার ঘণ্টা বাজছিল এবং শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল। এই বৈপরীত্য তথাকথিত সভ্যতার ভণ্ডামিকে উন্মোচিত করেছে।

উপসংহার: তাই ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন শুধু একটি রাজনৈতিক অপরাধ নয়, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে।

২. ‘আফ্রিকা’ কবিতার মূল কাব্যিক সৌন্দর্য ও শিল্পগুণ বিচার করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: ‘আফ্রিকা’ কবিতার বিষয়বস্তুর গভীরতার পাশাপাশি এর ভাষা, চিত্রকল্প, প্রতীক ও কাব্যিক ব্যঞ্জনাও অসাধারণ। বিষয় ও শিল্পরূপের সার্থক সমন্বয় কবিতাটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

গদ্যছন্দের ব্যবহার: কবিতাটি গদ্যছন্দে রচিত। এই ছন্দ কবির বক্তব্যকে স্বাভাবিক, আবেগময় ও শক্তিশালী করে তুলেছে। ফলে প্রতিবাদ, বেদনা ও মানবিক আবেদন সহজেই পাঠকের মনে পৌঁছে যায়।

চিত্রকল্প: কবি অসাধারণ সব চিত্রকল্প সৃষ্টি করেছেন। যেমন—‘রুদ্র সমুদ্রের বাহু’, ‘বনস্পতির নিবিড় পাহারা’, ‘লোহার হাতকড়ি’, ‘দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলার কাদার পিণ্ড’ ইত্যাদি। এসব চিত্রকল্প কবিতার ভাবকে দৃশ্যমান করে তুলেছে।

রূপক ও প্রতীক: আফ্রিকাকে ‘মানহারা মানবী’ হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। ‘লোহার হাতকড়ি’ দাসত্ব ও শোষণের প্রতীক। আবার ‘যুগান্তরের কবি’ ভবিষ্যতের মানবিক বিবেকের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বৈপরীত্য: ‘সভ্যের বর্বর লোভ’-এর মতো তীব্র বৈপরীত্যমূলক অভিব্যক্তির মাধ্যমে কবি তথাকথিত সভ্যতার অন্তর্নিহিত বর্বরতাকে প্রকাশ করেছেন।

শব্দের ব্যঞ্জনা: ‘পঙ্কিল’, ‘বাষ্পাকুল’, ‘ভাষাহীন ক্রন্দন’, ‘অপমানিত ইতিহাস’ প্রভৃতি শব্দ কবিতায় বেদনা, ঘৃণা ও প্রতিবাদের আবহ সৃষ্টি করেছে।

উপসংহার: গভীর মানবিক বক্তব্য, শক্তিশালী চিত্রকল্প, প্রতীক, ব্যঞ্জনাময় ভাষা ও গদ্যছন্দের সার্থক ব্যবহারে ‘আফ্রিকা’ একটি শক্তিশালী ও স্মরণীয় মানবতাবাদী কবিতা হয়ে উঠেছে।

৩. “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;/বলো ‘ক্ষমা করো’”— ‘মানহারা মানবী’ কে? কবি কাকে, কেন এই আহ্বান জানিয়েছেন? এই আহ্বানের তাৎপর্য কী?

উত্তরঃ ‘মানহারা মানবী’র পরিচয়: ‘মানহারা মানবী’ বলতে রূপকার্থে আফ্রিকা মহাদেশকে বোঝানো হয়েছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শোষণ ও অত্যাচারে আফ্রিকার স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মানবিক সম্মান লাঞ্ছিত হয়েছিল। তাই কবি তাকে ‘মানহারা মানবী’ বলেছেন।

আহ্বানের লক্ষ্য: কবি ‘যুগান্তরের কবি’র প্রতি এই আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ভবিষ্যতের মানবিক ও বিবেকবান সত্তার প্রতীক। তাঁকে আফ্রিকার দ্বারে দাঁড়িয়ে ‘ক্ষমা করো’ বলতে বলা হয়েছে।

ক্ষমা চাওয়ার কারণ: আফ্রিকার উপর সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতা যে শোষণ, দাসত্ব ও অত্যাচার চালিয়েছিল, তা মানবসভ্যতার এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। তাই অতীতের সেই অন্যায়ের জন্য অনুতাপ ও নৈতিক দায় স্বীকার করাই এই আহ্বানের উদ্দেশ্য।

আহ্বানের তাৎপর্য:
১. এটি অন্যায়ের নৈতিক স্বীকৃতি।
২. এটি নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্মান প্রকাশ করে।
৩. এটি ভবিষ্যৎ মানবসমাজকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানায়।
৪. ‘ক্ষমা করো’ কথার মধ্যে মানবিক সভ্যতার পুনর্গঠনের আকাঙ্ক্ষা নিহিত রয়েছে।

উপসংহার: তাই কবিতার শেষের এই আহ্বান সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিবাদকে অতিক্রম করে বিশ্বমানবতার এক গভীর নৈতিক আবেদন হয়ে উঠেছে।

৪. ‘আফ্রিকা’ কবিতার প্রথম স্তবকে আফ্রিকার যে রহস্যময় ও আদিম রূপের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তরঃ ভূমিকা: কবিতার প্রথম অংশে রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকার জন্ম, বিচ্ছিন্নতা ও আদিম প্রকৃতিকে এক পৌরাণিক ও রহস্যময় কল্পনার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

সৃষ্টি ও বিচ্ছিন্নতা: কবির কল্পনায়, স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টিতে অধৈর্য হয়ে ‘প্রাচী ধরিত্রীর বুক’ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। ‘রুদ্র সমুদ্রের বাহু’ দিয়ে তাকে বিচ্ছিন্ন করে এক নির্জন পরিবেশে স্থাপন করা হয়েছিল।

রহস্যময় প্রকৃতি: আফ্রিকাকে ঘিরে ছিল ‘বনস্পতির নিবিড় পাহারা’। ঘন অরণ্যের কারণে সেখানে আলো ছিল অপ্রতুল। তাই কবি তাকে ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুর’ বলেছেন। এই অন্ধকার, অরণ্য ও নির্জনতা আফ্রিকার রহস্যময়তাকে আরও গভীর করেছে।

আদিম জীবন: এই দুর্গম পরিবেশে আফ্রিকা প্রকৃতির নানা ‘দুর্গমের রহস্য’ সঞ্চয় করেছিল। ভয়ংকর প্রকৃতিকে মোকাবিলা করতে সে ‘বিরূপের ছদ্মবেশে’ নিজেকে প্রকাশ করেছিল এবং শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল।

উপসংহার: এভাবেই কবি আফ্রিকাকে একটি আদিম, রহস্যময়, দুর্গম ও স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

৫. “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে।” — কারা, কীভাবে আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে চিরচিহ্ন দিয়ে গেল? এই ‘চিরচিহ্ন’-এর স্বরূপ বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: এই পঙক্তিতে সাম্রাজ্যবাদী শোষণের ফলে আফ্রিকার ইতিহাসে যে স্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি হয়েছিল, তার মর্মস্পর্শী চিত্র প্রকাশ পেয়েছে।

চিহ্ন স্থাপনকারী: এখানে ‘চিরচিহ্ন’ রেখে যাওয়া শক্তি হলো সাম্রাজ্যবাদী দস্যু ও দাস-ব্যবসায়ীরা, যাদের কবি ‘মানুষ-ধরার দল’ হিসেবে চিত্রিত করেছেন।

চিহ্ন স্থাপনের পদ্ধতি: তারা আফ্রিকায় এসে মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়েছে, দাসত্ব চাপিয়েছে এবং সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। এই শোষণের ফলে অসংখ্য মানুষের রক্ত ও অশ্রু ঝরেছে। সেই নিষ্ঠুরতার স্মৃতিই আফ্রিকার ইতিহাসে স্থায়ী কলঙ্কের চিহ্ন হয়ে রয়েছে।

চিরচিহ্নের স্বরূপ:
১. বাহ্যিক প্রতীক: ‘দস্যু-পায়ের কাঁটা-মারা জুতোর তলার কাদার পিণ্ড’ শোষণের কদর্য চিহ্নের প্রতীক।
২. ঐতিহাসিক ক্ষত: এটি আফ্রিকার ইতিহাসে পরাধীনতা, লাঞ্ছনা ও অত্যাচারের স্থায়ী স্মৃতি।
৩. নৈতিক কলঙ্ক: এই চিহ্ন শোষক সভ্যতার তথাকথিত সভ্যতার মুখোশের আড়ালে থাকা বর্বরতার প্রমাণ।

উপসংহার: তাই ‘চিরচিহ্ন’ শুধু আফ্রিকার নয়, সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার বিবেকেও লেগে থাকা এক চিরস্থায়ী কলঙ্ক।

৬. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় প্রকৃতির যে দুটি ভিন্ন রূপ ও পরিবেশের ছবি আঁকা হয়েছে, তা নিজের ভাষায় আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: ‘আফ্রিকা’ কবিতায় একদিকে আফ্রিকার আদিম, দুর্গম ও রহস্যময় পরিবেশ, অন্যদিকে সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার শান্ত ও সংস্কৃতিময় দৈনন্দিন জীবনের একটি বৈপরীত্যপূর্ণ ছবি দেখা যায়।

আফ্রিকার পরিবেশ: আফ্রিকার প্রকৃতি ছিল দুর্গম, অরণ্যাবৃত, রহস্যময় ও ভয়ংকর। ‘বনস্পতির নিবিড় পাহারা’, ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুর’, ‘সূর্যহারা অরণ্য’ ইত্যাদি চিত্রকল্পে তার ঘন অরণ্য ও আলো-আঁধারির পরিবেশ ফুটে উঠেছে। এই প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই আফ্রিকার আদিম মানুষ জীবনযাপন করত।

অন্য পরিবেশের চিত্র: কবিতার পরবর্তী অংশে পশ্চিমের তথাকথিত সভ্য সমাজের একটি শান্ত পরিবেশের ছবি দেখা যায়। সেখানে দয়াময় দেবতার নামে পূজার ঘণ্টা বাজে, শিশুরা মায়ের কোলে খেলে এবং কবিরা ‘সুন্দরকে আরাধনায়’ মগ্ন থাকে।

বৈপরীত্যের তাৎপর্য: এই দুই পরিবেশের বৈপরীত্যের মাধ্যমে কবি দেখিয়েছেন যে, যে সভ্য সমাজ নিজের দেশে শান্তি, ধর্ম ও সৌন্দর্যের চর্চা করে, তারই প্রতিনিধি অন্য ভূখণ্ডে শোষণ ও অত্যাচার চালিয়েছিল।

উপসংহার: ফলে প্রকৃতির ও পরিবেশের এই বৈপরীত্য সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার দ্বিচারিতা ও নৈতিক ভণ্ডামি প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।

৭. ‘আফ্রিকা’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথের কবি-কল্পনা ও ঐতিহাসিক চেতনার মেলবন্ধন কীভাবে ঘটেছে, তা আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: ‘আফ্রিকা’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথের কল্পনাশক্তি ও ইতিহাস-সচেতনতা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক শোষণের বিষয়টি কাব্যিক ও মানবিক রূপ পেয়েছে।

কবি-কল্পনার প্রকাশ: কবিতার শুরুতেই আফ্রিকার জন্মবৃত্তান্তকে পৌরাণিক কল্পনার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘রুদ্র সমুদ্রের বাহু’, ‘বনস্পতির নিবিড় পাহারা’, ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুর’ প্রভৃতি কল্পচিত্র আফ্রিকার রহস্যময় আদিম রূপ সৃষ্টি করেছে। আবার আফ্রিকাকে ‘মানহারা মানবী’ হিসেবে কল্পনা এবং ‘যুগান্তরের কবি’র প্রতি আহ্বান কবির সৃজনশীল কল্পনার পরিচয় দেয়।

ঐতিহাসিক চেতনা: এই কল্পনার আড়ালে রয়েছে আফ্রিকার উপর ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শোষণ, দাসব্যবসা ও সাম্রাজ্যবাদী অত্যাচারের ইতিহাস। ‘লোহার হাতকড়ি’, ‘মানুষ-ধরার দল’, ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ প্রভৃতি অভিব্যক্তিতে সেই ঐতিহাসিক বাস্তবতার ইঙ্গিত রয়েছে।

মেলবন্ধন: কবি ইতিহাসকে সরাসরি তথ্যের আকারে প্রকাশ করেননি। বরং রূপক, প্রতীক, চিত্রকল্প ও পৌরাণিক কল্পনার সাহায্যে ঐতিহাসিক সত্যকে শিল্পরূপ দিয়েছেন। ফলে আফ্রিকার ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা থেকে শুরু করে তার উপর সাম্রাজ্যবাদী অত্যাচার পর্যন্ত সমস্ত বিষয় একটি সুসংবদ্ধ কাব্যিক রূপ লাভ করেছে।

উপসংহার: তাই ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কল্পনার সৌন্দর্য ও ইতিহাসের নির্মম সত্য মিলেমিশে এক গভীর মানবতাবাদী শিল্পসৃষ্টি গড়ে উঠেছে।

৮. ‘আফ্রিকা’ কবিতার মূল বক্তব্য বা বিষয়বস্তু নিজের ভাষায় আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভূমিকা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি শুধু একটি মহাদেশের বর্ণনা নয়; এটি সাম্রাজ্যবাদী শোষণ, মানবিকতার অবমাননা এবং বিশ্বমানবতার পক্ষে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ।

আফ্রিকার সৃষ্টি ও বিচ্ছিন্নতা: কবিতার শুরুতে কবি পৌরাণিক কল্পনায় আফ্রিকার জন্ম ও বিচ্ছিন্নতার কথা বলেছেন। স্রষ্টা তাকে ‘প্রাচী ধরিত্রীর বুক’ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে রুদ্র সমুদ্রের মাধ্যমে এক নির্জন ও রহস্যময় পরিবেশে স্থাপন করেছিলেন।

সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন: পরে আফ্রিকায় আসে ‘লোহার হাতকড়ি’ হাতে ‘মানুষ-ধরার দল’। তারা আফ্রিকার মানুষের স্বাধীনতা ও মর্যাদা হরণ করে এবং শোষণ ও অত্যাচার চালায়। তাদের লোভকে কবি বলেছেন ‘সভ্যের বর্বর লোভ’।

শোষণ ও লাঞ্ছনা: সাম্রাজ্যবাদী অত্যাচারে আফ্রিকার ইতিহাস হয়ে ওঠে ‘অপমানিত’ ও ‘পঙ্কিল’। মানুষের রক্ত, অশ্রু ও অব্যক্ত কান্না সেই ইতিহাসের বেদনাকে আরও গভীর করে।

মানবিক আবেদন: কবিতার শেষে কবি ‘যুগান্তরের কবি’র মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মানবসমাজকে ‘মানহারা মানবী’ আফ্রিকার কাছে দাঁড়িয়ে ‘ক্ষমা করো’ বলতে বলেছেন। এই ক্ষমা প্রার্থনা অতীতের অন্যায়ের নৈতিক স্বীকৃতি ও মানবিকতার পুনর্জাগরণের প্রতীক।

উপসংহার: সুতরাং, ‘আফ্রিকা’ কবিতার কেন্দ্রে রয়েছে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী প্রতিবাদ, নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা এবং বিশ্বমানবতার আহ্বান।

৯. “তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী/হয়ে উঠুক ‘ক্ষমা করো’।” — এই পঙক্তিটির তাৎপর্য ও কবির মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দাও।

উত্তরঃ ভূমিকা: কবিতার শেষের এই পঙক্তি দুটি সমগ্র কবিতার মানবিক ও নৈতিক বক্তব্যকে একত্র করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অতীতের অন্যায়ের জন্য অনুতাপ এবং ভবিষ্যতের মানবিক সভ্যতার প্রত্যাশা।

‘ক্ষমা করো’-এর তাৎপর্য: ‘ক্ষমা করো’ বলা মানে নিজের অন্যায়কে স্বীকার করা এবং তার জন্য অনুতপ্ত হওয়া। আফ্রিকার উপর সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার যে অত্যাচার ও শোষণ সংঘটিত হয়েছিল, কবি তার নৈতিক দায় স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘পুণ্যবাণী’র অর্থ: ক্ষমা প্রার্থনার মধ্যে রয়েছে অনুশোচনা, মানবিকতা ও নৈতিক উত্তরণের সম্ভাবনা। তাই কবি একে ‘শেষ পুণ্যবাণী’ বলেছেন।

মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি: রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকার বেদনার মধ্যে সমগ্র মানবজাতির বেদনা অনুভব করেছেন। তিনি কোনো জাতি বা ভূখণ্ডের সংকীর্ণ স্বার্থে আবদ্ধ না থেকে মানুষের মর্যাদা ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

বিশ্বমানবতার বার্তা: কবি প্রতিশোধের পরিবর্তে অনুশোচনা, ঘৃণার পরিবর্তে সহমর্মিতা এবং শোষণের পরিবর্তে মর্যাদার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর বিশ্বজনীন মানবতাবাদের পরিচয় বহন করে।

উপসংহার: তাই ‘ক্ষমা করো’ শুধু একটি শব্দ নয়; এটি সভ্যতার আত্মসমালোচনা ও মানবিক পুনর্জাগরণের আহ্বান।

১০. “পশ্চিম দিগন্তে…”— এই সময়ে সাম্রাজ্যবাদীদের নিজেদের দেশে কী ঘটছিল? কবি এই বৈপরীত্য কেন দেখিয়েছেন?

উত্তরঃ ভূমিকা: ‘আফ্রিকা’ কবিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকৌশল হলো আফ্রিকায় সাম্রাজ্যবাদীদের বর্বরতার সঙ্গে তাদের নিজেদের দেশের শান্ত ও সভ্য জীবনের বৈপরীত্য তুলে ধরা।

নিজেদের দেশের চিত্র: যখন আফ্রিকায় শোষণ ও অত্যাচার চলছিল, তখন পশ্চিমের তথাকথিত সভ্য সমাজে—
১. সকাল-সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নামে পূজার ঘণ্টা বাজছিল।
২. শিশুরা মায়ের কোলে নিশ্চিন্তে খেলছিল।
৩. কবিরা সুন্দরকে আরাধনায় মগ্ন ছিলেন।

অর্থাৎ, সেখানে ধর্ম, পরিবার, সৌন্দর্য ও সংস্কৃতির একটি শান্ত পরিবেশ বিদ্যমান ছিল।

বৈপরীত্যের কারণ: কবি এই বৈপরীত্য দেখিয়েছেন সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার ভণ্ডামি ও দ্বিচারিতা প্রকাশ করার জন্য। যে সমাজ নিজের দেশে ধর্ম ও মানবিকতার কথা বলে, তারই প্রতিনিধিরা অন্য দেশে গিয়ে মানুষকে দাসত্ব ও অত্যাচারের শিকার করেছিল।

নৈতিক বৈপরীত্য: একদিকে দয়াময় দেবতার উপাসনা, অন্যদিকে মানুষের উপর নির্মম অত্যাচার—এই দুই বিপরীত আচরণ তথাকথিত সভ্যতার নৈতিক অধঃপতনকে স্পষ্ট করে।

আফ্রিকার বেদনার তীব্রতা: এই বৈপরীত্য আফ্রিকার দুর্দশাকে আরও মর্মস্পর্শী করে তোলে। কারণ অত্যাচারকারীরা অজ্ঞ বা অসভ্য ছিল না; তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করা সমাজের প্রতিনিধি ছিল।

উপসংহার: তাই এই বৈপরীত্যের মাধ্যমে কবি সাম্রাজ্যবাদী সভ্যতার নির্লজ্জ অমানুষতা ও নৈতিক ভণ্ডামিকে তীব্রভাবে উন্মোচিত করেছেন।

Madhyamik All Subjects Suggestion | মাধ্যমিক সাজেশন:

PDF: আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer PDF Download

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer PDF Download: আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর সহ একটি PDF File শিক্ষার্থীদের revision-এর সুবিধার জন্য দেওয়া হলো।

PDF Download: আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer PDF Click Here

আমাদের YouTube Channel টি সাবস্ক্রাইব করুন  Click Here To Subscribe Now

West Bengal Class 10 Bengali Board Exam Details

West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) conducts the Madhyamik Examination for Class 10 students across West Bengal. Bengali is one of the important subjects in the Madhyamik Board Exam, and students need to prepare each chapter carefully according to the prescribed syllabus. Here you will find useful Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer, study materials, important questions and other resources to help students prepare effectively for the Class 10 Bengali Board Exam.

Madhyamik Bengali Afrika Syllabus PDF

Madhyamik Bengali Afrika ‘আফ্রিকা’ (কবিতা) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সিলেবাস অনুযায়ী অধ্যায়টি মন দিয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি বারবার অনুশীলন করা।

Madhyamik Bengali Syllabus PDF: Click Here

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer

Madhyamik Bengali Afrika আফ্রিকা (কবিতা) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে অধ্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নির্বাচিত MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীরা এগুলি ভালোভাবে পড়তে এবং নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে।

West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Afrika Suggestion Question and Answer

West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Afrika Suggestion Question and Answer খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্টে ‘আফ্রিকা’ কবিতা – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision করার পাশাপাশি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নোত্তরগু,লি সহায়ক হবে।

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Afrika Question and Answer

আশা করি, ‘Madhyamik Bengali Afrika’ ‘আফ্রিকা (কবিতা) – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’-এর এই প্রশ্নোত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসবে। পোস্টটি উপকারী মনে হলে সহপাঠীদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারো। West Bengal Board-এর সিলেবাস অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের Notes, Question Answer, Suggestion ও শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু, পাশাপাশি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় Study Material পেতে নিয়মিত ভিজিট করো Porasuna.in। ধন্যবাদ।