জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer
জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer: নমস্কার বন্ধুরা, আজকের আলোচনার বিষয় ‘জ্ঞানচক্ষু’ (গল্প) – আশাপূর্ণা দেবী, যা দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এই পোস্টে WBBSE Class 10 Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer-এর পাশাপাশি গল্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি ভালোভাবে পড়া এবং অনুশীলন করা অত্যন্ত উপকারী।
যেসব ছাত্রছাত্রী জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর, WBBSE Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer অথবা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা প্রশ্নোত্তর খুঁজছো, তারা এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়তে পারো। জ্ঞানচক্ষু গল্প থেকে পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যা West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Exam Preparation এবং Revision-এর সময় বিশেষভাবে কাজে আসবে।
| বোর্ড | ডাব্লিউ বি সি এইচ এস ই (WBBSE) |
| ক্লাস | দশম শ্রেণী (WB Class 10 Madhyamik) |
| বিষয় | দশম শ্রেণীর বাংলা (Madhyamik Bengali) |
| পাঠ | জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী |
জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Gyanchakshu Question and Answer
বহুনির্বাচনী : জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu MCQ [প্রশ্নমান – ১]
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পটি কোন গল্পসংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে?
(ক) শ্রেষ্ঠ গল্প
(খ) কুমকুম
(গ) গল্পসমগ্র
(ঘ) ভূমিকা
উত্তরঃ (খ) কুমকুম
২. তপন কোথায় বসে তার প্রথম গল্পটি লিখেছিল?
(ক) ছাদে
(খ) পড়ার ঘরে
(গ) তিনতলার সিঁড়িতে
(ঘ) মামারবাড়ির বিছানায়
উত্তরঃ (গ) তিনতলার সিঁড়িতে
৩. “লেখক মানে কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব নয়”— এই উপলব্ধি কার হয়েছিল?
(ক) ছোটোমাসির
(খ) নতুন মেসোমশাইয়ের
(গ) তপনের
(ঘ) তপনের মায়ের
উত্তরঃ (গ) তপনের
৪. তপনের লেখা গল্পের নাম কী ছিল?
(ক) প্রথম দিন
(খ) স্কুল জীবন
(গ) জ্ঞানচক্ষু
(ঘ) আমার লেখা
উত্তরঃ (ক) প্রথম দিন
৫. তপনের গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিলেন?
(ক) “দারুণ লিখেছিস তো!”
(খ) “এ তো বেশ হয়েছে!”
(গ) “কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?”
(ঘ) “এটা আবার লেখা হয়েছে নাকি?”
উত্তরঃ (গ) “কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো?”
৬. তপনের ছুটি চলছিল কেন?
(ক) পূজোর ছুটি
(খ) গরমের ছুটি
(গ) বড়দিনের ছুটি
(ঘ) অসুস্থতার ছুটি
উত্তরঃ (খ) গরমের ছুটি
৭. তপনের নতুন মেসোমশাই কেমন ধরনের মানুষ ছিলেন?
(ক) ডাক্তার
(খ) অধ্যাপক ও লেখক
(গ) উকিল
(ঘ) ব্যবসায়ী
উত্তরঃ (খ) অধ্যাপক ও লেখক
৮. “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই”— কথাটি কে বলেছিল?
(ক) তপনের মা
(খ) তপনের বাবা
(গ) তপনের ছোটোমাসি
(ঘ) তপনের মেসোমশাই
উত্তরঃ (গ) তপনের ছোটোমাসি
৯. “যে ভয়ঙ্কর আহ্লাদটা হওয়ার কথা, সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না”— কেন?
(ক) সবাই তাকে নিয়ে ঠাট্টা করছিল
(খ) গল্পটি তার ভালো লাগেনি
(গ) গল্পটি মেসোমশাইয়ের কারেকশনের নামে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল
(ঘ) পত্রিকাটি পুরোনো ছিল
উত্তরঃ (গ) গল্পটি মেসোমশাইয়ের কারেকশনের নামে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল
১০. ‘কারেকশন’ কথাটির অর্থ কী?
(ক) সংযোজন
(খ) বিয়োজন
(গ) সংশোধন
(ঘ) অনুকরণ
উত্তরঃ (গ) সংশোধন
১১. তপনের সম্পূর্ণ নাম কী?
(ক) শ্রী তপন রায়
(খ) শ্রী তপন কুমার রায়
(গ) শ্রী তপন দেব রায়
(ঘ) তপনচন্দ্র রায়
উত্তরঃ (খ) শ্রী তপন কুমার রায়
১২. “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের”— কেন?
(ক) ভয়ে
(খ) শীতে
(গ) নিজের লেখা গল্প সম্পূর্ণ করে ফেলতে পেরে আনন্দ ও উত্তেজনায়
(ঘ) দুঃখে
উত্তরঃ (গ) নিজের লেখা গল্প সম্পূর্ণ করে ফেলতে পেরে আনন্দ ও উত্তেজনায়
১৩. তপনের মেসোমশাই কোন পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন?
(ক) আনন্দমেলা
(খ) শুকতারা
(গ) সন্ধ্যাতারা
(ঘ) নবকল্লোল
উত্তরঃ (গ) সন্ধ্যাতারা
১৪. তপন তার লেখা গল্পটি ছোটোমাসিকে দেখিয়ে কী করেছিল?
(ক) লজ্জায় ছাদে পালিয়ে গিয়েছিল
(খ) ছোটোমাসির পাশে বসেছিল
(গ) মেসোমশাইয়ের কাছে গিয়েছিল
(ঘ) খেলা করতে গিয়েছিল
উত্তরঃ (ক) লজ্জায় ছাদে পালিয়ে গিয়েছিল
১৫. “যেন নেশায় পেয়েছে”— কিসের নেশা?
(ক) বই পড়ার
(খ) গল্প লেখার
(গ) ঘুড়ি ওড়ানোর
(ঘ) সিনেমা দেখার
উত্তরঃ (খ) গল্প লেখার
১৬. তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়ার কথা কে বলেছিলেন?
(ক) তপনের বাবা
(খ) তপনের ছোটোমাসি
(গ) তপনের নতুন মেসোমশাই
(ঘ) তপনের মেজোকাকু
উত্তরঃ (গ) তপনের নতুন মেসোমশাই
১৭. তপনের লেখা গল্পটি কোন পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল?
(ক) আনন্দমেলা
(খ) শুকতারা
(গ) দেশ
(ঘ) সন্ধ্যাতারা
উত্তরঃ (ঘ) সন্ধ্যাতারা
১৮. তপন তার মাকে কী পড়তে বলেছিল?
(ক) একটি কবিতা
(খ) একটি উপন্যাস
(গ) তার ছাপানো গল্পটি
(ঘ) একটি চিঠি
উত্তরঃ (গ) তার ছাপানো গল্পটি
১৯. তপনের কাছে লেখকরা কেমন ছিলেন?
(ক) সাধারণ মানুষের মতো
(খ) শিক্ষকের মতো
(গ) ভিন্ন জগতের প্রাণীর মতো
(ঘ) বন্ধুর মতো
উত্তরঃ (গ) ভিন্ন জগতের প্রাণীর মতো
২০. ছোটোমাসি তপনের থেকে বয়সে কত বড় ছিলেন?
(ক) পাঁচ বছর
(খ) দশ বছর
(গ) আট বছর
(ঘ) দুই বছর
উত্তরঃ (গ) আট বছর
২১. তপনের লেখা গল্পে ‘কারেকশন’ করে দিয়েছিলেন কে?
(ক) ছোটোমাসি
(খ) নতুন মেসোমশাই
(গ) তপনের বাবা
(ঘ) তপনের মা
উত্তরঃ (খ) নতুন মেসোমশাই
২২. ছাপানো গল্পের প্রত্যেকটি লাইন তপনের কেমন মনে হচ্ছিল?
(ক) খুব পরিচিত
(খ) নতুন ও আনকোরা
(গ) দুর্বোধ্য
(ঘ) নিজের লেখা
উত্তরঃ (খ) নতুন ও আনকোরা
২৩. তপন কোন বিষয় নিয়ে গল্প লিখেছিল?
(ক) তার বেড়াতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা
(খ) তার স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা
(গ) তার লেখালেখির অভিজ্ঞতা
(ঘ) তার খেলাধুলার অভিজ্ঞতা
উত্তরঃ (খ) তার স্কুলে ভর্তি হওয়ার প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা
২৪. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?”— কোন ঘটনাকে অলৌকিক বলে মনে হয়েছিল?
(ক) তপনের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়া
(খ) তপন গল্প লিখেছে
(গ) তপনের মেসোমশাই একজন লেখক
(ঘ) ছোটোমাসির বিয়ে হয়ে যাওয়া
উত্তরঃ (ক) তপনের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়া
২৫. তপনের চোখে জল এসে গিয়েছিল কারণ—
(ক) আনন্দের জন্য
(খ) অপমান ও দুঃখের জন্য
(গ) ভয়ের জন্য
(ঘ) আশ্চর্যের জন্য
উত্তরঃ (খ) অপমান ও দুঃখের জন্য
২৬. “বাবা, তোর পেটে পেটে এত!”— উক্তিটি কার?
(ক) তপনের বাবার
(খ) মেসোমশাইয়ের
(গ) তপনের মায়ের
(ঘ) মেজোকাকুর
উত্তরঃ (গ) তপনের মায়ের
২৭. তপন কোন সময়ে গল্পটি লিখেছিল?
(ক) সকালে
(খ) গভীর রাতে
(গ) দুপুরবেলায়
(ঘ) সন্ধ্যাবেলায়
উত্তরঃ (গ) দুপুরবেলায়
২৮. “মেসো তার জ্ঞানচক্ষু খুলে দিল”— এর তাৎপর্য কী?
(ক) মেসো তাকে পড়াশোনা শেখান
(খ) মেসো তাকে লেখক হওয়ার শিক্ষা দেন
(গ) লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতোই— এই উপলব্ধি তপনের হয়
(ঘ) মেসো তাকে নতুন বই দেন
উত্তরঃ (গ) লেখকরাও সাধারণ মানুষের মতোই— এই উপলব্ধি তপনের হয়
২৯. তপন তার লেখা গল্পটি প্রথমে কাকে দেখিয়েছিল?
(ক) নতুন মেসোমশাইকে
(খ) ছোটোমাসিকে
(গ) মাকে
(ঘ) বাবাকে
উত্তরঃ (খ) ছোটোমাসিকে
৩০. তপনের মেসোমশাইকে কী খেতে দেওয়া হয়েছিল?
(ক) কফি ও কেক
(খ) ডিমভাজা ও চা
(গ) লুচি ও আলুরদম
(ঘ) ডালভাত
উত্তরঃ (খ) ডিমভাজা ও চা
৩১. “ক্রমশ ওই কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে”— কোন কথাটা?
(ক) তপনের বিয়ের কথা
(খ) তপনের গল্প লেখার কথা
(গ) তপনের গল্প মেসোমশাই কারেকশন করে দিয়েছেন— এই কথা
(ঘ) তপনের অসুস্থতার কথা
উত্তরঃ (গ) তপনের গল্প মেসোমশাই কারেকশন করে দিয়েছেন— এই কথা
৩২. তপনের গল্প লেখার প্রধান অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?
(ক) ছোটোমাসি
(খ) নতুন মেসোমশাই
(গ) তপনের মা
(ঘ) তার শিক্ষকমশাই
উত্তরঃ (খ) নতুন মেসোমশাই
৩৩. ‘জ্ঞানচক্ষু’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
(ক) তৃতীয় নয়ন
(খ) দিব্যজ্ঞান
(গ) অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ
(ঘ) বই পড়ার জ্ঞান
উত্তরঃ (গ) অন্তর্দৃষ্টির জাগরণ
৩৪. তপনের ছুটি চলছিল কেন?
(ক) পূজোর ছুটি
(খ) গরমের ছুটি
(গ) বড়দিনের ছুটি
(ঘ) অসুস্থতার ছুটি
উত্তরঃ (খ) গরমের ছুটি
৩৫. “আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন”— কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) তপনের
(খ) ছোটোমাসির
(গ) মেসোমশাইয়ের
(ঘ) তপনের মায়ের
উত্তরঃ (ক) তপনের
৩৬. তপনের লেখা গল্পটি মেসোমশাইয়ের হাতে পড়ার পর তাঁর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
(ক) তিনি গল্পটির খুব প্রশংসা করেন
(খ) তিনি গল্পটিতে কিছু কারেকশন করার কথা বলেন
(গ) তিনি তপনকে বকাবকি করেন
(ঘ) তিনি গল্পটি ছিঁড়ে ফেলেন
উত্তরঃ (খ) তিনি গল্পটিতে কিছু কারেকশন করার কথা বলেন
৩৭. “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম”— উক্তিটি কার?
(ক) তপনের বাবার
(খ) তপনের মায়ের
(গ) তপনের মেজোকাকুর
(ঘ) ছোটোমাসির
উত্তরঃ (গ) তপনের মেজোকাকুর
৩৮. তপনের সম্পূর্ণ নাম কী?
(ক) শ্রী তপন রায়
(খ) শ্রী তপন কুমার রায়
(গ) শ্রী তপন দেব রায়
(ঘ) তপনচন্দ্র রায়
উত্তরঃ (খ) শ্রী তপন কুমার রায়
৩৯. তপনের লেখা গল্পটি ছাপা হওয়ার পর সে কী সংকল্প করেছিল?
(ক) আর গল্প লিখবে না
(খ) মেসোমশাইয়ের সঙ্গে কথা বলবে না
(গ) ভবিষ্যতে নিজের লেখা ছাপতে দিলে নিজেই গিয়ে দেবে
(ঘ) মাসির বাড়ি যাবে না
উত্তরঃ (গ) ভবিষ্যতে নিজের লেখা ছাপতে দিলে নিজেই গিয়ে দেবে
৪০. “এর মধ্যে তপন কোথা?”— এই প্রশ্ন তপনের মনে জেগেছিল কেন?
(ক) গল্পের বিষয়বস্তু পাল্টে যাওয়ায়
(খ) গল্পের ভাষা ও রচনাশৈলী সম্পূর্ণ পাল্টে যাওয়ায়
(গ) লেখকের নাম পাল্টে যাওয়ায়
(ঘ) গল্পটি খুব ছোটো হয়ে যাওয়ায়
উত্তরঃ (খ) গল্পের ভাষা ও রচনাশৈলী সম্পূর্ণ পাল্টে যাওয়ায়
৪১. “ছোটোমাসি সেই দিকে ধাবিত হয়”— ছোটোমাসি কোথায় ধাবিত হয়েছিলেন?
(ক) তপনের ঘরের দিকে
(খ) রান্নাঘরের দিকে
(গ) নতুন মেসোমশাইয়ের কাছে
(ঘ) ছাদের দিকে
উত্তরঃ (গ) নতুন মেসোমশাইয়ের কাছে
৪২. তপনের গল্প লেখার সময় তার মধ্যে কী ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল?
(ক) লেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও নেশা তৈরি হয়েছিল
(খ) সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিল
(গ) সে খেলাধুলা শুরু করেছিল
(ঘ) সে গল্প পড়া বন্ধ করেছিল
উত্তরঃ (ক) লেখার প্রতি প্রবল আগ্রহ ও নেশা তৈরি হয়েছিল
৪৩. ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকার সূচিপত্রে কী লেখা ছিল?
(ক) প্রথম দিন (গল্প) শ্রী তপন কুমার রায়
(খ) প্রথম লেখা (গল্প) শ্রী তপন রায়
(গ) আমার স্কুল (গল্প) শ্রী তপন কুমার রায়
(ঘ) আমার দিন (গল্প) তপন কুমার রায়
উত্তরঃ (ক) প্রথম দিন (গল্প) শ্রী তপন কুমার রায়
৪৪. তপনের কাছে নতুন মেসোমশাই কীসের মতো ছিলেন?
(ক) বাবা-কাকার মতো
(খ) শিক্ষকের মতো
(গ) দেবতার মতো
(ঘ) বন্ধুর মতো
উত্তরঃ (গ) দেবতার মতো
৪৫. তপনের গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর তার মনে কী অনুভূতি হয়েছিল?
(ক) প্রবল আনন্দ
(খ) শুধু গর্ব
(গ) আনন্দের পরিবর্তে দুঃখ ও অপমান
(ঘ) ভয়
উত্তরঃ (গ) আনন্দের পরিবর্তে দুঃখ ও অপমান
৪৬. তপন তার লেখা গল্পে কারেকশন করানোর পর কী বুঝতে পেরেছিল?
(ক) গল্প লেখা খুব সহজ
(খ) লেখকের পরিচয়ই সবকিছু
(গ) নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হয়ে গেলে প্রকাশিত হলেও তাতে প্রকৃত আনন্দ থাকে না
(ঘ) পত্রিকায় লেখা প্রকাশ করা উচিত নয়
উত্তরঃ (গ) নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হয়ে গেলে প্রকাশিত হলেও তাতে প্রকৃত আনন্দ থাকে না
৪৭. “তপনের হাত আছে”— কথাটির অর্থ কী?
(ক) তপন ভালো ছবি আঁকতে পারে
(খ) তপনের লেখার দক্ষতা আছে
(গ) তপন খেলাধুলায় ভালো
(ঘ) তপন হাতের কাজে দক্ষ
উত্তরঃ (খ) তপনের লেখার দক্ষতা আছে
৪৮. তপনের গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল কোন নামে?
(ক) জ্ঞানচক্ষু
(খ) প্রথম লেখা
(গ) প্রথম দিন
(ঘ) আমার স্কুল
উত্তরঃ (গ) প্রথম দিন
৪৯. তপনের মেসোমশাই কেমন মানুষ ছিলেন?
(ক) শুধু অধ্যাপক
(খ) শুধু লেখক
(গ) অধ্যাপক ও লেখক
(ঘ) ব্যবসায়ী ও লেখক
উত্তরঃ (গ) অধ্যাপক ও লেখক
৫০. গল্পের শেষে তপন জামার হাতা দিয়ে কী মুছতে মুছতে চোখ মোছে?
(ক) ঘাম
(খ) কালি
(গ) ধুলো
(ঘ) চোখের জল
উত্তরঃ (ঘ) চোখের জল
[Madhyamik Bengali Suggestion Click Here]
অতিসংক্ষিপ্ত : জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | WBBSE Madhyamik Bengali Gyanchakshu SAQ [প্রশ্নমান – ১]
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ কথাটির অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘জ্ঞানচক্ষু’ কথাটির অর্থ হলো অন্তর্দৃষ্টি বা ভেতরের দৃষ্টির উন্মোচন।
২. তপনের গল্পটি কোন পত্রিকায় ছাপানোর কথা হয়েছিল?
উত্তরঃ তপনের গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপানোর কথা হয়েছিল।
৩. তপন কোথায় বসে গল্প লিখেছিল?
উত্তরঃ তপন দুপুরবেলায় তিনতলার সিঁড়িতে বসে গল্প লিখেছিল।
৪. তপনের মেসোকে দেখে কেন তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল?
উত্তরঃ তপন বুঝতে পেরেছিল যে লেখকরাও তার বাবা বা কাকার মতোই সাধারণ মানুষ।
৫. তপনের লেখা প্রথম গল্পটির বিষয়বস্তু কী ছিল?
উত্তরঃ তপনের লেখা প্রথম গল্পটির বিষয়বস্তু ছিল তার স্কুলে ভর্তির দিনের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি।
৬. “বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের”—কখন এমন হয়েছিল?
উত্তরঃ ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা হাতে নিয়ে সূচিপত্রে নিজের নাম ও গল্পের নাম দেখে তপনের বুকের রক্ত ছলকে উঠেছিল।
৭. তপনের মাসি তার থেকে কত বছরের বড় ছিল?
উত্তরঃ তপনের মাসি তার থেকে বছর আষ্টেকের বড় ছিল।
৮. “এ তো ভয়ানক অপমানের কথা”—কোন কথাকে অপমানের বলা হয়েছে?
উত্তরঃ নিজের লেখা গল্পে অন্যের কারেকশন বা সংশোধন করে নেওয়াকে তপন ভয়ানক অপমানের কথা মনে করেছিল।
৯. তপন কিসের জন্য দিন গুনছিল?
উত্তরঃ তপন তার লেখা গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় কবে ছাপা হবে, তার জন্য অধীর আগ্রহে দিন গুনছিল।
১০. ‘জহুরি’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘জহুরি’ শব্দটির অর্থ হলো যিনি রত্ন চেনেন বা রত্ন পরীক্ষক।
১১. তপনের নতুন মেসো কী কাজ করতেন?
উত্তরঃ তপনের নতুন মেসো কলেজে অধ্যাপনা করতেন এবং লেখালেখি করতেন।
১২. “তপনের হাত আছে”—কে এই মন্তব্য করেন?
উত্তরঃ তপনের নতুন মেসোমশাই এই মন্তব্য করেন।
১৩. তপন কার উৎসাহে গল্প লিখেছিল?
উত্তরঃ তপন তার নতুন লেখক মেসোকে দেখে গল্প লেখার উৎসাহ পেয়েছিল।
১৪. “তপন আর পড়তে পারে না”—কেন পড়তে পারে না?
উত্তরঃ তপন লজ্জা ও অপমানে আর পড়তে পারেনি; তার গলা বুজে এসেছিল।
১৫. তপনের গল্প লেখার কথা শুনে বাড়ির লোকের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তরঃ তপনের গল্প লেখার কথা শুনে বাড়ির সবাই তাকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করেছিল।
১৬. তপনের গল্পটি নিয়ে ছোটোমাসি কী করেছিল?
উত্তরঃ ছোটোমাসি তপনের গল্পটি তার স্বামী, অর্থাৎ তপনের নতুন মেসোকে দেখিয়েছিল।
১৭. “যেন নেশায় পেয়েছে”—কীসের নেশার কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ এখানে গল্প লেখার নেশার কথা বলা হয়েছে।
১৮. ছাপানো গল্পের লেখকের নাম কী ছিল?
উত্তরঃ ছাপানো গল্পের লেখকের নাম ছিল শ্রী তপন কুমার রায়।
১৯. তপনের বাবা কী বলে ঠাট্টা করেছিলেন?
উত্তরঃ তপনের বাবা বলেছিলেন যে, মেসো তার জ্ঞানচক্ষু খুলে দিয়েছে।
২০. তপন কখন তার ভুল বুঝতে পেরেছিল?
উত্তরঃ ছাপানো গল্পে নিজের লেখার কোনো অস্তিত্ব খুঁজে না পেয়ে তপন তার ভুল বুঝতে পেরেছিল।
২১. “শুধু কারেকশনের নামে…”—কারেকশনের নামে মেসো কী করেছিলেন?
উত্তরঃ কারেকশনের নামে মেসোমশাই তপনের লেখা গল্পটির প্রায় পুরোটাই বদলে দিয়েছিলেন।
২২. কোন ঋতুতে তপন মামাবাড়ি গিয়েছিল?
উত্তরঃ তপন গরমের ছুটিতে মামাবাড়ি গিয়েছিল।
২৩. “কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল”—কোন কথা শুনে?
উত্তরঃ তার নতুন মেসো একজন সত্যিকারের লেখক—এই কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গিয়েছিল।
২৪. গল্পের শেষে তপন কী সংকল্প করেছিল?
উত্তরঃ গল্পের শেষে তপন সংকল্প করেছিল যে, ভবিষ্যতে লেখা ছাপাতে হলে সে নিজেই পত্রিকার দপ্তরে গিয়ে লেখা দিয়ে আসবে।
২৫. “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম”—কে, কেন এ কথা বলেছিল?
উত্তরঃ তপনের মেজো কাকু ঠাট্টা করে এ কথা বলেছিলেন। তাঁদের বাড়িতে তপনের মতো লেখক মেসো ছিল না বলেই তিনি এ কথা বলেছিলেন।
২৬. তপনের কাছে দিনটি সবচেয়ে দুঃখের মনে হয়েছিল কেন?
উত্তরঃ নিজের লেখার গৌরব অন্যের দ্বারা ছিনিয়ে যাওয়ার অপমানে তপনের কাছে দিনটি সবচেয়ে দুঃখের মনে হয়েছিল।
২৭. তপনের মাসি কী নিয়ে তপনদের বাড়ি এসেছিল?
উত্তরঃ তপনের মাসি এক সংখ্যা ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা নিয়ে তপনদের বাড়ি এসেছিল।
২৮. “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের”—কেন?
উত্তরঃ নিজের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে—এই আনন্দের অনুভূতিতে তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।
২৯. তপন তার লেখা গল্পটি কতবার পড়েছিল?
উত্তরঃ তপন তার লেখা গল্পটি বারবার পড়েছিল; কতবার পড়েছে তা গুনে শেষ করা যায় না।
৩০. তপনের মায়ের মতে তপনের পেটে পেটে কী ছিল?
উত্তরঃ তপনের মায়ের মতে, তপনের পেটে পেটে গল্প লেখার প্রতিভা ছিল।
৩১. “এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা”—কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ তপনের ছোটোমাসি ও নতুন মেসো ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকা হাতে নিয়ে তপনদের বাড়িতে আসার ঘটনার কথা বলা হয়েছে।
৩২. “এর প্রত্যেকটি লাইন তো নতুন আনকোরা”—কেন এমন মনে হয়েছিল?
উত্তরঃ মেসোর কারেকশনের ফলে তপন নিজের লেখার কোনো অংশই প্রায় খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই তার কাছে প্রতিটি লাইন নতুন ও অপরিচিত মনে হয়েছিল।
৩৩. মেসোর কোন কথায় তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল?
উত্তরঃ মেসো যখন লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তপনের সামনে উপস্থিত হলেন, তখন তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল।
৩৪. তপন কোথায় পালিয়ে গিয়েছিল?
উত্তরঃ তপন লজ্জা ও অপমানে ছাদে পালিয়ে গিয়েছিল।
৩৫. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?”—অলৌকিক ঘটনাটি কী?
উত্তরঃ তপনের মতো একটি সাধারণ ছেলের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হওয়াটাই তার কাছে অলৌকিক ঘটনা বলে মনে হয়েছিল।
৩৬. তপন কার কাছে লজ্জা পেয়েছিল?
উত্তরঃ তপন নিজের কাছেই সবচেয়ে বেশি লজ্জা পেয়েছিল।
৩৭. লেখক সম্পর্কে তপনের কী ধারণা ছিল?
উত্তরঃ তপনের ধারণা ছিল, লেখকরা সাধারণ মানুষ নন; তাঁরা যেন অন্য জগতের বা আকাশ থেকে পড়া মানুষ।
৩৮. “একটু ‘কারেকশন’ করে ইয়ে করে দিলে ছাপাতে দেওয়া চলে”—কে, কাকে এ কথা বলেছিল?
উত্তরঃ তপনের নতুন মেসো তাঁর স্ত্রী, অর্থাৎ তপনের ছোটোমাসিকে এ কথা বলেছিলেন।
৩৯. তপনের প্রথম গল্প প্রকাশের ঘটনায় তার কী উপলব্ধি হয়েছিল?
উত্তরঃ তপন উপলব্ধি করেছিল যে নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য ও আত্মসম্মান বজায় রাখা জরুরি।
৪০. গল্পের শেষে তপন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
উত্তরঃ গল্পের শেষে তপন ছাদে গিয়ে দাঁড়ায়।
[Madhyamik Suggestion Click Here]
সংক্ষিপ্ত : জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu QNA [প্রশ্নমান – ৩]
১. “এর মধ্যে তপন কোথা?”—তপনের এমন মনে হওয়ার কারণ কী?
উত্তরঃ ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘প্রথম দিন’ গল্পটি পড়তে গিয়ে তপনের এমন মনে হয়েছিল। কারণ, গল্পটির প্রতিটি লাইন তার কাছে নতুন ও অপরিচিত মনে হচ্ছিল। মেসোমশাই ‘কারেকশন’-এর নামে গল্পটির ভাষা ও বাক্যরীতি এমনভাবে পরিবর্তন করেছিলেন যে, তপন নিজের লেখার কোনো অংশই খুঁজে পাচ্ছিল না। তাই তার মনে হয়েছিল, এই লেখার মধ্যে তার নিজের অস্তিত্বই নেই।
২. তপনের নতুন মেসোকে দেখে তপনের কী অভিজ্ঞতা হয়েছিল?
উত্তরঃ তপনের ধারণা ছিল, লেখকেরা সাধারণ মানুষের মতো নন, তাঁরা যেন অন্য জগতের মানুষ। কিন্তু নতুন মেসোকে দেখে সে বুঝতে পারে, তিনিও তার বাবা বা কাকার মতোই একজন সাধারণ মানুষ। মেসো দাড়ি কামান, সিগারেট খান এবং সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করেন। এই উপলব্ধির ফলে লেখক সম্পর্কে তপনের পূর্বধারণা ভেঙে যায় এবং তার প্রথম জ্ঞানচক্ষু খুলে যায়।
৩. “তপন আর পড়তে পারে না। বোবার মতো বসে থাকে।” — তপনের এই অবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় নিজের গল্প পড়তে গিয়ে তপন বুঝতে পারে যে মেসোমশাই ‘কারেকশন’-এর নামে গল্পটির প্রায় পুরোটাই বদলে দিয়েছেন। গল্পটির মধ্যে সে নিজের লেখা বা নিজস্ব ভাষা প্রায় খুঁজে পায় না। নিজের সৃষ্টির এই পরিবর্তন ও কৃতিত্ব হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সে গভীরভাবে অপমানিত ও মর্মাহত হয়। তাই তার গলা বুজে আসে এবং সে বোবার মতো বসে থাকে।
৪. “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই”—প্রসঙ্গ উল্লেখ করে কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্পটি পড়ে ছোটোমাসি মনে করেছিল, গল্পটি তার লেখক স্বামীকে দেখানো উচিত। এই প্রসঙ্গেই ‘রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই’ কথাটি বলা হয়েছে। এখানে তপনের লেখাকে ‘রত্ন’ এবং লেখক মেসোমশাইকে ‘জহুরি’-র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। অর্থাৎ, একজন অভিজ্ঞ লেখকই তপনের লেখার গুণ ও সম্ভাবনা সঠিকভাবে বিচার করতে পারবেন—এই ধারণাই কথাটির মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
৫. “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের”—তপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠার কারণ কী?
উত্তরঃ তপনের নিজের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হয়েছিল। হাজার হাজার পাঠকের হাতে ঘুরতে থাকা একটি পত্রিকায় নিজের নাম ও নিজের গল্প দেখে সে প্রবল আনন্দ ও উত্তেজনা অনুভব করে। নিজের সৃষ্টিকে মুদ্রিত অবস্থায় দেখার গর্ব ও রোমাঞ্চেই তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল।
৬. “বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে কথাটা”—কোন কথা? এর প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?
উত্তরঃ বিকেলে চায়ের টেবিলে তপনের গল্প লেখার কথাটি ওঠে। বাড়ির লোকজন প্রথমে বিষয়টি নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করতে থাকে এবং তপনের লেখক হওয়ার বিষয়টি অবিশ্বাস করে। কিন্তু নতুন মেসোমশাই তপনের গল্পটি দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর এই আগ্রহের ফলে তপনের মনে নিজের লেখার প্রতি নতুন উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাস জন্মায়।
৭. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে?”—কোন ঘটনাকে অলৌকিক বলা হয়েছে? কেন?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হওয়ার ঘটনাকেই তার কাছে অলৌকিক মনে হয়েছিল। তপনের ধারণা ছিল, লেখকেরা সাধারণ মানুষ নন; তাঁরা যেন অন্য জগতের মানুষ। তাই তার মতো একজন সাধারণ ছেলের লেখা পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া তার কাছে অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক বলে মনে হয়েছিল।
৮. “ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে”—কোন কথা? তা ছড়িয়ে পড়ার ফল কী হয়েছিল?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্পটি তার নতুন মেসোমশাই ‘কারেকশন’ করে দিয়েছেন—এই কথাটিই ক্রমশ ছড়িয়ে পড়েছিল। এর ফলে বাড়ির লোকজন তপনের লেখার চেয়ে মেসোমশাইয়ের কৃতিত্ব ও মহানুভবতার প্রশংসা করতে থাকে। তপনের নিজস্ব কৃতিত্ব আড়ালে চলে যায় এবং সে আরও বেশি অপমানিত ও কষ্ট অনুভব করে।
৯. “শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন”—কোন দুঃখের মুহূর্তে সে কী সংকল্প করেছিল?
উত্তরঃ নিজের লেখা গল্পটি মেসোমশাইয়ের ‘কারেকশন’-এর ফলে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে যাওয়ায় তপন গভীরভাবে দুঃখিত ও অপমানিত হয়েছিল। নিজের নামে প্রকাশিত লেখায় নিজের সৃষ্টির অস্তিত্ব না পেয়ে সে এই সংকল্প করেছিল যে, ভবিষ্যতে যদি তার কোনো লেখা ছাপাতে হয়, তবে সে নিজেই পত্রিকার দপ্তরে গিয়ে লেখা জমা দেবে। অন্যের হস্তক্ষেপে নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য নষ্ট হতে দেবে না।
১০. তপনের ছোটোমাসির চরিত্রটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ তপনের ছোটোমাসি স্নেহশীলা হলেও স্বামীগর্বে কিছুটা আত্মতুষ্ট ও আত্মগর্বী। তপনের গল্প লেখার বিষয়টি সে গুরুত্ব দিয়ে তার লেখক স্বামীকে দেখায়। আবার স্বামীর লেখক-পরিচয় ও কৃতিত্ব প্রকাশ করতেও সে আগ্রহী। তার আচরণের মধ্যে তপনের প্রতি স্নেহের পাশাপাশি স্বামীকে নিয়ে গর্ব ও কিছুটা লোকদেখানো মনোভাবও প্রকাশ পেয়েছে।
১১. “যেন নেশায় পেয়েছে”—কীসের নেশা? এই নেশার পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তরঃ এখানে তপনের গল্প লেখার নেশার কথা বলা হয়েছে। নতুন মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন নিজের প্রথম গল্প লেখে এবং বারবার সেটি পড়তে থাকে। এই নেশার ফলেই তার সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ ঘটে এবং গল্পটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। কিন্তু মেসোর অতিরিক্ত ‘কারেকশন’-এর কারণে সেই প্রকাশই শেষ পর্যন্ত তার কাছে আনন্দের বদলে গভীর দুঃখ ও অপমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
১২. “মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা”—কোন কাজকে উপযুক্ত বলা হয়েছে? কেন?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্পটি পত্রিকায় প্রকাশের ব্যবস্থা করাকে মেসোর উপযুক্ত কাজ বলা হয়েছে। কারণ মেসোমশাই নিজে একজন লেখক এবং সাহিত্যজগতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। ছোটোমাসির মনে হয়েছিল, একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক হিসেবে তিনি তপনের মতো নতুন লেখকের প্রতিভাকে সুযোগ করে দিতে পারেন। তাই তপনের গল্পটি প্রকাশের ব্যবস্থা করাকে তাঁর উপযুক্ত কাজ মনে করা হয়েছিল।
১৩. “কিন্তু হলে কী হবে!”—কী হলে কী হবে? এর কারণ কী?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় ছাপা হলেও তাতে তার আনন্দ হয়নি। কারণ ‘কারেকশন’-এর নামে মেসোমশাই গল্পটির ভাষা ও রচনাশৈলী প্রায় সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিলেন। ফলে ছাপা গল্পটির মধ্যে তপন নিজের লেখা খুঁজে পায়নি। তাই গল্প প্রকাশের মতো আনন্দের ঘটনা ঘটলেও তার কাছে সেটি অর্থহীন ও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছিল।
১৪. “আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন”—কেন তপনের এমন মনে হয়েছিল?
উত্তরঃ তপন তার প্রথম গল্প প্রকাশের মাধ্যমে নিজের সৃষ্টিশীলতার স্বীকৃতি পেতে চেয়েছিল। কিন্তু পত্রিকায় গল্পটি পড়ে সে বুঝতে পারে, মেসোর ‘কারেকশন’-এর ফলে তার নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য প্রায় সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। নিজের নামে প্রকাশিত লেখায় নিজের সত্তাকে খুঁজে না পাওয়ায় সে গভীর অপমান ও হতাশা অনুভব করে। তাই দিনটিকে তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিন বলে মনে হয়েছিল।
১৫. “চুপ করে থাকতে পারে না ছোটোমাসি”—ছোটোমাসি কী বলতে পারেনি? এর থেকে তার চরিত্র সম্পর্কে কী ধারণা করা যায়?
উত্তরঃ তপনের গল্প লেখার কথা শুনে বাড়িতে যখন আলোচনা ও ঠাট্টা চলছিল, তখন ছোটোমাসি চুপ করে থাকতে পারেনি। সে তার লেখক স্বামীর কথা তুলে ধরে জানায় যে, মেসোমশাই তপনের গল্পটি দেখে প্রকাশের ব্যবস্থা করতে পারেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ছোটোমাসি স্বামীর লেখক-পরিচয় ও কৃতিত্ব প্রকাশ করতে আগ্রহী। তার মধ্যে স্বামীগর্ব ও কিছুটা আত্মগর্বের মনোভাব রয়েছে।
১৬. “বাবা, তোর পেটে পেটে এত?”—উক্তিটির প্রেক্ষাপট আলোচনা করো।
উত্তরঃ তপনের গল্প লেখার কথা শুনে তার মা বিস্মিত হয়ে এই কথা বলেছিলেন। তপন যে গোপনে একটি সম্পূর্ণ গল্প লিখে ফেলেছে, তা তাঁর কাছে আশ্চর্যের বিষয় ছিল। এই উক্তির মধ্যে দিয়ে মায়ের বিস্ময়, আনন্দ ও স্নেহ প্রকাশ পেয়েছে। একই সঙ্গে তপনের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সৃজনশীল প্রতিভারও প্রকাশ ঘটে।
১৭. “তপন প্রথমটা ভাবে ঠাট্টা”—কোন বিষয়কে তপন প্রথমে ঠাট্টা ভেবেছিল? তার এই ভাবনা কীভাবে দূর হয়?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্প মেসোমশাই পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করবেন—এই কথাটিকে তপন প্রথমে ঠাট্টা বলে মনে করেছিল। কারণ নিজের লেখা সত্যিই পত্রিকায় প্রকাশিত হবে, তা তার কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। পরে মেসোমশাই যখন গল্পটি নিয়ে সত্যিই উদ্যোগ নেন এবং ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় গল্পটি প্রকাশিত হয়, তখন তপনের এই ধারণা দূর হয়।
১৮. তপনের জ্ঞানচক্ষু উন্মোচনে তার নতুন মেসোর ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তরঃ তপনের জ্ঞানচক্ষু উন্মোচনে নতুন মেসোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে মেসোকে দেখে তপন বুঝতে পারে যে লেখকেরাও সাধারণ মানুষের মতোই মানুষ। পরে মেসো যখন ‘কারেকশন’-এর নামে তপনের গল্প প্রায় সম্পূর্ণ বদলে দেন, তখন তপন নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব উপলব্ধি করে। ফলে মেসোর মাধ্যমেই তপনের লেখক ও লেখার প্রকৃত অর্থ সম্পর্কে ধারণা গভীর হয়।
১৯. “সবাই শুনছে আর অবাক হচ্ছে”—কী শুনে সবাই অবাক হচ্ছিল?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্প তার নতুন মেসোমশাই পত্রিকায় প্রকাশের জন্য নিয়ে গেছেন এবং গল্পটি ছাপা হতে পারে—এই কথা শুনে বাড়ির সবাই অবাক হচ্ছিল। তপনের মতো একটি ছোটো ছেলে গল্প লিখেছে এবং সেই গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হবে—এটি তাদের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। একই সঙ্গে তারা মেসোমশাইয়ের কৃতিত্বের কথাও আলোচনা করতে থাকে।
২০. তপনের চরিত্রটি তোমার কেমন লেগেছে? সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ তপন একজন সংবেদনশীল, সৃজনশীল ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কিশোর। প্রথমে লেখকদের সম্পর্কে তার মধ্যে অলৌকিক ধারণা ছিল, কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সেই ধারণা বদলে যায়। নিজের লেখার প্রতি তার গভীর মমতা ও আত্মসম্মান রয়েছে। মেসোর হস্তক্ষেপে সে আহত হলেও ভেঙে পড়ে না; বরং ভবিষ্যতে নিজের লেখা নিজেই প্রকাশের ব্যবস্থা করার সংকল্প করে।
২১. “জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল তপনের”—তপনের জ্ঞানচক্ষু কীভাবে খুলেছিল?
উত্তরঃ প্রথমে নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলেছিল। সে বুঝেছিল, লেখকেরাও সাধারণ মানুষের মতোই মানুষ। পরে নিজের গল্প মেসোর ‘কারেকশন’-এর ফলে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে যেতে দেখে তার উপলব্ধি আরও গভীর হয়। সে বুঝতে পারে, শুধু লেখা প্রকাশিত হওয়াই বড় কথা নয়; লেখার মধ্যে নিজের সত্তা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২২. “কিন্তু কে শোনে তার কথা?”—কার কথা, কে শোনে না? কেন শোনে না?
উত্তরঃ এখানে তপনের কথার কথা বলা হয়েছে। পত্রিকায় গল্প প্রকাশিত হওয়ার পর সবাই যখন মেসোমশাইয়ের প্রশংসায় ব্যস্ত, তখন তপন নিজের দুঃখ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করতে চেয়েছিল। কিন্তু কেউ তার কথা শুনতে বা তার অনুভূতি বুঝতে আগ্রহী ছিল না। কারণ সবাই গল্প প্রকাশের সাফল্যের আড়ালে মেসোর কৃতিত্বকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছিল।
২৩. “একটু ‘কারেকশন’ করে ইয়ে করে দিলে ছাপাতে দেওয়া চলে”—বক্তার এই মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে তাঁর চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে ওঠে?
উত্তরঃ মন্তব্যটি তপনের নতুন মেসোমশাইয়ের। এর মধ্যে তাঁর আত্মবিশ্বাস ও অভিভাবকসুলভ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তিনি তপনের লেখায় কিছু সম্ভাবনা দেখতে পেলেও মনে করেছিলেন, লেখাটি প্রকাশের উপযোগী করতে তাঁর সংশোধন প্রয়োজন। কিন্তু তাঁর সেই ‘কারেকশন’ শেষ পর্যন্ত তপনের লেখার নিজস্বতা নষ্ট করে দেয় এবং তপনের মনে গভীর আঘাত সৃষ্টি করে।
২৪. “তপনের লেখা ছাপার অক্ষরে বের হলে তাঁর কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?”
উত্তরঃ নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখে তপন প্রথমে প্রবল আনন্দ ও উত্তেজনা অনুভব করেছিল। তার গায়ে কাঁটা দিয়েছিল এবং বুকের রক্ত ছলকে উঠেছিল। কিন্তু গল্পটি পড়তে গিয়ে সে বুঝতে পারে, মেসোর ‘কারেকশন’-এর ফলে তার নিজের লেখার প্রায় কোনো অংশই অবশিষ্ট নেই। ফলে তার আনন্দ মুহূর্তের মধ্যে দুঃখ, অপমান ও হতাশায় পরিণত হয়।
২৫. গল্পে ‘লেখক’ এবং ‘লেখা’ সম্পর্কে তপনের ধারণা কীভাবে বদলে গেল?
উত্তরঃ গল্পের শুরুতে তপনের ধারণা ছিল, লেখকেরা সাধারণ মানুষ নন; তাঁরা যেন অলৌকিক বা অন্য জগতের মানুষ। নতুন মেসোকে দেখে তার এই ধারণা বদলে যায়। পরে নিজের গল্প মেসোর ‘কারেকশন’-এর ফলে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে যেতে দেখে সে বুঝতে পারে, শুধু লেখা ছাপা হওয়াই সাফল্য নয়; লেখার মধ্যে নিজের সত্তা ও স্বাতন্ত্র্য থাকা জরুরি। এভাবেই লেখক ও লেখা সম্পর্কে তপনের ধারণা আরও বাস্তব ও গভীর হয়ে ওঠে।
রচনাধর্মী : জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu LAQ [প্রশ্নমান – ৫]
১. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের চরিত্রটি আলোচনা করো।
উত্তরঃ তপন ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের প্রধান চরিত্র। সে একজন কিশোর এবং গল্প লেখার প্রতি আগ্রহী। তপনের মনে ধারণা ছিল, লেখকেরা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা ও অসাধারণ।
তপন নিজের জীবনের একটি ঘটনা নিয়ে ‘প্রথম দিন’ নামে একটি গল্প লেখে। নতুন মেসোমশাই গল্পটি পড়ে সেটি পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করেন। গল্প ছাপা হওয়ার পর তপন প্রথমে অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত হয়।
কিন্তু মেসোমশাই গল্পটি অনেক পরিবর্তন করে দেন, ফলে তপন নিজের লেখা গল্পটিকে আর নিজের বলে চিনতে পারে না। এতে সে গভীরভাবে আঘাত পায় এবং হতাশ হয়। শেষ পর্যন্ত তপন সিদ্ধান্ত নেয়, ভবিষ্যতে সে নিজের লেখা নিজেই পত্রিকায় পাঠাবে।
তপনের চরিত্রে তাই লেখার প্রতি আগ্রহ, কল্পনাশক্তি, সংবেদনশীলতা, আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস—এই বৈশিষ্ট্যগুলি বিশেষভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
২. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণের সার্থকতা আলোচনা করো।
উত্তরঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের নামকরণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সার্থক। গল্পের শুরুতে তপনের ধারণা ছিল, লেখকেরা সাধারণ মানুষের মতো নন; তাঁরা বিশেষ ধরনের মানুষ।
কিন্তু নতুন মেসোমশাইকে খুব কাছ থেকে দেখে তপন বুঝতে পারে যে একজন লেখকও সাধারণ মানুষের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে তার মনে নতুন জ্ঞান ও বাস্তববোধের জন্ম হয়।
পরবর্তীতে নিজের লেখা গল্প মেসোমশাইয়ের হাতে পরিবর্তিত হতে দেখে তপন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পায়—নিজের সৃষ্টির প্রতি নিজের দায়িত্ব ও আত্মসম্মান থাকা দরকার।
অর্থাৎ গল্পে তপনের ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়ে বাস্তব জ্ঞান ও উপলব্ধির বিকাশ ঘটেছে। তাই তার এই মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে ‘জ্ঞানচক্ষু’ নামটি সম্পূর্ণ সার্থক ও অর্থবহ।
৩. ‘সবচেয়ে দুঃখের দিন’ বলতে তপনের জীবনের কোন দিনকে বোঝানো হয়েছে? কেন দিনটি তার কাছে দুঃখের হয়ে উঠেছিল?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্পটি যখন ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, তখন সে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু গল্পটি পড়ে সে বুঝতে পারে, নতুন মেসোমশাই সেটিতে অনেক পরিবর্তন ও সংশোধন করেছেন।
ফলে ছাপা গল্পটির সঙ্গে তপনের নিজের লেখা গল্পের কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। নিজের সৃষ্টিকে নিজের বলে চিনতে না পেরে তপনের মনে তীব্র হতাশা ও অপমানবোধ তৈরি হয়।
এই কারণেই গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পরের দিনটি তপনের কাছে সবচেয়ে দুঃখের দিন হয়ে ওঠে। তার আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই বিষাদ ও আত্মগ্লানিতে পরিণত হয়।
৪. ‘গল্প ছাপা হলে তপনের মনে যে আহ্লাদ হওয়ার কথা ছিল, তা হলো না কেন?’
উত্তরঃ তপন নিজের লেখা গল্প ‘প্রথম দিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার জন্য অত্যন্ত উৎসুক ও আনন্দিত ছিল। কিন্তু গল্পটি প্রকাশিত হওয়ার পর সে বুঝতে পারে যে নতুন মেসোমশাই গল্পটিকে এত বেশি পরিবর্তন করেছেন যে সেটি আর তার নিজের লেখা বলে মনে হচ্ছে না।
তপনের কাছে লেখার সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল নিজের সৃষ্টিকে নিজের নামে প্রকাশিত হতে দেখা। কিন্তু প্রকাশিত গল্পে নিজের লেখার স্বকীয়তা খুঁজে না পেয়ে তার আনন্দ হতাশায় পরিণত হয়।
তাই গল্প প্রকাশিত হলেও তপনের মনে প্রত্যাশিত আহ্লাদ ও গর্বের পরিবর্তে দুঃখ ও যন্ত্রণা দেখা দেয়।
৫. ‘ওর হবে’—কে, কাকে কেন এই কথা বলেছিল? কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ নতুন মেসোমশাই তপনের লেখা পড়ে তপনের লেখক হওয়ার সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। সেই কারণেই তিনি তপনের লেখার প্রতি আগ্রহ দেখান এবং তাকে উৎসাহ দেন।
‘ওর হবে’ কথাটির মাধ্যমে তপনের মধ্যে থাকা লেখার প্রতিভা ও ভবিষ্যতে লেখক হওয়ার সম্ভাবনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে মেসোমশাই তপনের গল্পে অতিরিক্ত পরিবর্তন করায় তপনের মনে নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি জন্ম নেয়। তাই কথাটি গল্পে তপনের লেখক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নির্দেশ করে।
৬. ‘শুধু এটাই জানা ছিল না’—তপনের কী জানা ছিল না? এই উপলব্ধির ফলে তার মনে কী পরিবর্তন ঘটেছিল?
উত্তরঃ তপন জানত যে লেখকেরাও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন—এটি সে নতুন মেসোমশাইকে দেখে বুঝতে শুরু করেছিল। কিন্তু তার মনে একটি ধারণা ছিল যে লেখকেরা বিশেষ ধরনের অসাধারণ মানুষ।
নিজের গল্প প্রকাশের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তপনের এই ধারণা আরও বাস্তব হয়ে ওঠে। সে বুঝতে পারে যে লেখক হওয়া কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়; সাধারণ মানুষের মধ্যেও লেখক হওয়ার প্রতিভা থাকতে পারে।
এই উপলব্ধির ফলে তপনের মনে বাস্তব জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতিভার প্রতি সচেতনতা তৈরি হয়।
৭. ‘সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে গেল’—কী কারণে বাড়িতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল?
উত্তরঃ তপনের লেখা গল্প ‘সন্ধ্যাতারা’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সারা বাড়িতে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তপনের আত্মীয়স্বজন তার গল্প প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত হয়ে ওঠেন।
বিশেষ করে তপনের প্রথম লেখা গল্প পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ায় সবাই মনে করেছিল, তপন ভবিষ্যতে বড় লেখক হতে পারবে।
তাই তপনের গল্প প্রকাশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়ির সকলের মধ্যে উৎসাহ, আনন্দ ও কৌতূহল দেখা দিয়েছিল এবং সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।
৮. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ কীভাবে খুলেছিল?
উত্তরঃ গল্পের শুরুতে তপনের মনে লেখকদের সম্পর্কে এক ধরনের ভুল ধারণা ছিল। সে ভাবত, লেখকেরা সাধারণ মানুষের মতো নন; তাঁরা অসাধারণ ও বিশেষ মানুষ।
নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপনের এই ধারণায় প্রথম পরিবর্তন আসে। সে বুঝতে পারে যে একজন লেখকও সাধারণ মানুষের মতোই স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
পরবর্তীতে নিজের গল্প প্রকাশের অভিজ্ঞতা তপনকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। মেসোমশাইয়ের অতিরিক্ত সংশোধনের ফলে সে উপলব্ধি করে যে নিজের সৃষ্টির প্রতি নিজের অধিকার ও আত্মসম্মান থাকা অত্যন্ত জরুরি।
এইভাবে তপনের মনে বাস্তব জ্ঞান ও আত্মসচেতনতার বিকাশ ঘটে। এটাই তার ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে যাওয়া।
৯. নতুন মেসোমশাই তপনের জীবনে কী ভূমিকা পালন করেছিলেন?
উত্তরঃ নতুন মেসোমশাই তপনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারকারী চরিত্র। তিনি একজন অধ্যাপক ও লেখক হওয়ায় তপনের মনে তাঁর প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা ও কৌতূহল জন্মেছিল।
তপনের লেখা গল্প পড়ে তিনি তাকে উৎসাহিত করেন এবং গল্পটি প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে তপনের মনে লেখক হওয়ার আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু গল্পটি প্রকাশের আগে মেসোমশাই সেটিতে অতিরিক্ত পরিবর্তন ও সংশোধন করেন। এর ফলে তপন নিজের লেখার স্বাতন্ত্র্য হারানোর কষ্ট অনুভব করে।
অতএব, মেসোমশাই একদিকে তপনকে উৎসাহ ও সুযোগ দিয়েছিলেন, অন্যদিকে তাঁর আচরণের মধ্য দিয়েই তপন নিজের সৃষ্টির মূল্য, আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিল।
১০. ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের মূল বক্তব্য আলোচনা করো।
উত্তরঃ ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পের মূল বক্তব্য হলো একজন মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়ে বাস্তব জ্ঞান ও আত্মসচেতনতার বিকাশ ঘটানো।
তপনের মনে প্রথমে লেখকদের সম্পর্কে অতিরঞ্জিত ও ভ্রান্ত ধারণা ছিল। নতুন মেসোমশাইকে দেখে সে বুঝতে পারে যে লেখকেরাও সাধারণ মানুষের মতোই স্বাভাবিক মানুষ।
নিজের গল্প প্রকাশের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তপন আরও উপলব্ধি করে যে নিজের সৃষ্টির স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা রক্ষা করা জরুরি। অন্যের সাহায্য গ্রহণ করা গেলেও নিজের সৃষ্টিশীলতার প্রতি আত্মসম্মান ও দায়িত্ববোধ থাকা দরকার।
এই উপলব্ধির মধ্য দিয়েই তপনের ‘জ্ঞানচক্ষু’ খুলে যায়। তাই গল্পটি মূলত বাস্তব জ্ঞান, আত্মবিশ্বাস, আত্মসম্মান এবং মানসিক পরিণতির গল্প।
Madhyamik All Subject Suggestion | মাধ্যমিক সাজেশন
- Madhyamik Bengali Suggestion Click here
- Madhyamik English Suggestion Click here
- Madhyamik History Suggestion Click here
- Madhyamik Geography Suggestion Click here
- Madhyamik Life Science Suggestion Click here
- Madhyamik Mathematics Suggestion Click here
- Madhyamik Physical Science Suggestion Click here
- Madhyamik Suggestion Click here
PDF: জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer PDF Download
জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer PDF Download: জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর সহ একটি PDF File শিক্ষার্থীদের revision-এর সুবিধার জন্য দেওয়া হলো।
PDF Download: জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer PDF Click Here
| আমাদের YouTube Channel টি সাবস্ক্রাইব করুন Click Here To Subscribe Now |
West Bengal Class 10 Bengali Board Exam Details
West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) conducts the Madhyamik Examination for Class 10 students across West Bengal. Bengali is one of the important subjects in the Madhyamik Board Exam, and students need to prepare each chapter carefully according to the prescribed syllabus. Here you will find useful Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer, study materials, important questions and other resources to help students prepare effectively for the Class 10 Bengali Board Exam.
Madhyamik Bengali Gyanchakshu Syllabus PDF
Madhyamik Bengali Gyanchakshu ‘জ্ঞানচক্ষু’ (গল্প) – আশাপূর্ণা দেবী অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সিলেবাস অনুযায়ী অধ্যায়টি মন দিয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি বারবার অনুশীলন করা।
Madhyamik Bengali Syllabus PDF: Click Here
জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer
Madhyamik Bengali Gyanchakshu জ্ঞানচক্ষু (গল্প) – আশাপূর্ণা দেবী থেকে দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে অধ্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নির্বাচিত MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীরা এগুলি ভালোভাবে পড়তে এবং নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে।
West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Gyanchakshu Suggestion Question and Answer
West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Gyanchakshu Suggestion Question and Answer খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্টে ‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্প – আশাপূর্ণা দেবী অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision করার পাশাপাশি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নোত্তরগু,লি সহায়ক হবে।
জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Gyanchakshu Question and Answer
আশা করি, ‘Madhyamik Bengali Gyanchakshu’ ‘জ্ঞানচক্ষু (গল্প) – আশাপূর্ণা দেবী’-এর এই প্রশ্নোত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসবে। পোস্টটি উপকারী মনে হলে সহপাঠীদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারো। West Bengal Board-এর সিলেবাস অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের Notes, Question Answer, Suggestion ও শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু, পাশাপাশি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় Study Material পেতে নিয়মিত ভিজিট করো Porasuna.in। ধন্যবাদ।





















