প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer
প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer: নমস্কার বন্ধুরা, আজকের আলোচনার বিষয় ‘প্রলয়োল্লাস’ (কবিতা) – কাজী নজরুল ইসলাম, যা মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এই পোস্টে WBBSE Class 10 Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer-এর পাশাপাশি কবিতা থেকে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি ভালোভাবে পড়া এবং অনুশীলন করা অত্যন্ত উপকারী।
যেসব ছাত্রছাত্রী প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর, WBBSE Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer অথবা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা প্রশ্নোত্তর খুঁজছো, তারা এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়তে পারো। প্রলয়োল্লাস কবিতা থেকে পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যা West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Exam Preparation এবং Revision-এর সময় বিশেষভাবে কাজে আসবে।
| বোর্ড | ডাব্লিউ বি সি এইচ এস ই (WBBSE) |
| ক্লাস | মাধ্যমিক দশম শ্রেণী (WB Class 10 Madhyamik) |
| বিষয় | মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা (Madhyamik Bengali) |
| পাঠ | প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম |
প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Proloyullash Question and Answer
বহুনির্বাচনী : প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash MCQ [প্রশ্নমান – ১]
১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটির কবি কে?
(ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) জীবনানন্দ দাশ
(গ) কাজী নজরুল ইসলাম
(ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
উত্তরঃ (গ) কাজী নজরুল ইসলাম
২. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
(ক) বিষের বাঁশি
(খ) ভাঙার গান
(গ) অগ্নিবীণা
(ঘ) সর্বহারা
উত্তরঃ (গ) অগ্নিবীণা
৩. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থটি কোন সালে প্রকাশিত হয়?
(ক) ১৯২০
(খ) ১৯২২
(গ) ১৯২৪
(ঘ) ১৯২৬
উত্তরঃ (খ) ১৯২২
৪. “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে”—কীসের ঝড়ে?
(ক) কালবৈশাখীর
(খ) আশ্বিনের
(গ) পশ্চিমী
(ঘ) সাইক্লোনের
উত্তরঃ (ক) কালবৈশাখীর
৫. “আসছে এবার অনাগত”—‘অনাগত’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) শিশুকে
(খ) প্রলয়-নেশায় নৃত্য-পাগল শক্তিকে
(গ) দেবতাকে
(ঘ) ভবিষ্যৎ কবিকে
উত্তরঃ (খ) প্রলয়-নেশায় নৃত্য-পাগল শক্তিকে
৬. “সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে” কী ধমক হেনে আগল ভাঙল?
(ক) বজ্র
(খ) ঢেউ
(গ) কামান
(ঘ) প্রলয়-শক্তি
উত্তরঃ (ঘ) প্রলয়-শক্তি
৭. ‘কেতন’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) চিহ্ন
(খ) পোশাক
(গ) পতাকা
(ঘ) মুকুট
উত্তরঃ (গ) পতাকা
৮. “বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আসছে ভয়ঙ্কর”—কে আসছে?
(ক) কবি
(খ) ভয়ঙ্কর প্রলয়-শক্তি
(গ) দেবদূত
(ঘ) বিপ্লবী
উত্তরঃ (খ) ভয়ঙ্কর প্রলয়-শক্তি
৯. “ওরে ঐ হাসছে ভয়ঙ্কর”—এখানে ‘ভয়ঙ্কর’ কাকে বোঝায়?
(ক) কালবৈশাখীকে
(খ) প্রলয়ংকর শক্তিকে
(গ) ধূমকেতুকে
(ঘ) মহাসমুদ্রকে
উত্তরঃ (খ) প্রলয়ংকর শক্তিকে
১০. “ঝামর তাহার কেশের দোলায়”—এখানে ‘ঝামর’ কী?
(ক) এক ধরনের অলংকার
(খ) জটাজুট/এলোমেলো কেশের ভাব
(গ) একটি অস্ত্র
(ঘ) একটি বাদ্যযন্ত্র
উত্তরঃ (খ) জটাজুট/এলোমেলো কেশের ভাব
১১. “সর্বনাশী জ্বালামুখী ধূমকেতু”—কার চামর ঢুলায়?
(ক) কবির
(খ) ভয়ঙ্করের
(গ) মহাকালের
(ঘ) কালবৈশাখীর
উত্তরঃ (খ) ভয়ঙ্করের
১২. “রক্ত তাহার কৃপাণ ঝোলে”—‘কৃপাণ’ শব্দের অর্থ কী?
(ক) ঢাল
(খ) খড়্গ বা তরবারি
(গ) বর্শা
(ঘ) তীর
উত্তরঃ (খ) খড়্গ বা তরবারি
১৩. “অট্টরোলের হট্টগোলে” স্তব্ধ হয় কী?
(ক) জগৎ
(খ) চরাচর
(গ) আকাশ
(ঘ) বাতাস
উত্তরঃ (খ) চরাচর
১৪. “দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা” কোথায় দেখা যায়?
(ক) আকাশে
(খ) ভয়ঙ্করের নয়ন-কটায়
(গ) কবির চোখে
(ঘ) সমুদ্রের মধ্যে
উত্তরঃ (খ) ভয়ঙ্করের নয়ন-কটায়
১৫. ‘দ্বাদশ রবি’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) বারোটি গ্রহ
(খ) বারোটি নক্ষত্র
(গ) পৌরাণিক কল্পনায় বারোটি সূর্য
(ঘ) বারো মাস
উত্তরঃ (গ) পৌরাণিক কল্পনায় বারোটি সূর্য
১৬. “দিগন্তরের কাঁদন লুটায়”—কার ত্রস্ত জটায়?
(ক) কবির
(খ) ভয়ঙ্করের
(গ) মহাকালের
(ঘ) শিশুর
উত্তরঃ (খ) ভয়ঙ্করের
১৭. “বিন্দু তাহার নয়ন-জলে / সপ্ত মহাসিন্ধু দোলে”—কার নয়ন-জল?
(ক) কবির
(খ) বিশ্বমায়ের
(গ) ভয়ঙ্করের
(ঘ) প্রলয়ের শিকারের
উত্তরঃ (গ) ভয়ঙ্করের
১৮. “বিশ্ব-মায়ের আসন” কোথায়?
(ক) আকাশে
(খ) মন্দিরে
(গ) ভয়ঙ্করের বিপুল বাহুর ‘পর
(ঘ) পাতালে
উত্তরঃ (গ) ভয়ঙ্করের বিপুল বাহুর ‘পর
১৯. “হাঁকে ঐ ‘জয় প্রলয়ঙ্কর!’”—কে প্রলয়ঙ্করের জয়ধ্বনি করে?
(ক) কবি
(খ) বিশ্বমা
(গ) ভয়ঙ্কর শক্তি নিজেই
(ঘ) সাধারণ মানুষ
উত্তরঃ (গ) ভয়ঙ্কর শক্তি নিজেই
২০. “মাভৈঃ” শব্দের অর্থ কী?
(ক) ভয় পেয়ো না
(খ) ভয় পাও
(গ) ভয়ানক
(ঘ) ভয় এসেছে
উত্তরঃ (ক) ভয় পেয়ো না
২১. “জগৎ জুড়ে প্রলয় এবার ঘনিয়ে আসে”—এর পর কী আসবে?
(ক) নতুন রাত
(খ) ঊষা
(গ) ঝড়
(ঘ) মৃত্যু
উত্তরঃ (খ) ঊষা
২২. “জরায়-মরা মুমূর্ষুদের প্রাণ”—কোথায় লুকানো আছে?
(ক) অন্ধকারে
(খ) বিনাশে
(গ) আকাশে
(ঘ) সমুদ্রে
উত্তরঃ (খ) বিনাশে
২৩. “এবার মহা-নিশার শেষে”—কী আসবে?
(ক) সন্ধ্যা
(খ) নতুন রাত্রি
(গ) ঊষা
(ঘ) ঝড়
উত্তরঃ (গ) ঊষা
২৪. “আসবে ঊষা অরুণ হেসে”—ঊষা কীভাবে আসবে?
(ক) ভয়ঙ্কর বেশে
(খ) অরুণ হেসে
(গ) কান্না করতে করতে
(ঘ) অন্ধকারের মধ্যে
উত্তরঃ (খ) অরুণ হেসে
২৫. “দিগম্বরের জটায় লুটায়”—কী?
(ক) উল্কা
(খ) শিশু-চাঁদের কর
(গ) ধূমকেতু
(ঘ) সূর্যের আলো
উত্তরঃ (খ) শিশু-চাঁদের কর
২৬. ‘দিগম্বর’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
(ক) বিষ্ণু
(খ) ব্রহ্মা
(গ) মহাদেব বা শিব
(ঘ) ইন্দ্র
উত্তরঃ (গ) মহাদেব বা শিব
২৭. “আলো তার ভরবে এবার ঘর”—কিসের আলো?
(ক) সূর্যের
(খ) শিশু-চাঁদের করের
(গ) বিদ্যুতের
(ঘ) ধূমকেতুর
উত্তরঃ (খ) শিশু-চাঁদের করের
২৮. ‘মহাকাল-সারথি’ কী করেন?
(ক) গান করেন
(খ) রথ পরিচালনা করেন
(গ) যুদ্ধ থামান
(ঘ) পূজা করেন
উত্তরঃ (খ) রথ পরিচালনা করেন
২৯. “রক্ত-তড়িত-চাবুক হানে”—কিসের চাবুক?
(ক) রক্ত-তড়িতের
(খ) লোহার
(গ) আগুনের
(ঘ) বজ্রের
উত্তরঃ (ক) রক্ত-তড়িতের
৩০. “রণিয়ে ওঠে হ্রেষার কাঁদন”—কিসের শব্দে?
(ক) বজ্র-গানে, ঝড়-তুফানে
(খ) নদীর জলে
(গ) পাখির ডাকে
(ঘ) মানুষের কান্নায়
উত্তরঃ (ক) বজ্র-গানে, ঝড়-তুফানে
৩১. “খুরের দাপট তারায় লেগে”—কী ছুটায়?
(ক) বজ্র
(খ) উল্কা
(গ) ধূমকেতু
(ঘ) বিদ্যুৎ
উত্তরঃ (খ) উল্কা
৩২. ‘উল্কা’ কী?
(ক) সমুদ্রের ঢেউ
(খ) আকাশ থেকে খসে পড়া জ্বলন্ত বস্তু
(গ) একটি নক্ষত্র
(ঘ) একটি গ্রহ
উত্তরঃ (খ) আকাশ থেকে খসে পড়া জ্বলন্ত বস্তু
৩৩. “অন্ধ কারার বন্ধ কূপে”—কারা বাঁধা?
(ক) মানুষ
(খ) দেবতা
(গ) কবি
(ঘ) সৈনিক
উত্তরঃ (খ) দেবতা
৩৪. “দেবতা বাঁধা যজ্ঞ-যূপে”—‘যূপ’ কী?
(ক) যজ্ঞের স্তম্ভ
(খ) যুদ্ধের অস্ত্র
(গ) মন্দিরের চূড়া
(ঘ) রথের দণ্ড
উত্তরঃ (ক) যজ্ঞের স্তম্ভ
৩৫. “এই তো রে তার আসার সময়”—কিসের শব্দ শোনা যায়?
(ক) শঙ্খধ্বনি
(খ) রথ-ঘর্ঘর
(গ) যুদ্ধের দামামা
(ঘ) বাঁশির সুর
উত্তরঃ (খ) রথ-ঘর্ঘর
৩৬. “ধ্বংস দেখে ভয় কেন তোর?”—কবি ধ্বংসকে কী হিসেবে দেখেছেন?
(ক) চরম বিপর্যয়
(খ) নতুন সৃজনের বেদন
(গ) মৃত্যুর প্রতীক
(ঘ) পরাজয়ের লক্ষণ
উত্তরঃ (খ) নতুন সৃজনের বেদন
৩৭. “প্রলয় নূতন সৃজন-বেদন”—এখানে প্রলয়ের সঙ্গে কী যুক্ত হয়েছে?
(ক) আনন্দ
(খ) নতুন সৃষ্টির বেদনা
(গ) পরাজয়
(ঘ) নিস্তব্ধতা
উত্তরঃ (খ) নতুন সৃষ্টির বেদনা
৩৮. “আসছে নবীন”—নবীন কী করতে আসছে?
(ক) খেলতে
(খ) গান গাইতে
(গ) জীবন-হারা অ-সুন্দরকে ছেদন করতে
(ঘ) বিশ্রাম নিতে
উত্তরঃ (গ) জীবন-হারা অ-সুন্দরকে ছেদন করতে
৩৯. “অ-সুন্দর” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) কুৎসিত প্রকৃতি
(খ) জীর্ণ, অন্যায় ও অমানবিক পুরোনো ব্যবস্থাকে
(গ) শিশুকে
(ঘ) সৌন্দর্যকে
উত্তরঃ (খ) জীর্ণ, অন্যায় ও অমানবিক পুরোনো ব্যবস্থাকে
৪০. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে”—‘সে’ কে?
(ক) কবি
(খ) মানুষ
(গ) চির-সুন্দর
(ঘ) প্রকৃতি
উত্তরঃ (গ) চির-সুন্দর
৪১. ‘চির-সুন্দর’ কী করতে জানে?
(ক) শুধু ধ্বংস করতে
(খ) ভেঙে আবার গড়তে
(গ) শুধু সৃষ্টি করতে
(ঘ) যুদ্ধ করতে
উত্তরঃ (খ) ভেঙে আবার গড়তে
৪২. “বধূরা প্রদীপ তুলে ধর”—কেন?
(ক) পূজা করার জন্য
(খ) অন্ধকার দূর করার জন্য
(গ) কাল-ভয়ঙ্করকে বরণ করার জন্য
(ঘ) উৎসব করার জন্য
উত্তরঃ (গ) কাল-ভয়ঙ্করকে বরণ করার জন্য
৪৩. “কাল-ভয়ঙ্করের বেশে এবার ঐ আসে সুন্দর”—এখানে কী ভাব প্রকাশ পেয়েছে?
(ক) ভয়ের মধ্যেও সুন্দরের আবির্ভাব
(খ) সৌন্দর্যের বিনাশ
(গ) প্রকৃতির রুদ্রতা
(ঘ) মৃত্যুর ভয়
উত্তরঃ (ক) ভয়ের মধ্যেও সুন্দরের আবির্ভাব
৪৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয় কীসের প্রতীক?
(ক) নিছক ধ্বংসের
(খ) বিপ্লবী পরিবর্তন ও নবসৃষ্টির
(গ) ব্যক্তিগত দুঃখের
(ঘ) প্রকৃতির সৌন্দর্যের
উত্তরঃ (খ) বিপ্লবী পরিবর্তন ও নবসৃষ্টির
৪৫. কবি ধ্বংসকে ভয় না করতে বলেছেন কেন?
(ক) ধ্বংসের পরে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে
(খ) ধ্বংস কখনও ঘটে না
(গ) ধ্বংস আনন্দের বিষয়
(ঘ) ধ্বংসই জীবনের শেষ কথা
উত্তরঃ (ক) ধ্বংসের পরে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে
৪৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কোন দেবতার উল্লেখ রয়েছে?
(ক) বিষ্ণু
(খ) ব্রহ্মা
(গ) শিব বা মহাদেব
(ঘ) ইন্দ্র
উত্তরঃ (গ) শিব বা মহাদেব
৪৭. “দিগম্বরের জটায়”—‘দিগম্বর’ নামটি কার সঙ্গে যুক্ত?
(ক) মহাদেবের
(খ) বিষ্ণুর
(গ) ব্রহ্মার
(ঘ) সূর্যের
উত্তরঃ (ক) মহাদেবের
৪৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার প্রধান ভাব কী?
(ক) প্রেম
(খ) প্রলয়ের মধ্য দিয়ে নবসৃষ্টির আহ্বান
(গ) প্রকৃতির সৌন্দর্য
(ঘ) ব্যক্তিগত বিরহ
উত্তরঃ (খ) প্রলয়ের মধ্য দিয়ে নবসৃষ্টির আহ্বান
৪৯. কবিতাটিতে প্রলয়ের শেষে কীসের আগমনের ইঙ্গিত রয়েছে?
(ক) আরও অন্ধকারের
(খ) নতুন ঊষা ও আলোর
(গ) মৃত্যুর
(ঘ) পরাজয়ের
উত্তরঃ (খ) নতুন ঊষা ও আলোর
৫০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার শেষে কবি কী আহ্বান জানিয়েছেন?
(ক) সবাইকে নীরব থাকতে
(খ) সবাইকে জয়ধ্বনি করতে
(গ) সবাইকে ভয় পেতে
(ঘ) সবাইকে ঘরে ফিরে যেতে
উত্তরঃ (খ) সবাইকে জয়ধ্বনি করতে
[Madhyamik Bengali Suggestion Click Here]
অতিসংক্ষিপ্ত : প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা | WBBSE Madhyamik Bengali Proloyullash SAQ [প্রশ্নমান – ১]
১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
উত্তরঃ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
২. কবি কাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?
উত্তরঃ কবি পরাধীন ও নিপীড়িত মানুষদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
৩. নূতনের কেতন কীসের ঝড়ে ওড়ে?
উত্তরঃ নূতনের কেতন কালবৈশাখীর ঝড়ে ওড়ে।
৪. ‘দিগম্বর’ কে?
উত্তরঃ ‘দিগম্বর’ হলেন মহাদেব বা শিব।
৫. দিগম্বরের জটায় কী হাসে?
উত্তরঃ দিগম্বরের জটায় শিশু-চাঁদের কর হাসে।
৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘প্রলয়োল্লাস’ শব্দের অর্থ প্রলয়ের মধ্যেও আনন্দ বা উল্লাস।
৭. সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে কে আঘাত করে?
উত্তরঃ প্রলয়ংকর শক্তি সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে আঘাত করে।
৮. ‘দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা’ কোথায় জ্বলে?
উত্তরঃ ‘দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা’ ভয়ঙ্করের নয়ন-কটায় জ্বলে।
৯. ‘ঝামর’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘ঝামর’ শব্দের অর্থ এলোমেলো বা রুক্ষ কেশের ভাব।
১০. ‘চিরসুন্দর’ কে?
উত্তরঃ প্রলয়ংকর ভাঙনকারী শক্তিই ‘চিরসুন্দর’।
১১. কবি কী করতে বারণ করেছেন?
উত্তরঃ কবি প্রলয়কে দেখে ভয় করতে বারণ করেছেন।
১২. ‘রক্ত-মাখা কৃপাণ’ হাতে কে আসে?
উত্তরঃ ‘রক্ত-মাখা কৃপাণ’ হাতে ভয়ঙ্কর আসে।
১৩. বধূদের কী করতে বলা হয়েছে?
উত্তরঃ বধূদের প্রদীপ তুলে ধরে কাল-ভয়ঙ্করকে বরণ করতে বলা হয়েছে।
১৪. ‘মহানিশার শেষে’ কী আসবে?
উত্তরঃ ‘মহানিশার শেষে’ অরুণ হেসে ঊষা আসবে।
১৫. ‘কেতন’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘কেতন’ শব্দের অর্থ পতাকা।
১৬. কাল-ভয়ঙ্করের বেশে কে আসে?
উত্তরঃ সুন্দর কাল-ভয়ঙ্করের বেশে আসে।
১৭. নবীন কী করতে আসে?
উত্তরঃ নবীন জীবনহারা অ-সুন্দরকে ছেদন করতে আসে।
১৮. ‘অট্টরোলের হট্টগোলে’ কী স্তব্ধ হয়?
উত্তরঃ ‘অট্টরোলের হট্টগোলে’ চরাচর স্তব্ধ হয়।
১৯. ‘কৃপাণ’ কী?
উত্তরঃ ‘কৃপাণ’ হলো খড়্গ বা তরবারি।
২০. ‘ঈশান-বিষাণে’ কী দুলছে?
উত্তরঃ প্রলয়ের রুদ্ররূপ ঈশান-বিষাণের প্রতীকে দুলছে।
২১. জগৎ জুড়ে কী ঘনিয়ে আসছে?
উত্তরঃ জগৎ জুড়ে প্রলয়-নিশা ঘনিয়ে আসছে।
২২. ‘বিপুল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘বিপুল’ শব্দের অর্থ বিশাল বা বৃহৎ।
২৩. বিশ্বমায়ের আসন কোথায়?
উত্তরঃ বিশ্বমায়ের আসন বিপুলের বুকে।
২৪. ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘মাভৈঃ’ শব্দের অর্থ ভয় পেয়ো না।
২৫. ‘জরায়-মৃত’ কাদের বলা হয়েছে?
উত্তরঃ জরাগ্রস্ত ও মৃত্যুপথযাত্রী মানুষদের ‘জরায়-মৃত’ বলা হয়েছে।
২৬. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর”—এই পঙক্তিতে কী আহ্বান জানানো হয়েছে?
উত্তরঃ এই পঙক্তিতে প্রলয়ংকর পরিবর্তন ও নবসৃষ্টিকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
২৭. কবি নজরুল কীসের কবি হিসেবে পরিচিত?
উত্তরঃ কবি নজরুল ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত।
২৮. কবিতায় ধ্বংসের দেবতার রূপ কেমন?
উত্তরঃ কবিতায় ধ্বংসের দেবতা ভয়ঙ্কর, অথচ তিনিই চিরসুন্দর।
২৯. কালবৈশাখীর ঝড় কিসের প্রতীক?
উত্তরঃ কালবৈশাখীর ঝড় নতুনের আগমন ও বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রতীক।
৩০. ‘সিন্ধু-পার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘সিন্ধু-পার’ বলতে সমুদ্রের ওপারের শক্তিশালী শাসক বা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতীকী অবস্থান বোঝানো হয়েছে।
৩১. কবিতার শেষে কবি কীসের আশা প্রকাশ করেছেন?
উত্তরঃ কবিতার শেষে কবি নতুন ঊষা ও নতুন যুগের আগমনের আশা প্রকাশ করেছেন।
৩২. ‘অ-সুন্দর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘অ-সুন্দর’ বলতে জীর্ণ, অন্যায়, অত্যাচারপূর্ণ ও জরাগ্রস্ত পুরোনো ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়েছে।
৩৩. ‘প্রলয়-নিশা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘প্রলয়-নিশা’ শব্দের অর্থ প্রলয়ের রাত বা ধ্বংসের অন্ধকারময় সময়।
৩৪. কবিতার মাধ্যমে কবি কাদের উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন?
উত্তরঃ কবি পরাধীন ও নিপীড়িত ভারতবাসীকে নতুন পরিবর্তনের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন।
৩৫. ‘রণ’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘রণ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ।
৩৬. উল্কা কীভাবে ছোটে?
উত্তরঃ নীল খিলানের অর্গল ভেঙে উল্কা ছোটে।
৩৭. প্রদীপ তুলে ধরতে বলা হয়েছে কেন?
উত্তরঃ কাল-ভয়ঙ্করের বেশে আগত সুন্দরকে বরণ করার জন্য প্রদীপ তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
৩৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি কোন সময়ের ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত?
উত্তরঃ ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাটি পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা ও বিপ্লবী জাগরণের ভাবধারার সঙ্গে যুক্ত।
৩৯. মহাকাল কীভাবে রথ পরিচালনা করেন?
উত্তরঃ মহাকাল রক্ত-তড়িতের চাবুক হেনে রথ পরিচালনা করেন।
৪০. কবি কেন হাসতে বলেছেন?
উত্তরঃ কারণ প্রলয়ের মহানিশার শেষে নতুন ঊষা ও নবজীবনের আগমন ঘটবে, তাই কবি হাসতে বলেছেন।
[Madhyamik Suggestion Click Here]
সংক্ষিপ্ত : প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash QNA [প্রশ্নমান – ৩]
১. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর”—কবি কাদের, কেন জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?
উত্তরঃ কবি পরাধীন ও নিপীড়িত দেশবাসীকে জয়ধ্বনি করতে বলেছেন। কারণ, যে প্রলয়ংকর শক্তির আগমন ঘটছে, তা শুধু ধ্বংসের জন্য নয়; পুরোনো, জীর্ণ ও অন্যায় ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন যুগের সূচনা করার জন্য। তাই নতুনের আগমনকে আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানাতেই কবি জয়ধ্বনি করতে বলেছেন।
২. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর”—‘সে’ কে? এই পঙক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ এখানে ‘সে’ বলতে প্রলয়ংকর মহাকাল বা শিবের রূপকে বোঝানো হয়েছে। তিনি ধ্বংসের প্রতীক হলেও ধ্বংসের পরেই নতুন সৃষ্টি করেন। পঙক্তিটির তাৎপর্য হলো, ধ্বংসই শেষ কথা নয়; ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। পুরোনো ও জীর্ণকে ভেঙেই নতুন সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
৩. “ওই নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড়”—ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ এখানে ‘কালবোশেখীর ঝড়’ প্রলয় ও বিপ্লবী পরিবর্তনের প্রতীক। আর ‘নূতনের কেতন’ হলো নতুন যুগ ও নতুন জীবনের প্রতীক। কবি বোঝাতে চেয়েছেন, কালবৈশাখীর মতো প্রচণ্ড পরিবর্তন ও ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন যুগের পতাকা উড়ে ওঠে।
৪. দিগম্বরের জটায় শিশু-চাঁদের কর হাসার তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ ‘দিগম্বর’ হলেন মহাদেব বা শিব, যাঁর জটা ধ্বংসের রুদ্ররূপের প্রতীক। সেই জটায় ‘শিশু-চাঁদের কর’ বা কিরণ হাসছে। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, ধ্বংসের মধ্যেও নতুন সৃষ্টি, আশা ও সৌন্দর্যের আলো লুকিয়ে থাকে।
৫. “আসছে নবীন—জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!”—‘নবীন’ ও ‘অ-সুন্দর’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘নবীন’ বলতে নতুন যুগের বিপ্লবী ও পরিবর্তনকারী শক্তিকে বোঝানো হয়েছে। ‘অ-সুন্দর’ বলতে জীর্ণ, প্রাণহীন, অন্যায় ও অত্যাচারে পূর্ণ পুরোনো ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। নবীন শক্তি সেই অ-সুন্দরকে দূর করে নতুন ও সুন্দর জীবন প্রতিষ্ঠা করতে আসে।
৬. “এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে”—এই পঙক্তিটির মাধ্যমে কবি কীসের ইঙ্গিত দিয়েছেন?
উত্তরঃ ‘মহানিশা’ এখানে অন্ধকার, পরাধীনতা ও সংকটের প্রতীক। কবি বিশ্বাস করেন, এই অন্ধকার চিরস্থায়ী নয়। এর শেষে ‘ঊষা’ বা নতুন দিনের আগমন ঘটবে। ‘অরুণ হেসে’ কথাটি নতুন যুগের আনন্দ ও আশার প্রতীক।
৭. সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বারে ধূমকেতুকে আঘাত হানতে বলা হয়েছে কেন?
উত্তরঃ ‘সিন্ধু-পারের সিংহ-দ্বার’ কবিতায় দূরবর্তী শক্তিশালী শাসক বা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রতীক। ধূমকেতুর আঘাত হলো প্রবল পরিবর্তন ও বিপ্লবের প্রতীক। কবি চেয়েছেন, প্রচণ্ড বিপ্লবী শক্তি অত্যাচারী ও শোষণমূলক শক্তির দুর্গে আঘাত হেনে পুরোনো শাসনব্যবস্থাকে ভেঙে দিক।
৮. “বধূরা প্রদীপ তুলে ধর”—বধূদের প্রতি কবির এই আহ্বানের কারণ কী?
উত্তরঃ প্রদীপ তুলে ধরা এখানে মঙ্গল ও বরণের প্রতীক। কবি প্রলয়কে শুধু ধ্বংসকারী শক্তি হিসেবে দেখেননি; তার মধ্যেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখেছেন। তাই বধূদের প্রদীপ তুলে কাল-ভয়ঙ্করের বেশে আগত সুন্দরকে বরণ করতে বলেছেন।
৯. “বিশ্বমায়ের আসন” এবং “বিপুলের বুকে”—এই শব্দগুচ্ছের তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ ‘বিশ্বমায়ের আসন’ বলতে বিশাল বিশ্বজগতের বুকে তাঁর অবস্থান বোঝানো হয়েছে। ‘বিপুলের বুকে’ কথাটি বিশ্বজগতের বিশালতাকে প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে কবি সর্বব্যাপী, বিশাল ও উদার সৃষ্টির ধারণা প্রকাশ করেছেন।
১০. ‘প্রলয়’ এবং ‘উল্লাস’—এই দুটি বিপরীতধর্মী বিষয় কবিতায় কীভাবে একসঙ্গে এসেছে?
উত্তরঃ ‘প্রলয়’ সাধারণত ধ্বংস ও ভয়ের প্রতীক, আর ‘উল্লাস’ আনন্দের প্রতীক। কবি দেখিয়েছেন, পুরোনো ও জীর্ণকে ধ্বংস করার মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির পথ তৈরি হয়। তাই ধ্বংসের ভয়ের মধ্যেও নতুন জীবনের আনন্দ রয়েছে। এই কারণেই প্রলয়ের সঙ্গে উল্লাসের মিলন ঘটেছে।
১১. ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের নামকরণের সার্থকতা কী?
উত্তরঃ ‘অগ্নিবীণা’ শব্দটি ‘অগ্নি’ ও ‘বীণা’র সমন্বয়ে গঠিত। অগ্নি বিদ্রোহ, বিপ্লব ও তেজের প্রতীক, আর বীণা সুর, সৌন্দর্য ও সৃষ্টির প্রতীক। নজরুলের কাব্যে বিদ্রোহের আগুনের পাশাপাশি প্রেম, সৌন্দর্য ও সৃষ্টির সুরও রয়েছে। তাই ‘অগ্নিবীণা’ নামটি যথার্থ।
১২. “রক্ত-মাখা-কৃপাণ”—এই চিত্রকল্পটি কীসের প্রতীক?
উত্তরঃ ‘কৃপাণ’ হলো তরবারি। ‘রক্ত-মাখা-কৃপাণ’ সংগ্রাম, যুদ্ধ, ধ্বংস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এর মাধ্যমে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, নতুন যুগ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম সহজ নয়; এর সঙ্গে ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বাস্তবতাও যুক্ত।
১৩. “ওই আসে সুন্দর/কাল-ভয়ঙ্করের বেশে”—সুন্দর কীভাবে কাল-ভয়ঙ্করের বেশে আসে?
উত্তরঃ ‘সুন্দর’ এখানে নতুন যুগ, মুক্তি ও নবসৃষ্টির প্রতীক। কিন্তু সেই সুন্দর সরাসরি শান্ত রূপে আসে না; পুরোনো অন্যায় ও জীর্ণতাকে ধ্বংস করার জন্য সে ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে। তাই সুন্দরের আগমন ঘটে প্রলয় ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে।
১৪. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ ‘প্রলয়োল্লাস’-এ নজরুলের বিদ্রোহী ও বিপ্লবী সত্তা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত। তিনি পুরোনো, জীর্ণ ও অন্যায় ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন যুগ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রলয়কে তিনি ভয় না পেয়ে স্বাগত জানিয়েছেন এবং অত্যাচারী শক্তির বিরুদ্ধে আঘাতের প্রতীকী আহ্বান জানিয়েছেন। এভাবেই তাঁর অন্যায়বিরোধী ও পরিবর্তনকামী মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
১৫. “স্তব্ধ চরাচর”—চরাচর কেন স্তব্ধ হয়ে যায়?
উত্তরঃ প্রলয়ংকর শক্তির অট্টহাসি ও প্রচণ্ড হট্টগোলের অভিঘাতে সমগ্র চরাচর স্তব্ধ হয়ে যায়। এই চিত্রকল্পে প্রলয়ের ভয়াবহতা ও সর্বগ্রাসী শক্তিকে প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ধ্বংসের মুহূর্তের এক মহাজাগতিক আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
১৬. “দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা”—এই চিত্রকল্প ব্যবহারের কারণ কী?
উত্তরঃ পৌরাণিক কল্পনায় দ্বাদশ সূর্যের প্রচণ্ড তাপ মহাপ্রলয়ের ভয়াবহতার প্রতীক। কবি ভয়ঙ্করের চোখের আগুনকে ‘দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁর অসীম তেজ, শক্তি ও ধ্বংসক্ষমতার তীব্রতা প্রকাশ পেয়েছে।
১৭. “জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন”—‘ছেদন’ শব্দটি কেন ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তরঃ ‘ছেদন’ অর্থ কেটে ফেলা বা বিচ্ছিন্ন করা। কবি এই শব্দের মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন যে, জীর্ণ ও অন্যায় ব্যবস্থাকে সামান্য পরিবর্তন করলেই হবে না; তাকে মূল থেকে দূর করতে হবে। শব্দটির মধ্যে বিপ্লবী শক্তির দৃঢ়তা ও আপসহীন মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে।
১৮. কবি কেন দেশবাসীকে ভয় পেতে বারণ করেছেন?
উত্তরঃ প্রলয় আপাতদৃষ্টিতে ভয়ঙ্কর হলেও কবির কাছে তা নতুন সৃষ্টির পূর্বলক্ষণ। পুরোনো, জীর্ণ ও অন্যায় ব্যবস্থা ধ্বংস না হলে নতুন যুগের সৃষ্টি সম্ভব নয়। তাই কবি দেশবাসীকে ভয় না পেয়ে প্রলয়ংকর পরিবর্তনকে সাহসের সঙ্গে গ্রহণ করতে বলেছেন।
১৯. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর”—এই আহ্বান কাদের প্রতি এবং কেন?
উত্তরঃ এই আহ্বান পরাধীন ও নিপীড়িত দেশবাসীর প্রতি। কবি তাদের জয়ধ্বনি করতে বলেছেন, কারণ প্রলয়ংকর শক্তির আগমন পুরোনো শোষণ ও জীর্ণতার অবসান ঘটিয়ে নতুন যুগের সূচনা করবে। তাই তার আগমনকে ভয় না পেয়ে আনন্দের সঙ্গে বরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০. কবিতায় ব্যবহৃত পৌরাণিক অনুষঙ্গগুলির উল্লেখ করো।
উত্তরঃ কবিতায় ‘দিগম্বর’ বা শিব, শিশু-চাঁদ, দ্বাদশ রবি এবং মহাকাল প্রভৃতি পৌরাণিক অনুষঙ্গ ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলির সাহায্যে কবি প্রলয় ও সৃষ্টির ভাবকে মহাজাগতিক মাত্রা দিয়েছেন। বিশেষত শিবের ধ্বংস ও সৃষ্টির দ্বৈত রূপ কবিতার মূল ভাবকে শক্তিশালী করেছে।
২১. “ওই আসছে ভয়ঙ্কর”—‘ভয়ঙ্কর’-এর রূপের বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ ভয়ঙ্কর রুক্ষ কেশ দুলিয়ে, ভয়াবহ রণবেশে আসছে। তার নয়নে দ্বাদশ রবির মতো অগ্নি, হাতে রক্তমাখা কৃপাণ এবং সে বজ্র-শিখার মশাল জ্বেলে আসে। তার এই রুদ্ররূপের মধ্যেও নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে।
২২. “ওই ভাঙা-গড়া খেলা যে তার”—এই খেলার স্বরূপ কী?
উত্তরঃ এই ‘ভাঙা-গড়া’ হলো ধ্বংস ও সৃষ্টির চিরন্তন প্রক্রিয়া। প্রথমে পুরোনো, জীর্ণ ও অন্যায়কে ভেঙে ফেলতে হয়; তারপর সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ও সুন্দর ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তাই মহাকালের কাছে ভাঙা ও গড়া একই সৃষ্টিচক্রের দুটি দিক।
২৩. “নীল খিলানের অর্গল”—‘খিলান’ ও ‘অর্গল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘খিলান’ অর্থ খিলান বা বাঁকানো ছাদ/দ্বার, আর ‘অর্গল’ অর্থ দরজার বন্ধনী বা খিল। কবি ‘নীল খিলান’ বলতে নীল আকাশের প্রতীকী রূপ বুঝিয়েছেন। ‘অর্গল ভাঙা’ বলতে আকাশের বন্ধন ভেঙে উল্কা বা প্রলয়শক্তির আবির্ভাবকে বোঝানো হয়েছে।
২৪. “জরায়-মৃত”—কাদের বলা হয়েছে? তাদের জন্য কবি কী করছেন?
উত্তরঃ ‘জরায়-মৃত’ বলতে জরাগ্রস্ত, মৃতপ্রায় ও প্রাণশক্তিহীন সত্তাদের বোঝানো হয়েছে। তাদের জন্য কবির মনে বেদনা ও করুণার সুর রয়েছে। তবে কবির দৃষ্টিতে তাদের অবসানের মধ্য দিয়েই নতুনের জন্য স্থান তৈরি হবে।
২৫. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি কীভাবে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন?
উত্তরঃ কবি প্রলয় ও ধ্বংসের ভয়াবহতার মধ্যেও নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখেছেন। “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর” এবং “এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে”—এই পঙক্তিগুলিতে তাঁর আশাবাদ স্পষ্ট। অর্থাৎ অন্ধকার ও ধ্বংসের শেষে নতুন আলো, নতুন জীবন ও নতুন যুগের আবির্ভাব ঘটবে—এই বিশ্বাসই কবিতার মূল আশাবাদ।
রচনাধর্মী : প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash LAQ [প্রশ্নমান – ৫]
১. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।
উত্তরঃ ভূমিকা: যেকোনো সাহিত্যের নামকরণ তার বিষয়বস্তু ও মূল ভাবের পরিচায়ক। কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার নামটি ‘প্রলয়’ ও ‘উল্লাস’—এই দুটি আপাত-বিপরীত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। কবিতার মূল ভাবের সঙ্গে এই নামটি গভীরভাবে সম্পর্কিত।
‘প্রলয়’-এর প্রকাশ: কবিতা জুড়ে কবি এক ভয়ংকর ধ্বংসশক্তির ছবি এঁকেছেন। “কাল-ভয়ঙ্করের বেশে” যে শক্তির আগমন, তার হাতে “রক্ত-মাখা-কৃপাণ”, “বজ্র-শিখার মশাল” এবং চারদিকে “অট্টরোলের হট্টগোল”—এসব চিত্র প্রলয়ের ভয়াবহ রূপকে প্রকাশ করেছে। এই প্রলয় পুরনো, জীর্ণ, অন্যায় ও অসুন্দর ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে উদ্যত।
‘উল্লাস’-এর প্রকাশ: কবি এই ধ্বংসকে ভয় করেননি; বরং তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাই তিনি আহ্বান করেছেন—“তোরা সব জয়ধ্বনি কর”। কারণ এই ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা নিহিত। প্রলয় “জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন” করে নতুন ও সুন্দর যুগের পথ তৈরি করবে। তাই মহানিশার শেষে “আসবে ঊষা অরুণ হেসে”।
সার্থকতা: কবিতায় ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টির আনন্দ নিহিত। তাই ‘প্রলয়’ এখানে ভয়ের নয়, ‘উল্লাস’-এর কারণ। ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুনের আবাহনই কবিতার মূল সুর। সেই কারণে ‘প্রলয়োল্লাস’ নামকরণটি অত্যন্ত সার্থক ও তাৎপর্যপূর্ণ।
২. “ভেঙে আবার গড়তে জানে সে চিরসুন্দর।” — ‘সে’ কে? তার ভাঙা-গড়ার খেলার স্বরূপটি কবিতার বিষয়বস্তু অবলম্বনে বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ ‘সে’-এর পরিচয়: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ‘সে’ বলতে প্রলয়ংকর শিব বা মহাকালকে বোঝানো হয়েছে। পৌরাণিক ধারণায় শিব যেমন ধ্বংসের দেবতা, তেমনই ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির প্রতীক। এই দ্বৈত সত্তার কারণেই তিনি ‘চিরসুন্দর’।
ভাঙার খেলা: ‘ভাঙা’ বলতে পুরনো, জীর্ণ, অসুন্দর ও অন্যায় ব্যবস্থার ধ্বংসকে বোঝানো হয়েছে। কবিতায় এই ধ্বংসশক্তির হাতে “রক্ত-মাখা-কৃপাণ” এবং তার হাতে “বজ্র-শিখার মশাল” দেখা যায়। প্রলয়ংকর শক্তি পুরনো ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুনের পথ তৈরি করে।
গড়ার খেলা: এই ধ্বংসই শেষ কথা নয়। পুরনোকে ধ্বংস করে নতুন ও সুন্দর জগতের সৃষ্টি করাই এর উদ্দেশ্য। তাই প্রলয়ের মহানিশার শেষে নতুন ঊষার আগমন ঘটে। “নূতনের কেতন” নতুন যুগের আবাহনের প্রতীক।
উপসংহার: সুতরাং, মহাকালের ভাঙা-গড়ার খেলা আসলে ধ্বংস ও সৃষ্টির চিরন্তন প্রক্রিয়া। জীর্ণ ও অসুন্দরকে ধ্বংস করে নতুন ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করাই এই ভাঙা-গড়ার মূল উদ্দেশ্য।
৩. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি প্রলয়ের যে ভয়ঙ্কর রূপ চিত্রিত করেছেন, তা নিজের ভাষায় লেখো। এই ভয়ঙ্কর রূপের মধ্যে কবি কীভাবে আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন?
উত্তরঃ ভূমিকা: কাজী নজরুল ইসলাম ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় প্রলয়ের এক ভয়ংকর অথচ সৃষ্টিশীল রূপ চিত্রিত করেছেন। একদিকে এর মধ্যে ধ্বংসের আতঙ্ক, অন্যদিকে রয়েছে নতুন জীবনের আশাবাদ।
প্রলয়ের ভয়ঙ্কর রূপ: কবি প্রলয়কে এক জীবন্ত ও শক্তিশালী সত্তা হিসেবে কল্পনা করেছেন। সে আসছে “কাল-ভয়ঙ্করের বেশে”। তার রুক্ষ কেশ দুলছে, তার চোখে “দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা”, হাতে “রক্ত-মাখা-কৃপাণ” এবং সে “বজ্র-শিখার মশাল” জ্বেলে আসছে। তার অট্টহাসিতে “স্তব্ধ চরাচর”। ধূমকেতু, উল্কা, ঝড় ও অগ্নির চিত্র প্রলয়ের ভয়াবহতাকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
আশার আলোর সন্ধান: এই ভয়ংকরতার মধ্যেই কবি আশার আলো দেখতে পেয়েছেন।
১. ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টি: শিবের জটায় “শিশু-চাঁদের কর” হাসে। অর্থাৎ ধ্বংসের মধ্যেও নতুন সৃষ্টির আলো নিহিত থাকে।
২. অ-সুন্দরের বিনাশ: প্রলয় “জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন” করতে আসে। তাই এই ধ্বংস নতুন ও সুন্দর জীবনের পথ প্রশস্ত করে।
৩. নতুন ভোরের ইঙ্গিত: কবির চূড়ান্ত আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে—“এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে”। অর্থাৎ ধ্বংসের অন্ধকারের পরেই নতুন দিনের সূচনা হবে।
উপসংহার: তাই প্রলয়ের ভয়ংকর রূপের মধ্যেও কবি সৃষ্টির সম্ভাবনা ও নতুন দিনের আশার আলো খুঁজে পেয়েছেন।
৪. “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” — কবি কাদের এবং কেন বারবার জয়ধ্বনি করতে বলেছেন?
উত্তরঃ ভূমিকা: “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” পঙক্তিটি কবিতায় বারবার ফিরে এসে এক শক্তিশালী আহ্বানের সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে কবি পরাধীন ও বিপন্ন দেশবাসীর মনে সাহস ও উদ্দীপনা জাগাতে চেয়েছেন।
আহ্বানের লক্ষ্য: কবি মূলত পরাধীন, হতাশ ও ভীত ভারতবাসীকে এই জয়ধ্বনি করতে বলেছেন। তাদের ভয় দূর করে নতুন পরিবর্তনের প্রতি আস্থা স্থাপন করাই তাঁর উদ্দেশ্য।
জয়ধ্বনির কারণ:
১. প্রলয়কে স্বাগত জানানো: যে প্রলয়ংকর শক্তি আসছে, তার উদ্দেশ্য পুরনো ও জীর্ণ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে নতুন যুগের সূচনা করা। তাই তাকে ভয় না পেয়ে স্বাগত জানাতে বলা হয়েছে।
২. ভয়কে জয় করা: জয়ধ্বনি সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। এর মাধ্যমে কবি মানুষকে ভয় কাটিয়ে উঠতে বলেছেন।
৩. আত্মবিশ্বাস জাগানো: জয়ধ্বনির মাধ্যমে মানুষের মনে শক্তি, সাহস ও পরিবর্তনের প্রতি বিশ্বাস সৃষ্টি হয়।
৪. নতুনের আবাহন: “নূতনের কেতন” উড়ছে। তাই নতুন যুগের আগমনকে স্বাগত জানাতেই জয়ধ্বনির আহ্বান।
উপসংহার: সুতরাং, “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” শুধু একটি আনন্দধ্বনি নয়; এটি ভয়কে জয় করে নতুন যুগকে সাহসের সঙ্গে বরণ করে নেওয়ার সম্মিলিত আহ্বান।
৫. “আসছে নবীন-জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন!” — এই পঙক্তিটির আলোকে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল বক্তব্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ ভূমিকা: এই পঙক্তিটি ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতার মূল বক্তব্যকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কবির কাছে প্রলয়ের উদ্দেশ্য নিছক ধ্বংস নয়; বরং পুরনো ও অসুন্দরকে সরিয়ে নতুন জীবনের প্রতিষ্ঠা।
‘নবীন’: এখানে ‘নবীন’ বলতে শুধু তরুণ প্রজন্মকে বোঝানো হয়নি। এটি নতুন, পরিবর্তনমুখী ও বিপ্লবী শক্তির প্রতীক।
‘জীবন-হারা অ-সুন্দর’: এর দ্বারা কবি জীর্ণ, প্রাণহীন, অন্যায় ও অত্যাচারপূর্ণ পুরনো ব্যবস্থাকে বুঝিয়েছেন।
‘করতে ছেদন’: ‘ছেদন’ অর্থ কেটে ফেলা বা বিচ্ছিন্ন করা। অর্থাৎ নতুন শক্তি পুরনো ও অসুন্দর ব্যবস্থাকে দূর করে নতুন জীবনের পথ তৈরি করবে।
মূল বক্তব্যের সঙ্গে সম্পর্ক: কবিতার মূল বক্তব্য হলো—ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হয়। প্রলয়ের উদ্দেশ্য শুধু ধ্বংস নয়; ‘অ-সুন্দর’-কে দূর করে নতুন জীবন, সৌন্দর্য ও আশার প্রতিষ্ঠা করা। তাই কবি প্রলয়কে ভয় না করে তাকে উল্লাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে বলেছেন।
উপসংহার: এই পঙক্তিতে কবিতার ধ্বংসাত্মক ও সৃষ্টিশীল—উভয় দিকই প্রকাশ পেয়েছে। তাই এটি কবিতার মূল বক্তব্যের অন্যতম প্রধান বাহক।
৬. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি একদিকে ধ্বংসের ছবি এঁকেছেন, আবার অন্যদিকে নতুন আশার বাণী শুনিয়েছেন। এই দ্বৈত ভাবনার প্রকাশ কবিতা অবলম্বনে আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূমিকা: ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় ধ্বংস ও সৃষ্টির দ্বৈত ভাবনা অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি প্রলয়ের ভয়াবহতার মধ্যেই নতুন জীবনের সম্ভাবনা দেখেছেন।
ধ্বংসের ছবি: প্রলয় আসছে “কাল-ভয়ঙ্করের বেশে”। তার হাতে “রক্ত-মাখা-কৃপাণ”, সে “বজ্র-শিখার মশাল” জ্বেলে আসছে। তার অট্টহাসিতে চরাচর স্তব্ধ হয়ে যায়। ধূমকেতু, উল্কা, ঝড় ও অগ্নির চিত্র প্রলয়ের ধ্বংসাত্মক রূপকে স্পষ্ট করেছে।
নতুন আশার বাণী:
১. ধ্বংসের মধ্যেই সৃষ্টি: শিবের জটায় “শিশু-চাঁদের কর” হাসে। অর্থাৎ ধ্বংসের মধ্যেই নতুন সৃষ্টির আলো নিহিত।
২. অ-সুন্দরের বিনাশ: প্রলয়ের উদ্দেশ্য “জীবন-হারা অ-সুন্দরে করতে ছেদন”। পুরনো জীর্ণতাকে সরিয়ে নতুনকে প্রতিষ্ঠা করাই এর লক্ষ্য।
৩. নতুন ভোরের আগমন: “এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে”—এই পঙক্তিতে কবির চূড়ান্ত আশাবাদ প্রকাশ পেয়েছে।
উপসংহার: সুতরাং, কবিতায় ধ্বংস কখনও শেষ লক্ষ্য নয়; ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন সৃষ্টি ও নতুন যুগের সূচনা ঘটে। এই দ্বৈত ভাবনাই ‘প্রলয়োল্লাস’-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।
৭. “ওই ভাঙা-গড়া খেলা যে তার” — ‘তার’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? তার এই ভাঙা-গড়া খেলার স্বরূপ ও উদ্দেশ্য কবিতা অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ পরিচয়: ‘তার’ বলতে এখানে মহাকাল বা প্রলয়ংকর শিবকে বোঝানো হয়েছে। পৌরাণিক ধারণায় শিব ধ্বংসের সঙ্গে সঙ্গে নতুন সৃষ্টিরও প্রতীক।
ভাঙা-গড়ার স্বরূপ: এই ভাঙা-গড়া হলো ধ্বংস ও সৃষ্টির চিরন্তন প্রক্রিয়া।
ভাঙা: যখন জীর্ণতা, অন্যায়, অত্যাচার ও স্থবিরতা সমাজকে গ্রাস করে, তখন প্রলয়শক্তি সেই পুরনো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে। কবিতায় ঝড়, ধূমকেতু, উল্কা, বজ্র ও রক্তমাখা কৃপাণের চিত্র এই ধ্বংসের প্রতীক।
গড়া: ধ্বংসের পরেই নতুন সৃষ্টির পথ খুলে যায়। “নূতনের কেতন” এবং “আসবে ঊষা অরুণ হেসে”—এই চিত্রকল্পগুলিতে নতুন যুগের আগমন প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দেশ্য: পুরনো, জীর্ণ, অসুন্দর ও প্রাণহীন ব্যবস্থাকে সরিয়ে নতুন, সুন্দর ও প্রাণবন্ত জীবন প্রতিষ্ঠাই এই ভাঙা-গড়ার উদ্দেশ্য।
উপসংহার: তাই মহাকালের ভাঙা-গড়ার খেলা আসলে ধ্বংসের মাধ্যমে সৃষ্টির পথ প্রস্তুত করার চিরন্তন প্রক্রিয়া।
৮. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় কবি যে সমস্ত পৌরাণিক ও প্রাকৃতিক চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন, তার পরিচয় ও সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূমিকা: কাজী নজরুল ইসলাম ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতায় পৌরাণিক ও প্রাকৃতিক চিত্রকল্পের মাধ্যমে প্রলয়ের ভয়াবহতা, শক্তি এবং সৃষ্টিশীলতাকে অত্যন্ত জীবন্ত করে তুলেছেন।
পৌরাণিক চিত্রকল্প:
১. দিগম্বর ও শিশু-চাঁদ: প্রলয়ংকর শক্তিকে শিব বা ‘দিগম্বর’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তাঁর জটায় শিশু-চাঁদের আলো ধ্বংসের মধ্যেও সৃষ্টির সম্ভাবনার প্রতীক।
২. দ্বাদশ রবি: প্রলয়শক্তির চোখের আগুনকে “দ্বাদশ রবির বহ্নি-জ্বালা”-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তার অসীম তেজ ও ধ্বংসশক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
প্রাকৃতিক চিত্রকল্প:
১. কালবৈশাখী: কালবৈশাখীর ঝড়ের মতো প্রলয়শক্তিও পুরনো ও জীর্ণতাকে উড়িয়ে দিয়ে নতুন যুগের পথ তৈরি করে।
২. ধূমকেতু ও উল্কা: ধূমকেতু ও উল্কার আকস্মিক ও তীব্র আবির্ভাব প্রলয়ের প্রবল ও ধ্বংসাত্মক শক্তিকে মূর্ত করে তুলেছে।
সার্থকতা: পৌরাণিক চিত্রকল্পগুলি ধ্বংস ও সৃষ্টির চিরন্তন সত্যকে প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক চিত্রকল্পগুলি প্রলয়ের তীব্রতা, গতি ও ব্যাপকতাকে দৃশ্যমান করেছে। ফলে কবিতার ভাব আরও শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত হয়েছে।
৯. “এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে” — ‘মহানিশা’ ও ‘ঊষা’ কিসের প্রতীক? এই পঙক্তিটির মধ্যে দিয়ে কবির যে চরম আশাবাদ ফুটে উঠেছে, তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ ‘মহানিশা’: ‘মহানিশা’ শুধু গভীর রাতের অর্থ বহন করে না; এটি অন্ধকার, হতাশা, শোষণ, বঞ্চনা ও পরাধীনতার প্রতীক। কবিতার প্রেক্ষাপটে এটি এক অন্ধকার ও সংকটময় সময়কে নির্দেশ করে।
‘ঊষা’: ঊষা বা ভোর নতুন দিনের সূচনার প্রতীক। এখানে এটি মুক্তি, নতুন জীবন, নতুন যুগ ও আশার প্রতীক। “অরুণ হেসে” কথাটিতে নতুন দিনের উজ্জ্বল ও আনন্দময় সম্ভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।
কবির চরম আশাবাদ: কবি বিশ্বাস করেন, কোনো অন্ধকারই চিরস্থায়ী নয়। যেমন গভীর রাতের শেষে ভোর আসে, তেমনই অন্ধকার সময়ের পর নতুন দিনের সূচনা হবে। প্রলয়ের মধ্য দিয়েই সেই নতুন যুগের পথ তৈরি হবে।
উপসংহার: তাই “এবার মহানিশার শেষে/আসবে ঊষা অরুণ হেসে”—এই পঙক্তি কবিতার চরম আশাবাদ, নতুন জীবনের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাসের প্রতীক।
১০. ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাকে একটি জাগরণমূলক কবিতা বলা যায় কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তরঃ ভূমিকা: হ্যাঁ, ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতাকে একটি সার্থক জাগরণমূলক কবিতা বলা যায়। কবি এই কবিতার মাধ্যমে মানুষের ভয় ও হতাশা দূর করে তাদের মনে সাহস, শক্তি ও নতুন চেতনা জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন।
১. ভয়কে জয় করার আহ্বান: “তোরা সব জয়ধ্বনি কর”—এই আহ্বানের মাধ্যমে কবি ভয়কে জয় করে প্রলয়শক্তিকে স্বাগত জানাতে বলেছেন।
২. নতুনের আবাহন: কবি দেখিয়েছেন, প্রলয়ের মধ্য দিয়েই ‘নবীন’-এর আগমন ঘটছে। তাই নতুন যুগের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান মানুষের মনে আশার সঞ্চার করে।
৩. সক্রিয়তার আহ্বান: “বধূরা প্রদীপ তুলে ধর”—এই আহ্বানের মাধ্যমে নতুনের আগমনকে স্বাগত জানানোর জন্য সকলকে প্রস্তুত হতে বলা হয়েছে। এতে সম্মিলিত জাগরণের ভাব প্রকাশ পেয়েছে।
৪. উদ্দীপক শব্দ ও ছন্দ: “অট্টরোলের হট্টগোলে”, “রক্ত-মাখা-কৃপাণ”, “জয়ধ্বনি কর” প্রভৃতি শক্তিশালী শব্দ ও দ্রুতগতি ছন্দ পাঠকের মনে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
উপসংহার: কবিতাটি মানুষকে ভয়, হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা থেকে মুক্ত করে সাহস, আশা ও পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানায়। তাই ‘প্রলয়োল্লাস’ নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী জাগরণমূলক কবিতা।
Madhyamik All Subjects Suggestion | মাধ্যমিক সাজেশন:
- Madhyamik Bengali Suggestion Click Here
- Madhyamik English Suggestion Click Here
- Madhyamik History Suggestion Click Here
- Madhyamik Geography Suggestion Click Here
- Madhyamik Life Science Suggestion Click Here
- Madhyamik Mathematics Suggestion Click Here
- Madhyamik Physical Science Suggestion Click Here
- Madhyamik All Subjects Suggestion Click Here
PDF: প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer PDF Download
প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer PDF Download: প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর সহ একটি PDF File শিক্ষার্থীদের revision-এর সুবিধার জন্য দেওয়া হলো।
PDF Download: প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer PDF Click Here
| আমাদের YouTube Channel টি সাবস্ক্রাইব করুন Click Here To Subscribe Now |
West Bengal Class 10 Bengali Board Exam Details
West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) conducts the Madhyamik Examination for Class 10 students across West Bengal. Bengali is one of the important subjects in the Madhyamik Board Exam, and students need to prepare each chapter carefully according to the prescribed syllabus. Here you will find useful Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer, study materials, important questions and other resources to help students prepare effectively for the Class 10 Bengali Board Exam.
Madhyamik Bengali Proloyullash Syllabus PDF
Madhyamik Bengali Proloyullash ‘প্রলয়োল্লাস’ (কবিতা) – কাজী নজরুল ইসলাম অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সিলেবাস অনুযায়ী অধ্যায়টি মন দিয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি বারবার অনুশীলন করা।
Madhyamik Bengali Syllabus PDF: Click Here
প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer
Madhyamik Bengali Proloyullash প্রলয়োল্লাস (কবিতা) – কাজী নজরুল ইসলাম থেকে মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে অধ্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নির্বাচিত MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীরা এগুলি ভালোভাবে পড়তে এবং নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে।
West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Proloyullash Suggestion Question and Answer
West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Proloyullash Suggestion Question and Answer খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্টে ‘প্রলয়োল্লাস’ কবিতা – কাজী নজরুল ইসলাম অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision করার পাশাপাশি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নোত্তরগু,লি সহায়ক হবে।
প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Proloyullash Question and Answer
আশা করি, ‘Madhyamik Bengali Proloyullash’ ‘প্রলয়োল্লাস (কবিতা) – কাজী নজরুল ইসলাম’-এর এই প্রশ্নোত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসবে। পোস্টটি উপকারী মনে হলে সহপাঠীদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারো। West Bengal Board-এর সিলেবাস অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের Notes, Question Answer, Suggestion ও শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু, পাশাপাশি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় Study Material পেতে নিয়মিত ভিজিট করো Porasuna.in। ধন্যবাদ।





















