দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer
দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer : নমস্কার, বন্ধুরা আজকের আলোচ্য বিষয় দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer নিচে দেওয়া হলো। এই দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা – Class 9 Bengali Dam Golpo থেকে MCQ, SAQ, Description Question and Answer, Notes গুলি আগামী নবম শ্রেণীর বাংলা পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট।
আপনার যারা দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা – West Bengal WBBSE Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer খুঁজে চলেছেন, তারা নিচে দেওয়া প্রশ্ন ও উত্তর গুলো ভালো করে পড়তে পারেন।
| বোর্ড | ডাব্লিউ বি সি এইচ এস ই (WBBSE) |
| ক্লাস | নবম শ্রেণী (WB Class 9) |
| বিষয় | নবম শ্রেণীর বাংলা |
| পাঠ | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় |
দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer
বহুনির্বাচনী : দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo MCQ [প্রশ্নমান – ১]
১. কথককে যে নামে অংকের শিক্ষক ডেকেছিলেন —
(A) বিভূতি
(B) সুকুমার
(C) বিমল
(D) তারিণী
উত্তর: (B) সুকুমার।
২. গল্প কথক তার বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথের উক্তি ব্যবহার করেছিলেন —
(A) ৩১ টি
(B) ১৩ টি
(C) ২১ টি
(D) ১২ টি
উত্তর: (D) ১২ টি।
৩. গল্প কথক ইংরেজি কোটেশন যার নামে চালিয়েছিলেন —
(A) উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
(B) জন মিল্টন
(C) জর্জ বার্নাড শ
(D) এমিলী যেন ব্রন্টে
উত্তর: (C) জর্জ বার্নাড শ।
৪. “সেই কুবেরের ভান্ডারকে ধরে দিয়েও যা পাওয়া যায় না” —
(A) সম্পদ
(B) জ্ঞান
(C) ক্ষমা
(D) সোনাদানা
উত্তর: (C) ক্ষমা।
৫. ‘স্কুলে কি বিভীষিকায় যে ছিলেন’ — স্কুলে বিভীষিকা ছিলেন —
(A) মাস্টারমশাই
(B) সুকুমার
(C) ভদ্রলোক
(D) কর্তৃপক্ষ
উত্তর: (C) ভদ্রলোক।
৬. মাস্টারমশাই যে বিষয় পড়াতেন —
(A) ইংরেজি
(B) অংক
(C) ভূগোল
(D) সংস্কৃত
উত্তর: (B) অংক।
৭. খসখস করে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে চলত —
(A) কলম
(B) খড়ি
(C) পেনসিল
(D) ডাস্টার
উত্তর: (B) খড়ি।
৮. মাস্টারমশাই ছবির মতো সাজিয়ে দিতেন —
(A) ব্যাকরণ
(B) ভূগোল
(C) অংক
(D) ইংরেজি
উত্তর: (C) অংক।
৯. “পৃথিবীতে যত _____ ছিল, সব যেন ওঁর মুখস্থ” — কি?
(A) গল্প
(B) অংক
(C) কবিতা
(D) ব্যাকরণ
উত্তর: (B) অংক।
১০. প্লেটোর দোরগোড়ায় লেখা ছিল —
(A) বাংলাদেশের কলেজে বক্তৃতা দিতে হবে
(B) স্মৃতির দিকে তাকাবার অবসর নেই
(C) যে অংক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ
(D) সেখানে রাজোচিত সংবর্ধনা পাওয়া যাবে।
উত্তর: (C) যে অংক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ।
১১. সুকুমার তার মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে পত্রিকা সম্পাদকের কাছ থেকে পেয়েছিলেন-
(A) দশ টাকা
(B) বারো টাকা
(C) পনেরো টাকা
(D) কুড়ি টাকা
উত্তর: (A) দশ টাকা।
১২. কলকাতা থেকে কেউ বাইরে গেলে সংবর্ধনা মেলে-
(A) বীরোচিত
(B) যথোচিত
(C) রাজোচিত
(D) ভদ্রোচিত
উত্তর: (C) রাজোচিত।
১৩. “সভায় জাঁকিয়ে বক্তৃতা করা গেল।” সভাটি ছিল –
(A) সুকুমার রায়ের কলেজে
(B) বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে
(C) কলকাতা এক নামী কলেজে
(D) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে
উত্তর: খ) বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজে।
১৪. “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়। এখানে ‘পঞ্চত্ব’ শব্দের অর্থ-
(A) ক্ষতি
(B) হানি
(C) মৃত্যু
(D) সমস্যা
উত্তর: (C) মৃত্যু
১৫. “কার একটা ইংরেজি কোটেশন চালিয়ে দিলুম — নামে”। –
(A) টেনিসনের
(B) বায়রনের
(C) শেকসপিয়রের
(D) বার্নার্ড শ-র
উত্তর: (D) বার্নার্ড শ-র নামে।
১৬. সুকুমার পেশায় ছিলেন-
(A) ডাক্তার
(B) অধ্যাপক
(C) ইঞ্জিনিয়ার
(D) সাংবাদিক
উত্তর: (D) সাংবাদিক
১৭. এম এ পাস করার পরেও সুকুমার দুঃস্বপ্ন দেখতেন –
(A) পরীক্ষায় অঙ্ক না মেলার
(B) চাকরি না পাওয়ার
(C) স্কুলে শাস্তি পাওয়ার
(D) খেলায় জিততে না পারার
উত্তর: (A) পরীক্ষায় অঙ্ক না মেলার।
১৮. অঙ্কে যারা একশোর মধ্যে একশো পায়, তারা-
(A) ওঁর ভয়ে কান্নাকাটি করত
(B) ওঁর ভয়ে অজ্ঞান হত
(C) ওঁর জন্য অপেক্ষা করত
(D) ওঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত।
উত্তর: (D) ওঁর ভয়ে তটস্থ হয়ে থাকত।
১৯. “…কাঁদবার জো ছিল না।” – এই কাঁদবার উপায় না থাকার কারণ-
(A) ক্লাসের অন্য ছেলেদের সামনে কাঁদতে লজ্জা করত
(B) চোখের জল মাস্টারমশাই সহ্য করতে পারতেন না
(C) কাঁদলে মাস্টারমশাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন
(D) কাঁদলে আরও অঙ্ক কষতে হত
উত্তর: (C) কাঁদলে মাস্টারমশাই আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন
২০. “সে স্বর্গের চাইতে ______ যোজন দূরে থাকাই আমরা নিরাপদ বোধ করতুম”।–
(A) শত
(B) সহস্র
(C) লক্ষ
(D) কোটি
উত্তর: (C) লক্ষ l
২১. পত্রিকা থেকে ফরমাশ এসেছিল —
(A) ছেলেবেলার গল্প লেখার
(B) ঐতিহাসিক গল্প লেখার
(C) প্রেমের কবিতা লেখার
(D) ভ্রমণ কাহিনী লেখার
উত্তর: (A) ছেলেবেলার গল্প লেখার।
২২. “ছবিটা যা ফুটলো” তা —
(A) উজ্জ্বল নয়
(B) রঙিন নয়
(C) সুন্দর নয়
(D) গোছানো নয়
উত্তর: (A) উজ্জ্বল নয়।
২৩. “গাধা পিটিয়ে করতে _____ গেলে গাধাটাই পঞ্চত্ব পায়।” (শূন্যস্থান পূরণ কর)
(A) হাতি
(B) মানুষ
(C) ঘোড়া
(D) বানর
উত্তর: (C) ঘোড়া।
২৪. পত্রিকা কত্তৃপক্ষ গল্প লেখার দক্ষিণা দিয়েছিলেন —
(A) পাঁচশো টাকা
(B) দশ টাকা
(C) কুড়ি টাকা
(D) একশো টাকা
উত্তর: (B) দশ টাকা।
২৫. “এখানকার চড়ুই পাখিও সেখানে সন্মান পায়” —
(A) রাজহংসের
(B) ময়ূরের
(C) টিয়াপাখির
(D) চাতকের
উত্তর: (A) রাজহংসের।
অতিসংক্ষিপ্ত : দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo SAQ [প্রশ্নমান – ১]
১. “এম এ পাশ করবার পরেও স্বপ্ন দেখেছি” —কে, কী স্বপ্ন দেখেছেন?
উত্তর: গল্পকথক সুকুমার স্বপ্ন দেখেছিলেন পরীক্ষার শেষ ঘণ্টা আসন্ন, তবু অঙ্ক মিলছে না আর মাস্টারমশাই আগুন ঝরা চোখে তাকিয়ে আছেন।
২. “তা হলে নির্ভয়ে লিখতে পারি।” — কথকের এই নির্ভয়তার কারণ কী?
উত্তর: পত্রিকাটির পাঠকসংখ্যা সীমিত হওয়ায় কথকের আত্মকথা অন্য কারও কাছে স্পর্ধার মনে হবে না, এই ভেবেই। তিনি নির্ভয়ে লিখেছিলেন।
৩. “গাধা পিটিয়ে ঘোড়া করতে গেলে গাধাটাই পশুত্ব পায়” — ‘পঞ্চত্ব’ বলতে কী কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এখানে গাধার ‘পঞ্চত্ব’ বলতে দুর্বল ছাত্রদের সামান্য সম্ভাবনাটুকুরও অপমৃত্যু ঘটার কথা বলা হয়েছে।
৪. “তার প্রমাণ আমি নিজেই।” — কে, কীসের প্রমাণ?
উত্তর: দাম গল্পের সেই মাস্টারমশাইয়ের শাসন ও শাস্তির মাধ্যমে যে কাউকে কিছু শেখানো যায় না, গল্পকথক সুকুমার নিজেই এ ঘটনার সবচেয়ে বড়ো প্রমাণ।
৫. পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত দক্ষিণা দিয়েছিল?
উত্তর: গল্পকথক নিজের স্কুলের মাস্টার মশাইকে নিয়ে গল্প লেখার জন্য পত্রিকা কর্তৃপক্ষ গল্পকথক সুকুমারকে সাম্মানিক দশ টাকা দক্ষিণা দিয়েছিল।
৬. “মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে এইটুকুই আমার নগদ লাভ” বলতে বক্তা কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: গল্পকথক মাস্টারমশাইকে নিয়ে গল্প লিখে দশ টাকা সাম্মানিক হিসেবে পেয়েছিলেন। একেই তিনি নগদ লাভ বলেছেন।
৭. “আমার মনটাকে অদ্ভুতভাবে দুলিয়ে দিল।” — মন দুলে উঠেছিল কেন?
উত্তর: এক অতিপরিচিত ও আশ্চর্য গলায় গল্পকথকের নাম ধরে কেউ ডাকলে তাঁর মন দুলে উঠেছিল।
৮. “একটা ভয়ের মৃদু শিহরন আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল।” — এমন ঘটার কারণ কী বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর: সুকুমারের অন্তর্মনে মাস্টারমশাই সম্পর্কে ভীতি ও আতঙ্ক প্রচ্ছন্ন থাকায় মাস্টারমশাইয়ের গলা শুনে তাঁর শরীরে শিহরন বয়ে যায়।
৯. “…..লুকিয়ে ছিল মনের চোরাকুঠুরিতে” — কী লুকিয়ে ছিল?
উত্তর: ছেলেবেলায় অঙ্ক না-পারলেই মাস্টারমশাইয়ের কাছে শাস্তি পাওয়ার স্মৃতি লুকিয়ে ছিল গল্পকথক সুকুমারের মনের চোরাকুঠুরিতে।
১০. “আর বলতে পারলেন না।” — কেন?
উত্তর: অধ্যাপক ছাত্রের কাছে আবেগ-বিহ্বলাপ্লুত বৃদ্ধ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের চোখে জল এসে পড়ায়, তিনি তাঁর কথা শেষ করতে পারেননি।
১১. “এমন সময় একটি ছেলে এসে খবর দিলে” — কী?
উত্তর: একটি ছেলে এসে খবর দিয়েছিল যে, এক বয়স্ক ভদ্রলোক সুকুমারের সঙ্গে দেখা করতে চান।
১২. “তারপর চোখে পড়ল মানুষটিকে।” — মানুষটি দেখতে কেমন ছিলেন?
উত্তর: মানুষটির চেহারা ছিল কুঁজো ও লম্বা এবং মাঠের তরল অন্ধকারেও তাঁর সাদা চুলগুলি চিকমিক করছিল।
১৩. “এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবাে’—কে, কাদের বলতেন?
উত্তর: স্কুলে অঙ্ক না পারায় মাস্টারমশাইয়ের চড় খেয়ে যেসব ছাত্ররা কঁাদত, গল্পকথকের অঙ্কের মাস্টারমশাই সেইসব ছাত্রদের এ কথা বলতেন।
১৪. মাস্টারমশাইয়ের চড়ের জোর থেকে ছারা কী আন্দাজ করে নিয়েছিল?
উত্তর: মাস্টারমশাইয়ের চড়ের জোর থেকে ছাত্ররা আন্দাজ করেছিল যে, তাদের পা ধরে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলার শক্তি মাস্টারমশাইয়ের ছিল।
১৫. প্লেটোর দোরগােড়ায় কী লেখা ছিল বলে মাষ্টারমশায় বলেছেন?
উত্তর। প্লেটোর দোরগােড়ায় লেখা ছিল, যে ব্যত্যি অ৬- জানে না সেই ব্যক্তির তার বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ।
১৬, মাষ্টারমশাইয়ের মতে সুপেরি দরজায় কী লেখা আছে?
উত্তর: স্বর্গের দরজাতেও নাকি প্লেটোর দোরগােড়ার মতাে লেখা আছে, সে অঙ্ক জানে না তার প্রবেশ নিষেধ।
১৭. যে স্বর্গে পা দিয়েই জ্যামিতির এক্সট্রা কমতে হয় তার সম্পর্কে নার মত কী?
উত্তর: বস্তার মতে যে স্বর্গে পা দিয়েই জ্যামিতির এট্রো কমতে হয় তার থেকে লক্ষ যােজন দূরে থাকাই নিরাপদ।
১৮. ম্যাট্রিকুলেশনের গণ্ডি পার হয়ে সুকুমার কীসের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন?
উত্তর: ম্যাট্রিকুলেশনের গন্ডি পার হয়ে সুকুমার অঙ্ক ও বিভীষিকাস্বরূপ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে রেহাই পেয়েছিলেন।
১৯. স্কুলে বিভীষিকা কে ছিলেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে কথকের ফুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন তাদের কাছে বিভীষিকাস্বরূপ ।
২০.অঙ্ক করার সময় খড়ি ভেঙে গেলে মাস্টারমশাই কী করতেন?
উত্তর: অঙ্ক করার সময় খড়ি ভেঙে গেলে বিরক্ত মাস্টারমশাই ভাঙা টুকরাে দুটো ছাত্রদের দিকে ছুঁড়ে দিয়ে আর-একটা খড়ি নিতেন।
২১. মাস্টারমশাই অঙ্ককে কেমন করে সাজিয়ে দিতেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে মাস্টারমশাই অঙ্ক কষে ছবির মতাে করে ব্ল্যাকবাের্ডে সাজিয়ে দিতেন৷
২২. “কিন্তু কাদবার জো ছিল না’—কেন কাদবার জো ছিল না?
উত্তর: অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খেয়েও কান্নার উপায় ছিল না। কারণ, তাহলে তিনি আরও বকতেন এবং পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলার হুমকি দিতেন।
২৩. সুকুমার কলেজে কী পড়ান?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘দাম’ ছােটোগল্পে সুকুমার কলেজে বাংলা পড়ান।
২৪. সুকুমারের কাছে ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাশ কোথা থেকে এসেছিল?
উত্তর: একটি অনামি পত্রিকার পক্ষ থেকে সুকুমারের কাছে তার ছেলেবেলার গল্প লেখার ফরমাশ এসেছিল |
২৫. সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুপ’ কাদের বলা হয়েছে?
উত্তর: সাহিত্যজগতের রথী-মহারথী অর্থাৎ স্বনামধন্য সাহিত্যিকদের
‘সাহিত্যে ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ বলা হয়েছে।
২৬. সুকুমার কাকে নিয়ে তার ছেলেবেলার গল্প লিখেছিলেন?
উত্তর: সুকুমার তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইকে নিয়ে ছেলেবেলার গল্প লিখেছিলেন।
২৭. পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত দক্ষিণা দিয়েছিলেন?
উত্তর: পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারের লেখায় খুশি হয়ে তাকে দশ টাকা দক্ষিণা দিয়েছিলেন।
২৮. “কিন্তু কাঁদবার জো ছিল না”- কেন কাঁদবার জো ছিল না?
উত্তর:চোখে এক ফোঁটা জল দেখতে পেলেই মাস্টারমশাই ছাত্রদের আরো বকতেন, তাই অঙ্ক না পেরে এবং মাস্টারমশাইয়ের হাতে চড় খেলেও কাঁদার জো ছিল না।
২৯. প্লেটোর দোরগোড়ায় কী লেখা ছিল বলে মাস্টারমশাই বলেছেন?
উত্তর: মাস্টারমশাই বলতেন প্লেটোর দোরগোড়ায় লেখা লেখা ছিল – ‘যে অঙ্ক জানে না – এখানে তার প্রবেশ নিষেধ’।
৩০. ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ কাদের বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘সাহিত্যের ইন্দ্র চন্দ্র মিত্র বরুণ’ বলতে প্রথিতযশা সাহিত্যিকদের বোঝানো হয়েছে।
৩১. ‘মনে এল মাস্টারমশাইয়ের কথা।’ কখন এমনটি ঘটেছে?
উত্তর: দাম গল্পের প্রধান চরিত্র সুকুমার একটি পত্রিকায় তার ছেলেবেলার গল্প লেখার সময় মাস্টারমশাইয়ের কথা মনে করেছিলেন।
৩২. পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সুকুমারকে কত দক্ষিণা দিয়েছিলেন?
উত্তর: পত্রিকার কর্তৃপক্ষ খুশি হয়ে সুকুমার অর্থাৎ লেখককে দশ টাকা দিয়েছিলেন।
৩৩. সুকুমার মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে কোন্টাকে নগদ লাভ বলে মনে করেছিলেন?
উত্তর: পত্রিকায় মাস্টারমশাইকে নিয়ে লেখা বাল্যস্মৃতির দক্ষিণা হিসেবে পাওয়া দশ টাকাকেই সুকুমার নগদ লাভ বলে মনে করেছিলেন।
৩৪. গল্পকথক এর স্কুলে যে বিভীষিকা ছিলেন তিনি কে?
উত্তর: গল্পকথকদের স্কুলে অংকের মাস্টার মশাই ছিলেন তাদের বিভীষিকা।
৩৫. ঘন্টার পর ঘন্টা ছেলেরা কী নিয়ে পন্ডশ্রম ফটো?
উত্তর: ঘন্টার পর ঘন্টা স্কুলের ছেলেরা জটিল অংক নিয়ে পন্ডশ্রম করতো।
৩৬. স্কুলের মাস্টার মশাই এর হাতের ঘড়ি যখন ভেঙ্গে যেত, তখন তিনি কি করতেন?
উত্তর: অংক করার সময় হাতের খড়ি হঠাৎ ভেঙে গেলে অঙ্কের মাস্টারমশাই বিরক্ত হয়ে তা তিনি ছাত্রদের দিকে ছুড়ে মারতেন।
৩৭. “আমরা রোমাঞ্চিত হয়ে দেখতুম” — কী দেখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: দাম গল্পে ছোটবেলায় যখন স্কুলে অঙ্কের মাস্টার মশাই জটিল অংকগুলি অনায়াসেই ব্ল্যাকবোর্ডে ছবির মত সাজিয়ে দিতেন, তখন তা ছাত্ররা রোমাঞ্চিত হয়ে দেখতো।
৩৮. “ওর ভয় তারাও তটস্ত হয়ে থাকতো” এখানে ‘ওর’ ও ‘তারা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাম গল্পে ওর বলতে স্কুলের সেই মাস্টার মশাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এবং তারা বলতে যারা অংকে ১০০ তে ১০০ পায় তাদের কথা বলা হয়েছে।
৩৯. “তা উনি পারতেন।” — ‘উনি’ কী পারতেন?
উত্তর: অংকের মাস্টারমশাই অঙ্ক না-পারা ছাত্রদের কাঁদতে দেখলে পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারতেন।
৪০. “এখানে তাঁর প্রবেশ নিষেধ” — কোথায় কাদের প্রবেশ নিষেধ?
উত্তর: এখানে বলতে প্লেটোর দোরগোড়াকে বোঝানো হয়েছে। যারা অংক পারে না তাদের দার্শনিক প্লেটোর দোরগোড়ায় প্রবেশ নিষেধ।
সংক্ষিপ্ত : দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo SAQ [প্রশ্নমান – ২/৩]
১. “দু-চোখ দিয়ে তার আগুন ঝরছে” — কর কথা বলা হয়েছে? তার দু- চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে কেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের দু-চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে।
অঙ্কে বরাবর দুর্বল সুকুমার এমএ পাস করার পরও স্বপ্ন দেখতেন যে তিনি যেন অঙ্ক পরীক্ষা দিচ্ছেন। শেষ ঘণ্টা পড়ার সময় হয়ে গেছে কিন্তু তার একটি অঙ্কও মিলছে না। সুকুমারের স্কুলজীবনের অন্যতম আতঙ্ক অঙ্কের মাস্টারমশাই গার্ড হয়ে তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। ছাত্র অঙ্ক পারছে না দেখে মাস্টারমশাইয়ের দু-চোখ থেকে আগুন ঝরছে।
২. “আমাদের মতাে নগণ্যের পক্ষে ততই সুখাবহ” — ‘আমাদের’ বলতে যাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের কাছে কোন্ বিষয় সুখাবহ?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পের কথক সুকুমার ‘আমাদের বলতে তার মতাে মাঝারি মাপের লেখকদের বুঝিয়েছেন৷
বাংলাদেশের প্রত্যন্ত একটি কলেজের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অতিথি হওয়ার ডাক পেয়ে সুকুমার আলােচ্য উক্তিটি করেছেন। কলকাতায় একজন লেখকের প্রকৃত স্থান সম্পর্কে গ্রামের মানুষের স্বচ্ছ ধারণা থাকে লেখকের মর্যাদা এবং সম্মান পান। এই ব্যাপারটিকেই সুকুমার সুখাবহ বলেছেন।
৩. “একটা ভয়ের মৃদু শিহরণ আমার বুকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেল” — বক্তার ভয়ের শিহরণ হওয়ার প্রকৃত কারণটি কী ছিল?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের কলেজের অন্ধকারে ঢাকা মাঠে এক ভদ্রলােক কথক সুকুমারকে নাম ধরে ডাকলে তার ভয়ের শিহরণ হয়।
অচেনা এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তির মুখে নিজের নাম শুনে অবাক হওয়ার পরমুহূর্তেই সুকুমার কণ্ঠস্বরটি চিনতে পারেন। স্কুলের বিভীষিকাম্বরূপ অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের গলার আওয়াজ কথকের মনে তার ছােটোবেলায় অঙ্ক না পেরে মার খাওয়ার স্মৃতিকে জাগিয়ে তােলে। এটিই ছিল তার ভয়ের প্রকৃত কারণ।
৪. “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে” — বক্তার ছাত্র তাকে কীভাবে অমর করেছে?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পের অঙ্কে অসাধারণ দক্ষ মাস্টারমশাই ভাবতেই পারতেন না যে তার ছাত্ররা অঙ্ক পারবে না। মেরে- বকে ছাত্রদের তিনি অঙ্ক শেখাতে চাইতেন। ফলে ছাত্রদের কাছে তিনি ছিলেন বিভীষিকা। তার এক ছাত্র সুকুমার পরবর্তীকালে মাস্টারমশাইকে নিয়ে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতা একটি পত্রিকায় লিখেছিলেন। সেটি পড়েই সরল মনের মাস্টারমশাইয়ের মনে হয়েছিল ছাপার অক্ষরে তার কথা লিখে তার ছাত্র তাকে অমর করে দিয়েছে।
৫. “স্কুলে কী বিভীষিকাই যে ছিলেন ভদ্রলােক!” — এখানে যার কথা বলা হয়েছে, তিনি কেন বিভীষিকা ছিলেন?
উত্তর: আলােচ্য উদ্ধৃতাংশে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পের কথক সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের কথা বলা হয়েছে। অঙ্কে অসাধারণ দক্ষ সেই মাস্টারমশাই যে-কোনাে অঙ্কই মুহুর্তে সমাধান করে ফেলতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে এক না জানলে জীবন বৃথা। তাই মাস্টারমশাই অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে ছাত্রদের অঙ্ক শেখানাের চেষ্টা করতেন। ছাত্ররা এ না পারলে কুস্থ মাস্টারমশাইয়ের প্রকাশ হারে প্রচণ্ড চড় তাদের পিঠে নেমে আসত কিন্তু কাদবার জো ছিল না, একারণেই তিনি ছাত্রদের কাছে বিভীষিকা ছিলেন।
৬.“ওঁর ভয়ে তারাই তটস্থ হয়ে থাকত”—কার ভয়ে কারা কেন তটস্থ হয়ে থাকত?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গােপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্পে অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের ভয়ে যারা পরীক্ষায় একশােতে একশাে পেত তারাও তটস্থ হয়ে থাকত।
স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন অসাধারণ দক্ষ। যে-কোনাে জটিল অঙ্কই তিনি অনায়াসে সমাধান করে ফেলতেন। মাস্টারমশাই মনে করতেন, অঙ্ক না জানলে জীবন বৃথা। তাই তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে ছাত্রদের অঙ্ক শেখাতেন। কিন্তু ছাত্ররা অঙ্ক না পারলে তিনি ভয়ানক রেগে গিয়ে তাদের মারতেন বলেই লেখাপড়ায় ভালাে ছাত্ররাও তাকে ভয় পেত৷
৭. “এখনি পা ধরে স্কুলের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেবাে” — বক্তা কেন পুকুরে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছেন?
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ ছােটোগল্প থেকে নেওয়া উক্তিটি সুকুমারের স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের। অঙ্ক-অন্তপ্রাণ মাস্টারমশাইয়ের ক্লাসের কোনাে ছাত্র অঙ্ক না পারলেই তার পিঠে নেমে আসত তার প্রকাণ্ড হাতের প্রচণ্ড চড়। সেই চড় খেয়ে কোনাে ছাত্র কাদলেই তাকে তিনি পা ধরে পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়ার সুমকি দিতেন। তার মতে অঙ্ক না পারা এবং কাদা, দুটোই পুরুষমানুষের পক্ষে চরম লজ্জার বিষয়।
রচনাধর্মী : দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo [প্রশ্নমান – ৫]
১. ‘দাম’ ছােটোগল্পের সুকুমার চরিত্রটি আলােচনা করাে।
অথবা,
“আমি তাঁকে দশ টাকায় বিক্রি করেছিলুম”- এই উবিটির আলােকে সুকুমার চরিত্রটি আলােচনা করাে।
উত্তর: অঙ্কে দুর্বল : নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাম ছােটোগল্পের কথক সুকুমার বরাবরই অঙ্কে দুর্বল ছিলেন। সুকুমারের কাছে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই ছিলেন মূর্তিমান বিভীষিকা। ম্যাট্রিকুলেশনের পর অ মাস্টারমশাইয়ের হাত থেকে রেহাই পেলেও দীর্ঘদিন সেই জয় সুকুমারকে তাড়া করে ফিরত। পরবর্তীকালে বাংলার অধ্যাপক লেখক সুকুমার একটি অনামি পত্রিকায় মাস্টারমশাইকে নিয়ে তার বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার স্মৃতিকথা লিখেছিলেন।
আত্মসমালােচক: সুকুমার চরিত্রের সবথেকে বড়াে বৈশিষ্ট্য হল তার আত্মবিশ্লেষণ। তিনি যে মাঝারি মাপের লেখক, তার বক্তৃতা যে আবেগসর্বস্ব, অন্তঃসারশূন্য, অত প্রশংসা যে তার প্রাপ্য নয় সবটাই তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন।
শ্রদ্ধাশীল: বহু বছর পর তার স্কুলজীবনের বিভীষিকা অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে দেখা হতেই তঁাকে শ্রদ্ধা জানাতে কিন্তু সুকুমারের এতটুকু দেরি হয়নি। অঙ্কে মাস্টারমশাইয়ের পান্ডিত্যকেও সুকুমার মর্যাদার সঙ্গে স্বীকার করেছেন। তিনি মাস্টারমশাইকে ভয় পেয়েছেন, কিন্তু অশ্রদ্ধা করেননি।
সংবেদনশীল: সুকুমারের পরিপত মন বুঝেছে যে, এতদিন তিনি শুধু মাস্টারমশাইয়ের শাসনের ভীতিকেই উপলব্ধি করেছিলেন, তাঁর স্নেহের ফল্পধারাকে অনুভব করতে পারেননি। যে স্নেহ-মমতা-মার মহাসমুদ্র মাস্টারমশাইয়ের স্মৃতিকে তিনি দশ টাকায় বিক্রি করেছেন, সেই মানুষটির অমূল্য স্নেহ তার মাথায় ঝরে পড়েছে— এই ভেবে সুকুমার আত্মগ্লানিতে জর্জরিত হন।
২. ‘দাম’ গল্পটি ছােটোগল্প হিসেবে কতটা সার্থক আলােচনা করাে।
উত্তর: শুধু আয়তনের সংক্ষিপ্ততা নয়, ছােটোগল্পের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ‘দাম’ গল্পে দেখা যায়। চরিত্রের স্বল্পতা: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ গল্পটিতে চরিত্রের সংখ্যা খুবই কম৷ সুকুমার এবং তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই হলেন গল্পের প্রধান দুই চরিত্র | এ ছাড়া কলেজের প্রিন্সিপাল ও কয়েকজন ছাত্রের উল্লেখ আছে, যাদের ভূমিকা খুবই কম।
ঘটনার ঘনঘটা বর্জিত: ‘দাম’ গল্পে ঘটনারও বাহুল্য নেই। গল্প শুরু হয়েছে। সুকুমার ও তার সহপাঠীদের সঙ্গে স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাইয়ের সম্পর্ক দিয়ে। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনাে ঘটনার উল্লেখ নেই। সেইসম্পর্কেরই পরিণতিতে গল্প শেষ হয়— ফলে নিশ্চিতভাবে কাহিনিটিকে একমুখী বলা যায়।
গল্পের শেষে চমক: যখন গল্পের শেষদিকে এসে সুকুমারের সঙ্গে কথকের দেখা হয় এবং সুকুমার জানতে পারেন যে স্বয়ং মাস্টারমশাই তার লেখা বাল্যস্মৃতিটি পড়েছেন, তারপরে ছাত্র ও শিক্ষকের সম্পর্ক যেভাবে নতুন ধারণায় প্রতিষ্ঠিত হয়, তা পাঠকদের নিঃসন্দেহে চমকে দেয়।
অতৃপ্তি: মাস্টারমশাই তাঁর সব সমালােচনার আঘাত উদারমনে গ্রহণ করেছেন—এটা জানার পর সুকুমারের স্বগতােক্তি দিয়ে গল্প শেষ হয়। পাঠকের মনে একটা অতৃপ্তি থেকেই যায় এটা জানার জন্য যে, এরপর কী হল। সব দিক বিচার করে তাই বলাই যায় যে, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ একটি আদর্শ ছােটোগল্প।
৩. ‘আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে।’ বক্তা কে? কীভাবে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন?
উত্তর: আলোচ্য উক্তিটি নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত ‘দাম’ গল্প থেকে নেওয়া হয়েছে।
গল্পে আমরা দুটি চরিত্রের সাথে পরিচিত হই, প্রথমটি হলেন গল্পের লেখক এবং দ্বিতীয়টি হলেন লেখকের অঙ্কের মাস্টারমশাই। এখানে মাস্টারমশাই তার ছাত্রের অর্থাৎ গল্পের লেখকের উদ্দেশে এই উক্তিটি করেছেন।
ছাত্রজীবনে লেখক, স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই এবং তার প্রহারকে ভীষণ ভয় পেতেন। এমনকি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবার পরেও, লেখকের মন থেকে তাঁর মাস্টারমশাইয়ের ভয়ের স্মৃতি অমলীন হয়ে থাকে। লেখক কোন একটি পত্রিকার অনুরোধে তাঁর ছেলেবেলার গল্প লেখেন এবং সেই গল্পে তিনি তাঁর মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সমালোচনা এবং বক্রোক্তি করেন। তাঁর লেখাটি প্রশংসিত হয় এবং তা থেকে তিনি দশ টাকা রোজগার করেন।
পরবর্তী সময়ে লেখকের সাথে মাস্টারমশাইয়ের দেখা হয়। লেখক দেখেন যে মাস্টারমশাই তার সমালোচনাসূচক লেখাটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন, শুধু তাই নয় সময় সুযোগ মতো তিনি সবাইকে ঐ লেখাটি দেখাতেও ভোলেন না। যে লেখাটি ছাত্রের কাছে মাস্টারমশাইয়ের প্রতি সমালোচনা বর্ষণ, ঠিক তাই যেন মাস্টারমশাইয়ের কাছে ছাত্রের শ্রদ্ধা নিবেদন। মাস্টারমশাইয়ের মনে হয় তাঁর ছাত্র যেন ঐ পত্রিকার লেখার মাধ্যমেই তাঁর মাস্টারমশাইকে অমর করে রেখেছে।
৪. “এ অপরাধ আমি বইব কী করে, এ লজ্জা আমি কোথায় রাখব!” — অপরাধবােধ এবং আত্মগ্লানি দূর হয়ে কীভাবে বক্তার আত্মশুদ্ধি ঘটল তাসংক্ষেপে লেখাে।
উত্তর: ‘দাম’ গল্পে কথকের ছােটোবেলার বিভীষিকাম্বরূপ ছিলেন তার স্কুলের অঙ্কের মাস্টারমশাই। অঙ্ক শেখানাের জন্য তার কঠোর শাসন, তীব্র বকাঝকা কথকদের কাছে আতঙ্ক হয়ে গিয়েছিল। সেই আতঙ্কের রেশ এতটাই তীব্র ছিল যে, এমএ পাস করার পরেও দুঃস্বপ্নে মাস্টারমশাই এসে হাজির হতেন সামনে। তারপরে যখন জেগে উঠে ভাবলেন যে তিনি এখন কলেজে বাংলা পড়ান, স্কুলে অঙ্ক করেন না তখন এক গভীর তৃপ্তি অনুভব করলেন। মাস্টারমশাইয়ের ওপরে মধুর প্রতিশােধ নেওয়ার সুযােগ কথক পেয়ে যান যখন একটি পত্রিকার পক্ষ থেকে ছেলেবেলার গল্প লেখার অনুরােধ আসে। তার লেখায় উঠে তাড়না করে যে কাউকে শিক্ষা দেওয়া যায় না—নিজের অঙ্ক শিক্ষার ব্যর্থতার কথা বলে এ কথাই বুঝিয়ে দেন কথক। কিন্তু বাংলাদেশের প্রান্তবর্তী কলেজে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বহুদিন পরে বয়সের ভারে জীর্ণ সেই মাস্টারমশাইয়ের সঙ্গে যখন কথকের আবারও দেখা হয়—কথকের সব ধারণা পালটে যায়। মাস্টারমশাই শুধু তার বক্তৃতারই প্রশংসা করেন না, জামার পকেট থেকে বের করেন সেই জীর্ণ পত্রিকা — যাতে ছিল মাস্টারমশাইকে নিয়ে কথকের লেখা বাল্যস্মৃতিটি। “আমার ছাত্র আমাকে অমর করে দিয়েছে” — মাস্টারমশাইয়ের মুখে এ কথা শুনে পার আত্মগ্লানিতে মাটিতে মিশে যান কথক| সন্তান বড়াে হলে অন্যায় শুধরে দেবে নিজের এই মূল্যায়নে মাস্টারমশাই যেন অনন্য মহিমা নিয়ে ধরা পড়ে কথকের সামনে। কথকের মনে হয় তিনি যেন স্নেহ-মমতামার এক মহাসমুদ্রের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। এই লজ্জাবােধে আর মাস্টারমশাইয়ের উদারতার সামনে নত হওয়ার মাধ্যমেই তাঁর আত্মশুদ্ধি ঘটে।
৫. ‘দাম’ ছোট গল্পটি অবলম্বনে মাস্টারমশাইয়ের চরিত্র বর্ণনা করো।
উত্তর: নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দাম’ একটি অসাধারণ ছােটোগল্প। গৰাটত মাস্টারমশাই এক অসামান্য চারমাই।
পাতি: স্কুলের মাস্টারমশাই ছিলেন অঙ্কে অসাধারণ দক্ষ। যেকোনাে জটিল অংকই তিনি একবারমাত্র দেখে তক্ষুনি অনায়াসে সমাধান করে ফেলতে পারতেন।
আবেগময়তা: মাস্টারমশাই বিশ্বাস করতেন এক ভালােবাসা ও অত গারা প্রতিটি ছাত্রের ব্য এবং তার কর্তব্য হল ছাত্রদের মধ্যে অরে প্রতি ভালােবাসা জাগিয়ে তােলা। এ আবেগের কারণেই ছাত্ররা না পারলে তার একা হারে গ্রত চড় নেমে আসত তাদের পিঠে। এই জন্যই মাস্টারমশাই ছাত্রদের কাছে মুর্তিমান বিভীষিকা হয়ে উঠেছিলেন।
উদারমনা: ছাত্র সুকুমারের বাল্যতিতে লেখা সমালােচনাকে তিনি উদারমনে সন্তানের অধিকার বলেই গ্রহণ করেছিলেন। ছাত্র তাকে মনে রেখেছে — এইটুকুই বৃদ্ধ মাস্টারমশাইয়ের কাছে সবথেকে বড়াে পাওয়া হয়ে উঠেছে।
সারকথা: মাস্টারমশাই যেটা উপনা করতে পারেননি, সেটা হল সব বিষয় সকলের প্রিয় না-ও হতে পারে এবং ভীতি কোনাে বিষয়ক ভালােবাসতে শেখায় না। বরং তার থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। মাস্টারমশাইয়ের শিক্ষাপদ্ধতির এই জুটির জন্য ছাত্ররা তাকে ভুল বুঝত। আসলে কিন্তু তিনি ছিলেন একজন আদর্শনিঠ, কর্তব্যপরায়ণ এবং ছাত্ররা শিক্ষক। তার ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে সুকুমারের দেওয়া সব আঘাত তাঁর গায়ে ছাত্রের শ্রদ্ধার ফুল হয়ে ঝরে পড়েছিল।
Class 9 Question and Answer | নবম শ্রেণীর সাজেশন
আরো পড়ুন:-
Class 9 Bengali Suggestion Click here
আরো পড়ুন:-
Class 9 English Suggestion Click here
আরো পড়ুন:-
Class 9 Geography Suggestion Click here
আরো পড়ুন:-
Class 9 History Suggestion Click here
আরো পড়ুন:-
Class 9 Science Suggestion Click here
আরো পড়ুন:-
Class 9 Mathematics Suggestion Click here
West Bengal class 10th Bengali Board Exam details info
West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) Class 9 Exam Bengali Question and Answer download for Bengali subject. West Bengal Board of Secondary Education will organise this Examination all over West Bengal. Students who are currently studying in Class 10th, will sit for their first Board Exam Class 9. WBBSE Class 9 Bengali question paper download.
Class 9 Bengali Dam Golpo Syllabus
West Bengal Class 9 Bengali Dam Golpo Syllabus with all the important chapters and marks distribution. Download the Class 9 Bengali Dam Golpo Syllabus and Question Paper. Questions on the Bengali exam will come from these chapters. All the chapters are equally important, so read them carefully.
Class 9 Bengali Syllabus Download Click Here
দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer
দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer : দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer – দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer উপরে আলোচনা করা হয়েছে।
West Bengal WBBSE Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা
West Bengal WBBSE Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা : Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর – West Bengal WBBSE Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা উপরে আলোচনা করা হয়েছে।
Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর : Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর – Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer | দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর গুলো উপরে আলোচনা করা হয়েছে।
দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer
এই “দাম (গল্প) নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় – নবম শ্রেণীর বাংলা | Class 9 Bengali Dam Golpo Question and Answer” পোস্টটি থেকে যদি আপনার লাভ হয় তাহলে আমাদের পরিশ্রম সফল হবে। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের সিলেবাস অনুযায়ী সমস্ত শ্রেণীর প্রতিটি অধ্যায় অনুশীলন, বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার গাইডেন্স ও চারীর খবর বা শিক্ষামূলক খবর জানতে আমাদের এই Porasuna.in ওয়েবসাইটি দেখুন, ধন্যবাদ।




















