বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর
Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer: নমস্কার বন্ধুরা, আজকের আলোচনার বিষয় ‘বহুরূপী’ (গল্প) – সুবোধ ঘোষ, যা মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এই পোস্টে WBBSE Class 10 Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer-এর পাশাপাশি গল্প থেকে গুরুত্বপূর্ণ MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সুন্দরভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলি ভালোভাবে পড়া এবং অনুশীলন করা অত্যন্ত উপকারী।
যেসব ছাত্রছাত্রী বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর, WBBSE Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer অথবা পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা প্রশ্নোত্তর খুঁজছো, তারা এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে পড়তে পারো। বহুরূপী গল্প থেকে পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন ও উত্তর এখানে সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে, যা West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Exam Preparation এবং Revision-এর সময় বিশেষভাবে কাজে আসবে।
| বোর্ড | ডাব্লিউ বি সি এইচ এস ই (WBBSE) |
| ক্লাস | মাধ্যমিক দশম শ্রেণী (WB Class 10 Madhyamik) |
| বিষয় | মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা (Madhyamik Bengali) |
| পাঠ | বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ |
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক দশম শ্রেণীর বাংলা | West Bengal Madhyamik Class 10 Bengali Bohurupi Question and Answer
বহুনির্বাচনী : বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi MCQ [প্রশ্নমান – ১]
১. ‘বহুরূপী’ গল্পের প্রধান চরিত্রের নাম কী?
(ক) জগদীশবাবু
(খ) হরিদা
(গ) অনাদি
(ঘ) ভবতোষ
উত্তরঃ (খ) হরিদা
২. হরিদা সপ্তাহে বড়জোর কতদিন বহুরূপী সেজে পথে বের হতেন?
(ক) প্রতিদিন
(খ) একদিন
(গ) দুদিন
(ঘ) তিনদিন
উত্তরঃ (খ) একদিন
৩. হরিদা রূপসি বাইজির ছদ্মবেশে মোট কত টাকা রোজগার করেছিলেন?
(ক) আট টাকা আট আনা
(খ) আট টাকা দশ আনা
(গ) দশ টাকা আট আনা
(ঘ) দশ টাকা দশ আনা
উত্তরঃ (খ) আট টাকা দশ আনা
৪. হরিদা পুলিশ সেজে কোথায় দাঁড়িয়েছিলেন?
(ক) চকের বাসস্ট্যান্ডে
(খ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
(গ) জগদীশবাবুর বাড়ির সামনে
(ঘ) শহরের বাজারে
উত্তরঃ (খ) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
৫. জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত সন্ন্যাসী কতদিন ছিলেন?
(ক) তিনদিন
(খ) পাঁচদিন
(গ) সাতদিন
(ঘ) দশদিন
উত্তরঃ (গ) সাতদিন
৬. ‘বহুরূপী’ গল্পের হরিদার পেশা কী ছিল?
(ক) শিক্ষকতা
(খ) দোকানদারি
(গ) বহুরূপী সেজে রোজগার করা
(ঘ) চাকরি করা
উত্তরঃ (গ) বহুরূপী সেজে রোজগার করা
৭. হরিদা পাগল সেজে কোথায় গিয়েছিলেন?
(ক) দয়ালবাবুর লিচুবাগানে
(খ) চকের বাসস্ট্যান্ডে
(গ) জগদীশবাবুর বাড়িতে
(ঘ) বাজারে
উত্তরঃ (খ) চকের বাসস্ট্যান্ডে
৮. পাগল সেজে হরিদার গলায় কী ছিল?
(ক) ফুলের মালা
(খ) রুদ্রাক্ষের মালা
(গ) টিনের কৌটার মালা
(ঘ) সোনার মালা
উত্তরঃ (গ) টিনের কৌটার মালা
৯. বাসের ড্রাইভারের নাম কী ছিল?
(ক) ভোলানাথ
(খ) কাশীনাথ
(গ) বিশ্বনাথ
(ঘ) তারকনাথ
উত্তরঃ (খ) কাশীনাথ
১০. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়”—কথাটি কে বলেছে?
(ক) জগদীশবাবু
(খ) অনাদি
(গ) ভবতোষ
(ঘ) হরিদা
উত্তরঃ (ঘ) হরিদা
১১. হরিদার ঘরটি কোথায় ছিল?
(ক) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে
(খ) ধনী পাড়ায়
(গ) বাজারের পাশে
(ঘ) বাসস্ট্যান্ডের কাছে
উত্তরঃ (ক) শহরের সবচেয়ে সরু গলির ভিতরে
১২. হরিদার আড্ডার ঘরে মোট কতজনের সকাল-সন্ধ্যার আড্ডা বসত?
(ক) দুজনের
(খ) তিনজনের
(গ) চারজনের
(ঘ) পাঁচজনের
উত্তরঃ (গ) চারজনের
১৩. বিরাগীর ঝোলার মধ্যে কী ছিল?
(ক) শুকনো খাবার
(খ) টাকা-পয়সা
(গ) একটি গীতা
(ঘ) পূজার সামগ্রী
উত্তরঃ (গ) একটি গীতা
১৪. হরিদা কোন সাজে সবচেয়ে বেশি রোজগার করেছিলেন?
(ক) পাগল
(খ) পুলিশ
(গ) বাইজি
(ঘ) বিরাগী
উত্তরঃ (গ) বাইজি
১৫. হরিদা পুলিশ সেজে স্কুলের কতজন ছেলেকে ধরেছিলেন?
(ক) দুজন
(খ) তিনজন
(গ) চারজন
(ঘ) পাঁচজন
উত্তরঃ (গ) চারজন
১৬. নকল পুলিশ হরিদা স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে কত টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন?
(ক) চার আনা
(খ) আট আনা
(গ) এক টাকা
(ঘ) দুই টাকা
উত্তরঃ (খ) আট আনা
১৭. হরিদা কোন ধরনের কাজ করতে ভয়ানক আপত্তি করতেন?
(ক) অভিনয় করতে
(খ) বহুরূপী সাজতে
(গ) একঘেয়ে কাজ করতে
(ঘ) গল্প করতে
উত্তরঃ (গ) একঘেয়ে কাজ করতে
১৮. জগদীশবাবু কেমন মানুষ ছিলেন?
(ক) কৃপণ ও ধর্মভীরু
(খ) উদাসীন ও রাগী
(গ) অলস ও মিশুকে
(ঘ) দরিদ্র ও সরল
উত্তরঃ (ক) কৃপণ ও ধর্মভীরু
১৯. হরিদার উনানের হাঁড়িতে অনেক সময় কী ফুটত?
(ক) দুধ
(খ) ডাল
(গ) শুধু জল
(ঘ) ফলের রস
উত্তরঃ (গ) শুধু জল
২০. “খুব হয়েছে হরি, এইবার সরে পড়ো”—কথাটি কে বলেছিল?
(ক) জগদীশবাবু
(খ) কাশীনাথ
(গ) অনাদি
(ঘ) মাস্টারমশাই
উত্তরঃ (খ) কাশীনাথ
২১. বিরাগীর ছদ্মবেশে হরিদার গায়ে কী ছিল?
(ক) গৈরিক বসন
(খ) ধবধবে সাদা উত্তরীয়
(গ) কালো চাদর
(ঘ) দামি শাল
উত্তরঃ (খ) ধবধবে সাদা উত্তরীয়
২২. বিরাগীর পরনে কী ছিল?
(ক) সাদা থান
(খ) গেরুয়া ধুতি
(গ) কালো পাজামা
(ঘ) নীল পাঞ্জাবি
উত্তরঃ (ক) সাদা থান
২৩. বিরাগীর হাতে কী ছিল না?
(ক) গীতা
(খ) ঝোলা
(গ) কমণ্ডলু
(ঘ) বই
উত্তরঃ (গ) কমণ্ডলু
২৪. হরিদা বিরাগী সেজে কার বাড়িতে গিয়েছিলেন?
(ক) দয়ালবাবুর
(খ) অনাদির
(গ) ভবতোষের
(ঘ) জগদীশবাবুর
উত্তরঃ (ঘ) জগদীশবাবুর
২৫. জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে কী প্রার্থনা করেছিলেন?
(ক) তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন থাকার জন্য
(খ) টাকা নেওয়ার জন্য
(গ) তাঁর সঙ্গে ভ্রমণে যাওয়ার জন্য
(ঘ) তাঁকে চাকরি দেওয়ার জন্য
উত্তরঃ (ক) তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন থাকার জন্য
২৬. জগদীশবাবু বিরাগীকে কত টাকা প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন?
(ক) একশো টাকা
(খ) একশো এক টাকা
(গ) পাঁচশো টাকা
(ঘ) এক হাজার টাকা
উত্তরঃ (খ) একশো এক টাকা
২৭. বিরাগী জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা কী করেছিলেন?
(ক) গ্রহণ করেছিলেন
(খ) গোপনে রেখে দিয়েছিলেন
(গ) প্রত্যাখ্যান করে চলে গিয়েছিলেন
(ঘ) দরিদ্রদের দিয়ে দিয়েছিলেন
উত্তরঃ (গ) প্রত্যাখ্যান করে চলে গিয়েছিলেন
২৮. হরিদা বিরাগীর সাজে টাকা নেননি কেন?
(ক) টাকা তাঁর প্রয়োজন ছিল না
(খ) তিনি টাকা নিতে ভুলে গিয়েছিলেন
(গ) তাতে তাঁর বিরাগীর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যেত
(ঘ) জগদীশবাবু টাকা কম দিয়েছিলেন
উত্তরঃ (গ) তাতে তাঁর বিরাগীর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যেত
২৯. “আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই”—কথাটি কে বলেছিলেন?
(ক) হরিদা
(খ) জগদীশবাবু
(গ) অনাদি
(ঘ) ভবতোষ
উত্তরঃ (ক) হরিদা
৩০. “পরম সুখ কাকে বলে জানেন?”—বিরাগীর মতে পরম সুখ কী?
(ক) প্রচুর অর্থ লাভ করা
(খ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া
(গ) রাজপ্রাসাদে বসবাস করা
(ঘ) সংসারে সুখে থাকা
উত্তরঃ (খ) সব সুখের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যাওয়া
৩১. “ধন জন যৌবন কিছুই নয়”—এ কথা কে বলেছিলেন?
(ক) হরিদা
(খ) জগদীশবাবু
(গ) অনাদি
(ঘ) ভবতোষ
উত্তরঃ (ক) হরিদা
৩২. বিরাগী জগদীশবাবুর কাছে কী চেয়েছিলেন?
(ক) একশো এক টাকা
(খ) ঠান্ডা জল
(গ) খাবার
(ঘ) আশ্রয়
উত্তরঃ (খ) ঠান্ডা জল
৩৩. বিরাগী জগদীশবাবুর বাড়িতে থাকা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কেন?
(ক) তিনি বাড়িটি পছন্দ করেননি
(খ) তাঁর অন্যত্র যাওয়ার কথা ছিল
(গ) খোলা আকাশ ও ধরিত্রীর মাটিতে থাকতে চেয়েছিলেন
(ঘ) জগদীশবাবু তাঁকে অপমান করেছিলেন
উত্তরঃ (গ) খোলা আকাশ ও ধরিত্রীর মাটিতে থাকতে চেয়েছিলেন
৩৪. জগদীশবাবু বিরাগীর পায়ের ধুলো কীভাবে নিয়েছিলেন?
(ক) প্রণাম করে
(খ) সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম পরিয়ে
(গ) পা ধুয়ে
(ঘ) পায়ে ফুল দিয়ে
উত্তরঃ (খ) সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম পরিয়ে
৩৫. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী সারা বছরে কী খেতেন বলে বলা হয়েছিল?
(ক) ফলমূল
(খ) দুধ
(গ) একটি হরীতকী
(ঘ) ভাত
উত্তরঃ (গ) একটি হরীতকী
৩৬. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর বয়স কত বলে অনেকে মনে করত?
(ক) একশো বছরের বেশি
(খ) পাঁচশো বছর
(গ) হাজার বছরেরও বেশি
(ঘ) দুশো বছর
উত্তরঃ (গ) হাজার বছরেরও বেশি
৩৭. সন্ন্যাসী কোথায় থাকতেন বলে বলা হয়েছিল?
(ক) কাশীতে
(খ) হিমালয়ের গুহায়
(গ) পুরীতে
(ঘ) বৃন্দাবনে
উত্তরঃ (খ) হিমালয়ের গুহায়
৩৮. হরিদা কোন কোন সাজে বহুরূপী হতেন?
(ক) পাগল, বাইজি, পুলিশ
(খ) বাউল, কাপালিক, কাবুলিওয়ালা
(গ) ফিরিঙ্গি সাহেব
(ঘ) উপরোক্ত সবগুলি
উত্তরঃ (ঘ) উপরোক্ত সবগুলি
৩৯. হরিদা পাগল সেজে বাসের যাত্রীদের দিকে কী নিয়ে তেড়ে যাচ্ছিলেন?
(ক) লাঠি
(খ) ছুরি
(গ) থান ইট
(ঘ) বাঁশ
উত্তরঃ (গ) থান ইট
৪০. হরিদা পাগল সেজে বাসস্ট্যান্ডে কী করছিলেন?
(ক) গান গাইছিলেন
(খ) বাসের যাত্রীদের দিকে ইট নিয়ে তেড়ে যাচ্ছিলেন
(গ) দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলছিলেন
(ঘ) নাচছিলেন
উত্তরঃ (খ) বাসের যাত্রীদের দিকে ইট নিয়ে তেড়ে যাচ্ছিলেন
৪১. বাইজি সেজে হরিদা কীভাবে টাকা সংগ্রহ করতেন?
(ক) গান গেয়ে
(খ) ফুলসাজি এগিয়ে দিয়ে
(গ) ভিক্ষা করে
(ঘ) দোকানে কাজ করে
উত্তরঃ (খ) ফুলসাজি এগিয়ে দিয়ে
৪২. পুলিশ সেজে হরিদা কাদের ধরেছিলেন?
(ক) চারজন দোকানদারকে
(খ) চারজন স্কুলছাত্রকে
(গ) দুজন চোরকে
(ঘ) তিনজন পথচারীকে
উত্তরঃ (খ) চারজন স্কুলছাত্রকে
৪৩. হরিদার পেশার আয় কেমন ছিল?
(ক) অত্যন্ত নিয়মিত
(খ) প্রচুর
(গ) অনিশ্চিত ও সামান্য
(ঘ) মাসিক নির্দিষ্ট
উত্তরঃ (গ) অনিশ্চিত ও সামান্য
৪৪. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না”—হরিদার কোন ভুলের কথা বলা হয়েছে?
(ক) চাকরি না করার ভুল
(খ) বহুরূপী সাজা
(গ) একশো এক টাকা গ্রহণ না করার ভুল
(ঘ) পুলিশ সেজে ঘুষ নেওয়ার ভুল
উত্তরঃ (গ) একশো এক টাকা গ্রহণ না করার ভুল
৪৫. হরিদার বন্ধুরা তাঁর ঘরে কী নিয়ে আসত?
(ক) বই ও খাতা
(খ) চা, চিনি ও দুধ
(গ) খাবার ও ফল
(ঘ) সংবাদপত্র
উত্তরঃ (খ) চা, চিনি ও দুধ
৪৬. “কী অদ্ভুত কথা বলেন হরিদা!”—হরিদার কোন কথাকে অদ্ভুত বলা হয়েছিল?
(ক) তিনি চাকরি করবেন না
(খ) বিরাগী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর ঢং নষ্ট হবে
(গ) তিনি পাগল সাজবেন
(ঘ) তিনি জগদীশবাবুর বাড়িতে যাবেন
উত্তরঃ (খ) বিরাগী হয়ে টাকা স্পর্শ করলে তাঁর ঢং নষ্ট হবে
৪৭. হরিদা বিরাগীর সাজে জগদীশবাবুর বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার পর কোথায় ছিলেন?
(ক) বাজারে
(খ) বাসস্ট্যান্ডে
(গ) নিজের ঘরে
(ঘ) দয়ালবাবুর বাগানে
উত্তরঃ (গ) নিজের ঘরে
৪৮. হরিদার ঘরে ফিরে আসার সময় উনানের হাঁড়িতে কী ফুটছিল?
(ক) শুধু জল
(খ) চাল
(গ) ডাল
(ঘ) দুধ
উত্তরঃ (খ) চাল
৪৯. হরিদা ভবিষ্যতে জগদীশবাবুর কাছে আবার যাওয়ার কথা বলেছিলেন কেন?
(ক) তাঁর কাছে চাকরি চাইতে
(খ) তাঁর বাড়িতে থাকতে
(গ) বকশিশ দাবি করতে
(ঘ) ক্ষমা চাইতে
উত্তরঃ (গ) বকশিশ দাবি করতে
৫০. গল্পের শেষে হরিদা নিজের জীবন সম্পর্কে কী উপলব্ধি প্রকাশ করেন?
(ক) তিনি ধনী হয়ে যাবেন
(খ) তিনি খাঁটি মানুষ নন, তাই বহুরূপীর জীবন থেকে বেশি আশা করা যায় না
(গ) তিনি আর বহুরূপী সাজবেন না
(ঘ) তিনি জগদীশবাবুর বাড়িতে থাকবেন
উত্তরঃ (খ) তিনি খাঁটি মানুষ নন, তাই বহুরূপীর জীবন থেকে বেশি আশা করা যায় না
[Madhyamik Bengali Suggestion Click Here]
অতিসংক্ষিপ্ত : বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা | WBBSE Madhyamik Bengali Bohurupi SAQ [প্রশ্নমান – ১]
১. ‘বহুরূপী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ ‘বহুরূপী’ শব্দের অর্থ হলো যিনি বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারেন।
২. হরিদা সপ্তাহে ক’দিন বহুরূপী সাজতেন?
উত্তরঃ হরিদা সপ্তাহে বড়জোর একদিন বহুরূপী সাজতেন।
৩. ‘বহুরূপী’ গল্পটি কার লেখা?
উত্তরঃ ‘বহুরূপী’ গল্পটি সাহিত্যিক সুবোধ ঘোষের লেখা।
৪. হরিদার দারিদ্র্যের চিত্র কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উত্তরঃ হরিদার উনোনের হাঁড়িতে অনেক সময় শুধু জল ফুটত, ভাত ফুটত না—এই বর্ণনার মাধ্যমে তাঁর চরম দারিদ্র্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
৫. “সেটা আমার বহুরূপী জীবনের সবচেয়ে বড়ো বকশিশ।” — সবচেয়ে বড়ো বকশিশ কোনটি?
উত্তরঃ জগদীশবাবুর কাছ থেকে বিরাগী সেজে পাওয়া ভক্তি ও শ্রদ্ধাই ছিল হরিদার বহুরূপী জীবনের সবচেয়ে বড়ো বকশিশ।
৬. হরিদা পুলিশ সেজে কত টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন?
উত্তরঃ হরিদা পুলিশ সেজে স্কুলের মাস্টারমশাইয়ের কাছ থেকে আট আনা ঘুষ নিয়েছিলেন।
৭. হরিদার আড্ডার সঙ্গী কারা ছিল?
উত্তরঃ হরিদার আড্ডার সঙ্গী ছিল কথক, অনাদি ও ভবতোষ।
৮. জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসী কোথা থেকে এসেছিলেন?
উত্তরঃ সন্ন্যাসী হিমালয়ের গুহা থেকে এসেছিলেন বলে পরিচিত ছিলেন।
৯. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।” — কিসে ঢং নষ্ট হয়ে যায়?
উত্তরঃ বিরাগীর ছদ্মবেশে টাকা-পয়সা গ্রহণ বা স্পর্শ করলে তাঁর বিরাগীর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যায়।
১০. পাগল সেজে হরিদা কী করছিলেন?
উত্তরঃ পাগল সেজে হরিদা চকের বাসস্ট্যান্ডে বাসের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ছিলেন।
১১. জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে কী প্রার্থনা করেছিলেন?
উত্তরঃ জগদীশবাবু বিরাগীর কাছে তাঁর বাড়িতে কয়েকদিন থাকার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন।
১২. হরিদার ছোট্ট ঘরটি কোথায় ছিল?
উত্তরঃ হরিদার ছোট্ট ঘরটি শহরের সবচেয়ে সরু একটি গলির ভিতরে ছিল।
১৩. বিরাগী সেজে হরিদা কী কী জিনিস সঙ্গে নিয়েছিলেন?
উত্তরঃ হরিদা সঙ্গে নিয়েছিলেন একটি ঝোলা, একটি গীতা ও একটি চিমটে।
১৪. হরিদা কী কাজ করতে ভালোবাসতেন না?
উত্তরঃ হরিদা কোনো ধরাবাঁধা বা একঘেয়ে কাজ করতে ভালোবাসতেন না।
১৫. সন্ন্যাসীর পায়ে কীসের খড়ম ছিল?
উত্তরঃ সন্ন্যাসীর পায়ে সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম ছিল।
১৬. “আমি বিরাগী, রাগ নামে কোনো রিপু আমার নেই।” — কথাটির অর্থ কী?
উত্তরঃ এর অর্থ হলো, একজন সংসারত্যাগী বিরাগীর মনে রাগ বা ক্রোধের মতো রিপু থাকা উচিত নয়।
১৭. হরিদার কোন সাজ দেখে তাঁর বন্ধুরা ভয় পেয়েছিল?
উত্তরঃ হরিদার কাপালিক সাজ দেখে তাঁর বন্ধুরা ভয় পেয়েছিল।
১৮. হরিদা কেন বিরাগী সেজেছিলেন?
উত্তরঃ হরিদা একটি জবর খেলা দেখানোর জন্য বিরাগী সেজেছিলেন এবং মনে করেছিলেন, এতে মোটা বকশিশ পাওয়া যেতে পারে।
১৯. বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ হরিদার উপর কেন রেগে গিয়েছিল?
উত্তরঃ পাগল সেজে হরিদা বাসের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ছিলেন, তাই ড্রাইভার কাশীনাথ তাঁর উপর রেগে গিয়েছিল।
২০. “কি অদ্ভুত কথা বলেন হরিদা!” — কোন কথাকে অদ্ভুত বলা হয়েছে?
উত্তরঃ বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা প্রত্যাখ্যান করার কথাকেই অদ্ভুত বলা হয়েছে।
২১. দয়ালবাবুর লিচুবাগান কোথায় অবস্থিত?
উত্তরঃ দয়ালবাবুর লিচুবাগান শহরের মধ্যেই অবস্থিত।
২২. “ওসব হলো সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা।” — কোনগুলোকে বঞ্চনা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ধন, জন ও যৌবনকে বিরাগী ‘সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা’ বলেছেন।
২৩. ভবতোষ হরিদার কোন কাজকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ বলেছেন?
উত্তরঃ ভবতোষ হরিদার জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা ফিরিয়ে দেওয়াকে ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ কাজ বলেছেন।
২৪. হরিদার জীবনে কীসের অভাব ছিল?
উত্তরঃ হরিদার জীবনে আর্থিক সচ্ছলতার অভাব ছিল।
২৫. বিরাগী সেজে হরিদা জগদীশবাবুকে কী উপদেশ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ তিনি জগদীশবাবুকে ধন, জন ও যৌবনের মোহ ত্যাগ করে ঈশ্বরের সন্ধান করতে উপদেশ দিয়েছিলেন।
২৬. বাইজির সাজে হরিদা কোথায় গিয়েছিলেন?
উত্তরঃ বাইজির সাজে হরিদা শহরের সবচেয়ে বর্ধিষ্ণু এলাকা দিয়ে নাচ ও গান করতে করতে গিয়েছিলেন।
২৭. “খাঁটি মানুষ তো নই”—কে, কেন এ কথা বলেছেন?
উত্তরঃ হরিদা এ কথা বলেছেন। কারণ তিনি খাঁটি বিরাগী বা সন্ন্যাসী নন, একজন বহুরূপী মাত্র।
২৮. হরিদার রোজগারকে ‘অদৃষ্টের চালে চলত’ বলা হয় কেন?
উত্তরঃ হরিদার কোনো নির্দিষ্ট আয় ছিল না; যেদিন যে সাজে যত টাকা পেতেন, সেই আয়ের ওপরই তাঁর জীবন চলত।
২৯. “একটা বিরাট কাণ্ড”—কোন ঘটনাকে বিরাট কাণ্ড বলা হয়েছে?
উত্তরঃ জগদীশবাবুর বাড়িতে উঁচু দরের এক সন্ন্যাসীর আগমন এবং তাঁকে ঘিরে জগদীশবাবুর প্রবল ভক্তির ঘটনাকে বিরাট কাণ্ড বলা হয়েছে।
৩০. হরিদার বন্ধুরা কোথায় আড্ডা দিত?
উত্তরঃ হরিদার বন্ধুরা তাঁর ছোট্ট ঘরে চায়ের ভাঁড় হাতে নিয়ে আড্ডা দিত।
৩১. হরিদা কীসের প্রতি উদাসীন ছিলেন?
উত্তরঃ হরিদা অর্থলোভ ও জাগতিক মোহের প্রতি উদাসীন ছিলেন।
৩২. “খুব হয়েছে হরিদা, এইবার সরে পড়ো”—এই কথা কে বলেছিল?
উত্তরঃ এই কথা বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ বলেছিল।
৩৩. “সেটা আমার বহুরূপী জীবনের সবচেয়ে বড়ো বকশিশ”—এই বকশিশের বিশেষত্ব কী?
উত্তরঃ এটি ছিল টাকার বকশিশ নয়, মানুষের ভক্তি ও শ্রদ্ধার বকশিশ; তাই হরিদার কাছে এর মূল্য ছিল সবচেয়ে বেশি।
৩৪. গল্পের শেষে হরিদা কী করছিলেন?
উত্তরঃ গল্পের শেষে হরিদা উনোনে ভাতের হাঁড়ি চাপিয়েছিলেন।
৩৫. বিরাগী কী স্পর্শ করেন না?
উত্তরঃ বিরাগী সোনা বা টাকা-পয়সার মতো জাগতিক সম্পদ স্পর্শ করেন না।
৩৬. হরিদা বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়ে কী করেছিলেন?
উত্তরঃ তিনি বিরাগীর মতো আচার-আচরণ করে জগদীশবাবুকে ধর্ম ও সংসারত্যাগের উপদেশ দিয়েছিলেন।
৩৭. জগদীশবাবু কেমন মানুষ ছিলেন?
উত্তরঃ জগদীশবাবু ছিলেন কৃপণ, কিন্তু একই সঙ্গে ধর্মভীরু ও অতিথিপরায়ণ মানুষ।
৩৮. হরিদার দারিদ্র্য সত্ত্বেও তাঁর কোন গুণটি অটুট ছিল?
উত্তরঃ দারিদ্র্য সত্ত্বেও হরিদার আত্মসম্মান ও শিল্পীসত্তা অটুট ছিল।
৩৯. “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা”—কোন গল্প শুনে?
উত্তরঃ জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা উঁচু দরের সন্ন্যাসীর আশ্চর্য কাহিনি শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন।
৪০. হরিদা কীভাবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতেন?
উত্তরঃ হরিদা তাঁর বহুরূপী শিল্প ও অভিনয়-প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে সামান্য রোজগার করতেন এবং আত্মসম্মান বজায় রেখে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতেন।
[Madhyamik Suggestion Click Here]
সংক্ষিপ্ত : বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi QNA [প্রশ্নমান – ৩]
১. ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার শিল্পীসত্তার পরিচয় দাও।
উত্তরঃ হরিদা একজন জাতশিল্পী। বহুরূপী সাজা তাঁর কাছে শুধু রোজগারের উপায় নয়, এটি তাঁর শিল্প ও অভিনয়সাধনা। তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করতেন, তার সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্ম হয়ে যেতেন। বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা প্রত্যাখ্যান করাও তাঁর শিল্পীসত্তার পরিচয়। অর্থের চেয়ে তিনি শিল্পের মর্যাদা ও আত্মসম্মানকে বড়ো করে দেখেছেন।
২. “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।” — বক্তা কে? হরিদার কোন ভুলকে ক্ষমা না করার কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ উক্তিটির বক্তা অনাদি। হরিদা বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর কাছ থেকে দেওয়া একশো এক টাকা প্রণামী গ্রহণ করেননি। অনাদির মতে, এত বড়ো অর্থের সুযোগ পেয়েও তা ফিরিয়ে দেওয়া ছিল হাতের লক্ষ্মীকে পায়ে ঠেলে দেওয়ার মতো ভুল। তাই সে রসিকতা করে বলে, অদৃষ্ট হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।
৩. হরিদার দারিদ্র্য সত্ত্বেও তিনি কোন বিষয়ে আপসহীন ছিলেন?
উত্তরঃ হরিদা চরম দরিদ্র হলেও আত্মসম্মান ও শিল্পীসত্তার সঙ্গে কখনও আপস করেননি। তিনি কোনো ধরাবাঁধা একঘেয়ে চাকরি করতে চাননি। আবার বিরাগী সেজে একশো এক টাকা পাওয়ার সুযোগ এলেও নিজের অভিনয়ের চরিত্র নষ্ট হবে বলে টাকা গ্রহণ করেননি। এতে তাঁর আত্মমর্যাদা ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা প্রকাশ পায়।
৪. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।” — কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা গ্রহণ না করার প্রসঙ্গে হরিদা এই কথা বলেন। তাঁর মতে, একজন বিরাগী যদি টাকার প্রতি লোভ দেখায়, তাহলে তার নির্লোভ চরিত্র ও অভিনয়ের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই হরিদার কাছে চরিত্রের স্বাভাবিকতা ও শিল্পের মর্যাদা অর্থের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
৫. “সে ভয়ানক দুর্লভ জিনিস।” — কোন জিনিসকে কেন দুর্লভ বলা হয়েছে?
উত্তরঃ জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা উঁচু দরের সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলোকে ‘ভয়ানক দুর্লভ জিনিস’ বলা হয়েছে। কারণ সেই সন্ন্যাসী সহজে কাউকে তাঁর পা স্পর্শ করতে দিতেন না। জগদীশবাবু বিশেষ কৌশলে তাঁর পায়ের ধুলো সংগ্রহ করেছিলেন। তাই সন্ন্যাসীর পায়ের ধুলো পাওয়া অত্যন্ত দুর্লভ সৌভাগ্য বলে মনে করা হয়েছিল।
৬. চকের বাসস্ট্যান্ডে হরিদার কার্যকলাপ সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তরঃ একদিন হরিদা উন্মাদ পাগলের ছদ্মবেশে চকের বাসস্ট্যান্ডে গিয়েছিলেন। তিনি পাগলের মতো আচরণ করে বাস ও যাত্রীদের দিকে ইট-পাটকেল ছুঁড়ছিলেন। তাঁর সাজ ও অভিনয় এতটাই বাস্তব ছিল যে বাসের ড্রাইভার কাশীনাথ ও যাত্রীরা তাঁকে সত্যিই পাগল বলে মনে করেছিলেন। ফলে তাঁকে সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়।
৭. হরিদার পুলিশ সাজার ঘটনাটি লেখো।
উত্তরঃ হরিদা একবার পুলিশের ছদ্মবেশে দয়ালবাবুর লিচুবাগানে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি চারজন স্কুলছাত্রকে লিচু চুরির অপরাধে ধরে ফেলেন। তাঁর অভিনয়ে ছাত্ররা ভয় পেয়ে যায় এবং স্কুলের মাস্টারমশাইও তাঁকে সত্যিকারের পুলিশ বলে মনে করেন। শেষ পর্যন্ত হরিদা আট আনা ঘুষ নিয়ে তাদের ছেড়ে দেন।
৮. জগদীশবাবুর চরিত্রটি সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ জগদীশবাবু ছিলেন ধনী, কৃপণ ও ধর্মভীরু মানুষ। সাধুসন্তদের প্রতি তাঁর গভীর ভক্তি ছিল এবং তিনি তাঁদের সেবা করতে চাইতেন। কিন্তু তাঁর ধর্মভক্তির মধ্যে জাগতিক অর্থ ও প্রতিপত্তির প্রভাব ছিল। বিরাগীকে একশো এক টাকা দিতে চাওয়া এবং তাঁর পায়ের ধুলো পাওয়ার আকাঙ্ক্ষার মধ্যে তাঁর ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি আত্মগরিমা ও জাগতিক মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে।
৯. “নইলে আমি শান্তি পাব না।” — বক্তার অশান্তির কারণ কী? তিনি কীভাবে শান্তি পেতে চেয়েছিলেন?
উত্তরঃ বক্তা হলেন জগদীশবাবু। বিরাগী তাঁর কোনো সেবা, প্রণামী বা আতিথ্য গ্রহণ করতে রাজি না হওয়ায় জগদীশবাবুর মনে অশান্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি বিরাগীকে নিজের বাড়িতে রেখে সেবা করতে এবং একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চেয়েছিলেন। এভাবেই তিনি নিজের ধর্মীয় আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে শান্তি পেতে চেয়েছিলেন।
১০. হরিদার আড্ডার বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ হরিদার আড্ডা বসত শহরের একটি সরু গলির ভিতরে তাঁর ছোট্ট ঘরে। কথক, অনাদি, ভবতোষ প্রমুখ সেখানে এসে চায়ের ভাঁড় হাতে আড্ডা দিত। হরিদার বহুরূপী সাজ, তাঁর নানা অভিজ্ঞতা এবং শহরের বিচিত্র ঘটনা ছিল তাঁদের আলোচনার বিষয়। এই আড্ডা ছিল তাঁদের আনন্দ ও বিনোদনের অন্যতম প্রধান উৎস।
১১. “কি চমৎকার সাজ সেজেছেন হরিদা!” — হরিদার কোন সাজের কথা বলা হয়েছে? সেই সাজের বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ এখানে হরিদার বিরাগী সাজের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মাথায় ছিল সাদা চুল, পরনে ছিল সাদা উত্তরীয়, হাতে ছিল গীতা-সহ একটি ঝোলা ও চিমটে। তাঁর শান্ত, সৌম্য ও পবিত্র চেহারা দেখে তাঁকে সত্যিকারের সংসারত্যাগী বিরাগী বলেই মনে হচ্ছিল।
১২. “কিন্তু কাজটা কি ঠিক হবে?” — কোন কাজের কথা বলা হয়েছে? বক্তার মনে এই সংশয়ের কারণ কী?
উত্তরঃ এখানে হরিদার বিরাগী সেজে জগদীশবাবুর বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। বন্ধুদের মনে সংশয় ছিল, কারণ জগদীশবাবু অত্যন্ত ধর্মভীরু এবং সাধুসন্তদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। হরিদার ছদ্মবেশ ধরা পড়লে বিষয়টি বিপজ্জনক বা অপমানজনক হয়ে উঠতে পারে—এই আশঙ্কাতেই তাঁদের মনে সংশয় দেখা দিয়েছিল।
১৩. “গল্প শুনে খুব গম্ভীর হয়ে গেলেন হরিদা।” — কোন গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়েছিলেন?
উত্তরঃ জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা উঁচু দরের হিমালয়বাসী সন্ন্যাসীর গল্প শুনে হরিদা গম্ভীর হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বুঝতে পারেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি একটি নতুন ও চমৎকার ছদ্মবেশের খেলা দেখাতে পারেন। তাই তাঁর মনে নতুন পরিকল্পনা তৈরি হয়।
১৪. বিরাগী ও জগদীশবাবুর কথোপকথন সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ বিরাগী ও জগদীশবাবুর কথোপকথনে জাগতিক লোভ ও বৈরাগ্যের দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে। জগদীশবাবু টাকা ও আশ্রয়ের মাধ্যমে বিরাগীকে সেবা করতে চান। অন্যদিকে বিরাগী তাঁকে ধন, জন ও যৌবনের মোহ ত্যাগ করে ঈশ্বরের সন্ধান করতে বলেন। একসময় বিরাগী প্রশ্ন করেন, “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়?”—এর মাধ্যমে জগদীশবাবুর অর্থনির্ভর ভক্তির অসারতা তুলে ধরা হয়।
১৫. “খাঁটি মানুষ তো নই, এই বহুরূপীর জীবনের থেকে বেশি কী আশা করতে পারি?” — উক্তিটির তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ উক্তিটি হরিদার। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী নন, একজন বহুরূপী শিল্পী। তাই সত্যিকারের সাধুর মতো সম্মান বা সম্পদ পাওয়ার আশা করা তাঁর উচিত নয়। এই কথার মাধ্যমে তাঁর আত্মসচেতনতা, বাস্তববোধ ও নিজের অবস্থান সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা প্রকাশ পেয়েছে।
১৬. হরিদার রোজগারের বিবরণ দাও।
উত্তরঃ হরিদার রোজগার ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত ও সামান্য। তিনি সপ্তাহে বড়জোর একদিন বহুরূপী সাজতেন। পাগল সেজে এক টাকা ও কয়েকটি পয়সা, বাইজি সেজে আট টাকা দশ আনা এবং পুলিশ সেজে আট আনা পেয়েছিলেন। এই সামান্য ও অনিয়মিত আয়েই তাঁর অভাব-অনটনের জীবন চলত।
১৭. “এই শহরের জীবনে মাঝে মাঝে বেশ চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করেন হরিদা।” — হরিদা কীভাবে চমৎকার ঘটনা সৃষ্টি করতেন?
উত্তরঃ হরিদা বিভিন্ন ধরনের বাস্তবসম্মত ছদ্মবেশ ধারণ করে শহরের মানুষের সামনে হাজির হতেন। কখনও পাগল, কখনও পুলিশ, কখনও বাইজি বা কাপালিক সেজে তিনি সবাইকে চমকে দিতেন। তাঁর অভিনয় এতটাই নিখুঁত ছিল যে মানুষ অনেক সময় তাঁকে চিনতে পারত না। এভাবেই তিনি শহরের একঘেয়ে জীবনে বৈচিত্র্য ও চমক সৃষ্টি করতেন।
১৮. “ওসব হলো সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা।” — কোন জিনিসগুলিকে এবং কেন বঞ্চনা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ধন, জন ও যৌবনকে বিরাগী ‘সুন্দর সুন্দর এক-একটি বঞ্চনা’ বলেছেন। কারণ এগুলি দেখতে আকর্ষণীয় হলেও মানুষের মনে মোহ ও আসক্তি সৃষ্টি করে। এই জাগতিক আকর্ষণ মানুষকে সত্যিকার আত্মজ্ঞান ও ঈশ্বরসন্ধান থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই এগুলিকে বঞ্চনা বলা হয়েছে।
১৯. “আজ তোমাদের একটা জবর খেলা দেখাব।” — ‘জবর খেলা’টি কী ছিল? তার পরিণতি কী হয়েছিল?
উত্তরঃ ‘জবর খেলা’ ছিল হরিদার বিরাগীর ছদ্মবেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে যাওয়া। তাঁর অভিনয় এত নিখুঁত হয়েছিল যে জগদীশবাবু তাঁকে সত্যিকারের সাধু বলে বিশ্বাস করেন এবং একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান। কিন্তু হরিদা টাকা গ্রহণ না করে নিজের অভিনয়ের চরিত্র ও আত্মসম্মান বজায় রাখেন।
২০. “পরমাত্মা যার কাছে একটা নোংরা কৌতুক।” — এই উক্তির আলোকে জগদীশবাবুর চরিত্র বিচার করো।
উত্তরঃ এই উক্তির মাধ্যমে জগদীশবাবুর জাগতিক আসক্তি ও ধর্মীয় ভণ্ডামির দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি নিজেকে ধর্মভীরু মনে করলেও তাঁর ভক্তির সঙ্গে অর্থ, প্রতিপত্তি ও আত্মগরিমা মিশে ছিল। তিনি অর্থ দিয়ে বিরাগীর সেবা করতে চেয়েছিলেন। তাই বিরাগীর চোখে তাঁর এই আচরণ পরমাত্মার প্রতি সত্যিকারের ভক্তির পরিবর্তে এক ধরনের জাগতিক কৌতুক হয়ে উঠেছিল।
২১. বিরাগীর সাজ ও জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর সাজের মধ্যে পার্থক্য কী ছিল?
উত্তরঃ হরিদার বিরাগী সাজ ছিল সাদাসিধে ও আড়ম্বরহীন—সাদা উত্তরীয়, ঝোলা, গীতা ও চিমটে ছিল তাঁর সাজের প্রধান উপকরণ। অন্যদিকে জগদীশবাবুর বাড়িতে আসা সন্ন্যাসীর পায়ে ছিল সোনার বোল লাগানো কাঠের খড়ম। ফলে একজনের সাজে সরল বৈরাগ্য, অন্যজনের সাজে মহিমা ও জাগতিক ঐশ্বর্যের ছাপ দেখা যায়।
২২. “হরিদার জীবন এইরকম বহুরূপের খেলা দেখিয়েই একরকম চলে যাচ্ছে।” — ‘বহুরূপের খেলা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘বহুরূপের খেলা’ বলতে হরিদার বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করে মানুষের সামনে অভিনয় করা এবং তার মাধ্যমে সামান্য রোজগার করাকে বোঝানো হয়েছে। এটি তাঁর কাছে শুধু জীবিকা নয়, একটি শিল্প। অনিশ্চিত ও সামান্য আয়েই তাঁর অভাব-অনটনের জীবন কোনোমতে চলত।
২৩. “একটা চাকরির দরকার।” — হরিদা কেন চাকরি করেননি?
উত্তরঃ হরিদার স্বাধীনচেতা ও শিল্পীমন কোনো ধরাবাঁধা কাজ পছন্দ করত না। তিনি মনে করতেন, নিয়ম করে অফিসে যাওয়া-আসার মতো একঘেয়ে চাকরি তাঁর স্বাধীন সত্তার সঙ্গে মানানসই নয়। বহুরূপী সাজের মধ্যে তিনি যেমন স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও শিল্পের আনন্দ পেতেন, চাকরিতে তা পেতেন না।
২৪. হরিদার দারিদ্র্য কীভাবে তাঁর চরিত্রকে আরও মহৎ করে তুলেছে?
উত্তরঃ হরিদার জীবনে ছিল চরম আর্থিক অভাব। তাঁর উনোনে অনেক সময় শুধু জল ফুটত, ভাত জুটত না। তবুও তিনি অর্থের জন্য নিজের শিল্পীসত্তা ও আত্মসম্মান বিকিয়ে দেননি। একশো এক টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাই তাঁর দারিদ্র্যের মধ্যেও আত্মমর্যাদা, সততা ও শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে মহৎ চরিত্রে পরিণত করেছে।
২৫. ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ হরিদা ছিলেন স্বাধীনচেতা, রসিক, দক্ষ অভিনেতা, আত্মমর্যাদাশীল ও শিল্পপ্রেমী মানুষ। দারিদ্র্যের কারণে তিনি কোনো ধরাবাঁধা চাকরি গ্রহণ করেননি; বরং বহুরূপী সাজাকে জীবিকা ও শিল্প—দুই হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর অভিনয় ছিল অত্যন্ত বাস্তবসম্মত। সবচেয়ে বড় কথা, একশো এক টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি চরিত্রের মর্যাদা রক্ষার জন্য টাকা প্রত্যাখ্যান করেন। তাই হরিদা শুধু একজন বহুরূপী নন, তিনি শিল্পের প্রতি নিষ্ঠাবান ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এক অনন্য চরিত্র।
রচনাধর্মী : বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi LAQ [প্রশ্নমান – ৫]
১. “সেটাই তো হরিদার জীবনের পেশা।” — হরিদার পেশার পরিচয় দাও। এই পেশার প্রতি তার মনোভাব কেমন ছিল?
উত্তরঃ হরিদার জীবনের পেশা ছিল বহুরূপী সেজে মানুষের মনোরঞ্জন করা এবং বকশিশের মাধ্যমে সামান্য অর্থ উপার্জন করা। তিনি কোনো ধরাবাঁধা চাকরি বা নিয়মিত ব্যবসা করতেন না। কখনও পাগল, কখনও পুলিশ, কখনও বাইজি, কখনও বাউল, কাপালিক প্রভৃতি নানা রূপ ধারণ করে তিনি পথে বের হতেন। তাঁর সাজ ও অভিনয় এতটাই নিখুঁত ছিল যে, মানুষ তাঁকে দেখে বিস্মিত হতো এবং বকশিশ দিত।
এই পেশার প্রতি হরিদার মনোভাব ছিল অত্যন্ত শিল্পনিষ্ঠ ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ। বহুরূপী সাজা তাঁর কাছে শুধু অর্থ উপার্জনের উপায় ছিল না, বরং একটি শিল্প। তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করতেন, তার আচরণ ও মানসিকতাকেও নিজের মধ্যে ফুটিয়ে তুলতেন।
তাঁর শিল্পের প্রতি এই নিষ্ঠার শ্রেষ্ঠ প্রমাণ জগদীশবাবুর বাড়ির ঘটনা। বিরাগী সেজে তিনি একশো এক টাকা প্রণামী গ্রহণ করেননি, কারণ অর্থ গ্রহণ করলে তাঁর বিরাগীর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যেত। অর্থাৎ, দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি শিল্পের মর্যাদা ও আত্মসম্মানকে অর্থের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছিলেন।
২. ‘বহুরূপী’ গল্পের নামকরণ কতখানি সার্থক হয়েছে, তা আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূমিকা: সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের নামকরণ গল্পের বিষয়বস্তু, কেন্দ্রীয় চরিত্র ও মূল বক্তব্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ‘বহুরূপী’ বলতে বোঝায় যিনি নানা রূপ ধারণ করেন। গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা এই পেশাকেই নিজের শিল্প হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
চরিত্রকেন্দ্রিকতা: গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে হরিদার বহুরূপী জীবন। তিনি কখনও উন্মাদ পাগল, কখনও পুলিশ, কখনও বাইজি, আবার কখনও অন্যান্য বিচিত্র চরিত্রের বেশ ধারণ করেন। প্রতিটি চরিত্রকে তিনি এমনভাবে ফুটিয়ে তোলেন যে, তাঁর অভিনয় দর্শকদের কাছে বাস্তব বলে মনে হয়। ফলে গল্পের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে ‘বহুরূপী’ নামটি সরাসরি যুক্ত।
ভাবব্যঞ্জনা: ‘বহুরূপী’ শব্দটি শুধু বাহ্যিক ছদ্মবেশের অর্থ বহন করে না; এর মধ্যে শিল্পীসত্তা, অভিনয়নিষ্ঠা ও চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়ার ভাবও রয়েছে। বিরাগীর চরিত্রে অভিনয় করার সময় হরিদা শুধু পোশাক পরিবর্তন করেননি, তিনি বিরাগীর নির্লোভ আচরণও অনুসরণ করেছিলেন। তাই একশো এক টাকা গ্রহণ করেও তিনি নিজের অভিনয়কে কলুষিত করতে চাননি।
উপসংহার: হরিদার বহুরূপ ধারণ, অভিনয়প্রতিভা, শিল্পনিষ্ঠা ও আত্মমর্যাদা—সবকিছু মিলিয়ে ‘বহুরূপী’ নামটি আক্ষরিক ও ব্যঞ্জনাধর্মী উভয় অর্থেই সার্থক। তাই গল্পটির নামকরণ যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
৩. “তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।” — বক্তা কে? কোন প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ বক্তা ও প্রসঙ্গ: উক্তিটির বক্তা হলেন গল্পের প্রধান চরিত্র হরিদা। জগদীশবাবুর বাড়িতে বিরাগীর ছদ্মবেশে গিয়ে হরিদা তাঁর অভিনয় দিয়ে জগদীশবাবুকে মুগ্ধ করেছিলেন। জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চাইলে হরিদা তা গ্রহণ না করে ফিরে আসেন। বন্ধুরা তাঁর এই আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন—“তাতে যে আমার ঢং নষ্ট হয়ে যায়।”
তাৎপর্য:
১. শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা: ‘ঢং’ বলতে এখানে শুধু পোশাক বা বাহ্যিক সাজ নয়, বিরাগী চরিত্রের আচরণ ও অভিনয়ের সম্পূর্ণ রূপ বোঝানো হয়েছে। বিরাগী যদি অর্থের প্রতি লোভ দেখান, তাহলে তাঁর চরিত্রের সঙ্গে সেই আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না।
২. অর্থের ঊর্ধ্বে শিল্প: হরিদা অত্যন্ত দরিদ্র হওয়া সত্ত্বেও একশো এক টাকার প্রলোভনকে প্রত্যাখ্যান করেন। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, তাঁর কাছে শিল্পের মর্যাদা অর্থের চেয়ে বেশি।
৩. আত্মমর্যাদা ও সততা: হরিদা জানতেন তিনি প্রকৃত সন্ন্যাসী নন, তিনি একজন বহুরূপী শিল্পী। কিন্তু যে চরিত্রে অভিনয় করছেন, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে তিনি রাজি নন।
সুতরাং, উক্তিটির মধ্যে হরিদার শিল্পনিষ্ঠা, সততা, আত্মমর্যাদা ও আদর্শবাদী মানসিকতা প্রকাশিত হয়েছে।
৪. “হরিদার জীবনে সত্যিই একটা নাটকীয় বৈচিত্র্য আছে।” — হরিদার জীবনের নাটকীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ হরিদার জীবন সাধারণ মানুষের মতো একঘেয়ে ছিল না। তাঁর পেশাই ছিল বিভিন্ন রূপ ধারণ করা। তাই তাঁর জীবন বিচিত্র চরিত্র, ঘটনা ও অভিনয়ের সমাহারে একটি নাট্যমঞ্চের মতো হয়ে উঠেছিল।
১. নানা রূপ ধারণ: হরিদা কখনও উন্মাদ পাগল, কখনও নকল পুলিশ, কখনও বাইজি, আবার কখনও বাউল বা কাপালিকের রূপ ধারণ করতেন। প্রতিটি রূপেই তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মানিয়ে নিতেন।
২. পাগলের সাজ: একবার তিনি উন্মাদ পাগলের বেশে বাসস্ট্যান্ডের কাছে এমন অভিনয় করেছিলেন যে, সাধারণ মানুষ তাঁকে সত্যিই পাগল বলে মনে করেছিল।
৩. পুলিশের সাজ: আবার একবার নকল পুলিশ সেজে তিনি কয়েকজন স্কুলছেলেকে ধরে ফেলেছিলেন এবং মাস্টারমশায়ের কাছ থেকে আট আনা ঘুষ নিয়েছিলেন।
৪. বাইজির সাজ: বাইজি সেজেও তিনি মানুষের মনোরঞ্জন করেছিলেন এবং আট টাকা দশ আনা বকশিশ পেয়েছিলেন।
৫. বিরাগীর সাজ: সবশেষে তাঁর অভিনয়ের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন দেখা যায় জগদীশবাবুর বাড়িতে। বিরাগী সেজে তিনি এমন নিখুঁত অভিনয় করেন যে জগদীশবাবু তাঁকে সত্যিকারের সাধু বলে মনে করেন। কিন্তু একশো এক টাকা প্রত্যাখ্যান করে হরিদা তাঁর শিল্পীসত্তার অনন্য পরিচয় দেন।
অতএব, নানা রূপ, বিচিত্র ঘটনা এবং অভিনয়ের মধ্য দিয়ে হরিদার জীবন সত্যিই নাটকীয় বৈচিত্র্যে পূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৫. ‘বহুরূপী’ গল্প অবলম্বনে হরিদা চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা। তিনি পেশায় একজন বহুরূপী হলেও তাঁর চরিত্রের মধ্যে শিল্পীসত্তা, আত্মমর্যাদা, স্বাধীনচেতা মনোভাব ও রসবোধের অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছে।
১. শিল্পীসত্তা: হরিদা একজন জাতশিল্পী। বহুরূপী সাজা তাঁর কাছে শুধু জীবিকা নয়, শিল্পসাধনা। তিনি যে চরিত্রে অভিনয় করেন, তার আচরণ ও স্বভাবও নিজের মধ্যে ধারণ করেন।
২. নির্লোভ ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন: তিনি অত্যন্ত দরিদ্র হলেও অর্থলোভী নন। জগদীশবাবুর দেওয়া একশো এক টাকা তিনি গ্রহণ করেননি। কারণ, বিরাগীর সাজে টাকা গ্রহণ করলে তাঁর ‘ঢং’ নষ্ট হয়ে যেত।
৩. স্বাধীনচেতা: হরিদা ধরাবাঁধা ও একঘেয়ে জীবনের প্রতি অনাগ্রহী। তাই সাধারণ চাকরিজীবনের বদলে তিনি স্বাধীনভাবে নিজের শিল্পকে আঁকড়ে ধরেছিলেন।
৪. রসবোধসম্পন্ন: দারিদ্র্যের মধ্যেও তাঁর রসবোধ ও প্রাণচাঞ্চল্য অটুট ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও গল্পের মাধ্যমে তাঁর এই স্বভাব প্রকাশ পেয়েছে।
৫. শিল্পের প্রতি সততা: তাঁর চরিত্রের সর্বোচ্চ গুণ হলো শিল্পের প্রতি আপসহীন সততা। অর্থনৈতিক কষ্ট তাঁকে তাঁর শিল্পের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
সুতরাং, হরিদা একজন দরিদ্র কিন্তু আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, স্বাধীনচেতা, নির্লোভ ও প্রকৃত শিল্পী। তাঁর চরিত্র গল্পটিকে বিশেষ মহিমা দিয়েছে।
৬. “সেটা আমার বহুরূপী জীবনের সবচেয়ে বড়ো বকশিশ।” — বক্তা কে? কোনটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়ো বকশিশ এবং কেন?
উত্তরঃ বক্তা: উক্তিটির বক্তা হলেন ‘বহুরূপী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র হরিদা।
সবচেয়ে বড়ো বকশিশ: হরিদার জীবনের সবচেয়ে বড়ো বকশিশ ছিল বিরাগীরূপে জগদীশবাবুর কাছ থেকে পাওয়া ভক্তি, শ্রদ্ধা ও স্বীকৃতি। জগদীশবাবু তাঁকে সত্যিকারের বিরাগী মনে করে গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছিলেন।
কেন এটি বড়ো বকশিশ:
১. শিল্পের সার্থকতা: একজন শিল্পীর কাছে তার অভিনয়কে দর্শক সত্য বলে গ্রহণ করাই বড়ো স্বীকৃতি। হরিদার বিরাগীর অভিনয় এতটাই নিখুঁত হয়েছিল যে জগদীশবাবু তাঁকে সত্যিকারের সাধু বলে মনে করেছিলেন।
২. অর্থের চেয়ে সম্মান: জগদীশবাবু তাঁকে একশো এক টাকা দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হরিদা সেই অর্থ গ্রহণ করেননি। তাঁর কাছে অর্থের চেয়ে শিল্পের সম্মান ও মানুষের শ্রদ্ধা বেশি মূল্যবান ছিল।
৩. আত্মতৃপ্তি: নিজের অভিনয়কে সফলভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারার মধ্যেই হরিদা গভীর আত্মতৃপ্তি পেয়েছিলেন।
তাই জাগতিক অর্থের পরিবর্তে মানুষের শ্রদ্ধা ও নিজের শিল্পের সার্থকতাকেই হরিদা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড়ো বকশিশ বলে মনে করেছেন।
৭. জগদীশবাবুর বাড়িতে হরিদার বিরাগী সেজে যাওয়ার ঘটনাটি নিজের ভাষায় বর্ণনা করো। এই ঘটনা থেকে হরিদার চরিত্রের কোন দিকটি ফুটে ওঠে?
উত্তরঃ জগদীশবাবুর বাড়িতে এক উচ্চমর্যাদার সন্ন্যাসীর আগমন ও তাঁর প্রতি জগদীশবাবুর ভক্তির কথা শুনে হরিদা একটি ‘জবর খেলা’ দেখানোর পরিকল্পনা করেন। এক সন্ধ্যায় তিনি বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে উপস্থিত হন। তাঁর সাদা উত্তরীয়, থান, ঝোলা, শান্ত ভাবভঙ্গি ও কথাবার্তা দেখে জগদীশবাবু তাঁকে সত্যিকারের বিরাগী বলে মনে করেন।
জগদীশবাবু তাঁকে বাড়িতে থাকার জন্য অনুরোধ করেন এবং তীর্থভ্রমণের উদ্দেশ্যে একশো এক টাকা প্রণামী দিতে চান। কিন্তু হরিদা বিরাগীর চরিত্র বজায় রেখে সেই অর্থ গ্রহণ করেননি। অর্থের প্রতি অনাসক্তির কথা বলে তিনি জগদীশবাবুকে আধ্যাত্মিকতার কথাও শোনান।
এই ঘটনা থেকে হরিদার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ প্রকাশ পায়—
১. অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা: তিনি এত নিখুঁতভাবে বিরাগীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যে জগদীশবাবু তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে পারেননি।
২. শিল্পের প্রতি সততা: তিনি চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আচরণ করেছেন।
৩. আত্মমর্যাদা ও নির্লোভতা: চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও একশো এক টাকা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অতএব, এই ঘটনা হরিদার শিল্পীসত্তা, অভিনয়প্রতিভা, আত্মমর্যাদা ও নির্লোভ চরিত্রের শ্রেষ্ঠ পরিচয় বহন করে।
৮. “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়?” — উক্তিটির আলোকে বিরাগী ও জগদীশবাবুর মানসিকতার পার্থক্য তুলে ধরো।
উত্তরঃ “আপনি কি ভগবানের চেয়েও বড়?”—বিরাগীরূপী হরিদার এই প্রশ্নের মাধ্যমে জগদীশবাবুর জাগতিক মানসিকতা এবং বিরাগীর ত্যাগের আদর্শের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
জগদীশবাবুর মানসিকতা: জগদীশবাবু ধনী ও ধর্মপ্রাণ মানুষ। কিন্তু তাঁর ধর্মভাবনার মধ্যে ধন, প্রতিপত্তি ও জাগতিক আকাঙ্ক্ষার প্রভাব ছিল। তিনি অর্থ ও আতিথ্যের মাধ্যমে বিরাগীকে নিজের বাড়িতে রাখতে চেয়েছিলেন। তাঁর কাছে অর্থের সাহায্যে সাধুকে সন্তুষ্ট করার প্রবণতা ছিল।
বিরাগীর মানসিকতা: বিরাগীরূপী হরিদা নিজেকে নির্লোভ ও সংসারবিমুখ সাধু হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাঁর কাছে ধনসম্পদ ক্ষণস্থায়ী। তাই তিনি জগদীশবাবুর অর্থের প্রলোভনে আকৃষ্ট হননি।
মূল পার্থক্য: জগদীশবাবুর মানসিকতা মূলত জাগতিক ও অর্থনির্ভর, আর বিরাগীর মানসিকতা ত্যাগ, অনাসক্তি ও আধ্যাত্মিকতার প্রতীক।
এই প্রশ্নের মাধ্যমে হরিদা আসলে জগদীশবাবুকে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, মানুষের অর্থ বা প্রতিপত্তি ঈশ্বরের চেয়ে বড় হতে পারে না।
৯. ‘বহুরূপী’ গল্পে একদিকে হরিদার দারিদ্র্য এবং অন্যদিকে তার শিল্পীসত্তার যে দ্বন্দ্ব ও সমন্বয় দেখানো হয়েছে, তা আলোচনা করো।
উত্তরঃ সুবোধ ঘোষের ‘বহুরূপী’ গল্পে হরিদার চরিত্রের মধ্যে দারিদ্র্য ও শিল্পীসত্তার এক গভীর দ্বন্দ্ব এবং সমন্বয় দেখা যায়।
দারিদ্র্য: হরিদা অত্যন্ত দরিদ্র। তাঁর বহুরূপী পেশা থেকে উপার্জন ছিল অনিয়মিত ও সামান্য। অনেক সময় তাঁর ভাতের হাঁড়িতে শুধু জল ফুটত। ফলে অর্থনৈতিক দিক থেকে তাঁর জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টকর।
শিল্পীসত্তা: কিন্তু এই দারিদ্র্য তাঁর শিল্পীসত্তাকে পরাজিত করতে পারেনি। বহুরূপী সাজা তাঁর কাছে শুধু অর্থ উপার্জনের উপায় ছিল না; এটি ছিল তাঁর শিল্প ও আত্মপরিচয়।
দ্বন্দ্ব: দারিদ্র্য তাঁকে অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে শিল্পীসত্তা তাঁকে নিজের আদর্শ ও চরিত্রের প্রতি সৎ থাকতে বাধ্য করে।
সমন্বয়: সাধারণ পরিস্থিতিতে তিনি বিভিন্ন রূপ ধারণ করে বকশিশ গ্রহণ করেন এবং জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বিরাগীর চরিত্রে অভিনয় করার সময় অর্থের লোভ তাঁর শিল্পের আদর্শকে পরাজিত করতে পারেনি। একশো এক টাকা প্রত্যাখ্যান করে তিনি প্রমাণ করেন যে তাঁর আত্মমর্যাদা অর্থের চেয়ে বড়।
সুতরাং, দারিদ্র্য হরিদার শরীরকে কষ্ট দিয়েছে, কিন্তু তাঁর শিল্পীসত্তা ও আত্মমর্যাদাকে পরাজিত করতে পারেনি। এই দ্বন্দ্ব ও সমন্বয়ই হরিদা চরিত্রকে মহৎ করে তুলেছে।
১০. “গল্পটা শুনতে বেশ ভালো লাগছিল।” — কোন গল্পের কথা বলা হয়েছে? গল্পটি শুনে বক্তা ও তাঁর বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল?
উত্তরঃ এখানে মূলত জগদীশবাবুর বাড়িতে আগত উচ্চমর্যাদার বিরাগী/সন্ন্যাসীকে কেন্দ্র করে যে ঘটনার কথা হরিদা ও কথক-বন্ধুরা আলোচনা করছিলেন, সেই প্রসঙ্গের গল্পের কথা বলা হয়েছে। ওই সন্ন্যাসীর প্রতি জগদীশবাবুর শ্রদ্ধা ও আতিথেয়তার বিবরণ থেকেই হরিদার মনে ‘জবর খেলা’ দেখানোর ইচ্ছা জাগে।
গল্পটি শুনে কথক ও তাঁর বন্ধুরা বেশ আগ্রহী ও উৎসুক হয়েছিল। কিন্তু পরে হরিদা সেই ঘটনার সুযোগ নিয়ে বিরাগীর বেশে জগদীশবাবুর বাড়িতে গিয়েছেন এবং একশো এক টাকা গ্রহণ না করে ফিরে এসেছেন—এই ঘটনা জানতে পেরে তাদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশা দেখা দেয়।
বিশেষত অনাদি হরিদার এই সিদ্ধান্তকে বাস্তব জীবনের দৃষ্টিতে ভুল বলে মনে করে মন্তব্য করে যে, “অদৃষ্ট কখনও হরিদার এই ভুল ক্ষমা করবে না।” কারণ তাদের চোখে একজন দরিদ্র মানুষের পক্ষে এত টাকা প্রত্যাখ্যান করা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
কিন্তু এই ঘটনাই আসলে হরিদার শিল্পীসত্তা ও বন্ধুদের বাস্তববাদী মানসিকতার পার্থক্য স্পষ্ট করে। বন্ধুরা যেখানে অর্থের মূল্য দেখেছে, হরিদা সেখানে শিল্পের মর্যাদা ও আত্মসম্মানকে বড়ো করে দেখেছেন।
Madhyamik All Subject Suggestion | মাধ্যমিক সাজেশন
- Madhyamik Bengali Suggestion Click here
- Madhyamik English Suggestion Click here
- Madhyamik History Suggestion Click here
- Madhyamik Geography Suggestion Click here
- Madhyamik Life Science Suggestion Click here
- Madhyamik Mathematics Suggestion Click here
- Madhyamik Physical Science Suggestion Click here
- Madhyamik Suggestion Click here
PDF: বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer PDF Download
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer PDF Download: বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা প্রশ্ন ও উত্তর সহ একটি PDF File শিক্ষার্থীদের revision-এর সুবিধার জন্য দেওয়া হলো।
PDF Download: বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণীর বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer PDF Click Here
| আমাদের YouTube Channel টি সাবস্ক্রাইব করুন Click Here To Subscribe Now |
West Bengal Class 10 Bengali Board Exam Details
West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) conducts the Madhyamik Examination for Class 10 students across West Bengal. Bengali is one of the important subjects in the Madhyamik Board Exam, and students need to prepare each chapter carefully according to the prescribed syllabus. Here you will find useful Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer, study materials, important questions and other resources to help students prepare effectively for the Class 10 Bengali Board Exam.
Madhyamik Bengali Bohurupi Syllabus PDF
Madhyamik Bengali Bohurupi ‘বহুরূপী’ (গল্প) – সুবোধ ঘোষ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য ভালোভাবে জানা প্রয়োজন। এই অধ্যায় থেকে বিভিন্ন ধরনের MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর এবং বর্ণনামূলক প্রশ্ন পরীক্ষায় আসতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের উচিত সিলেবাস অনুযায়ী অধ্যায়টি মন দিয়ে পড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি বারবার অনুশীলন করা।
Madhyamik Bengali Syllabus PDF: Click Here
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer
Madhyamik Bengali Bohurupi বহুরূপী (গল্প) – সুবোধ ঘোষ থেকে মাধ্যমিক দশম শ্রেণির বাংলা পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তরগুলি উপরে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে অধ্যায়ের বিভিন্ন অংশ থেকে নির্বাচিত MCQ, SAQ, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর, বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর এবং Notes সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় শিক্ষার্থীরা এগুলি ভালোভাবে পড়তে এবং নিয়মিত অনুশীলন করতে পারে।
West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Bohurupi Suggestion Question and Answer
West Bengal WBBSE Madhyamik Bengali Bohurupi Suggestion Question and Answer খুঁজছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য এই পোস্টে ‘বহুরূপী’ গল্প – সুবোধ ঘোষ অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর একসঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার আগে দ্রুত Revision করার পাশাপাশি অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি বুঝে নেওয়ার ক্ষেত্রেও এই প্রশ্নোত্তরগু,লি সহায়ক হবে।
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ – দশম শ্রেণির বাংলা | Madhyamik Bengali Bohurupi Question and Answer
আশা করি, ‘Madhyamik Bengali Bohurupi’ ‘বহুরূপী (গল্প) – সুবোধ ঘোষ’-এর এই প্রশ্নোত্তরগুলি তোমাদের মাধ্যমিক বাংলা পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কাজে আসবে। পোস্টটি উপকারী মনে হলে সহপাঠীদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারো। West Bengal Board-এর সিলেবাস অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের Notes, Question Answer, Suggestion ও শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু, পাশাপাশি বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় Study Material পেতে নিয়মিত ভিজিট করো Porasuna.in। ধন্যবাদ।





















